খুঁজুন
শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসীর শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে-সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসীর শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে-সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসীর শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মানুষের অসহায় মুহুর্তে একজন ডাক্তারই পারেন মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে। একজন রোগীকে নিরাময় করে পরিবার পরিজনকে স্বস্তি দেয়া- এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। এটা অনেক বড় মানবতার কাজ।

আজ অপরাহ্নে চসিক নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে চসিক স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রশাসক একথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের উন্নত চট্টগ্রামের স্বপ্নদ্রষ্টা সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী নগরীতে শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে ভতুর্কি দিয়ে চসিকের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছিলেন। এতে মানুষ আশাজাগানিয়া সুফল ভোগ করেছে। কিন্তু কালস্রোতে তা ধ্বংসের দিকে বিবর্তিত হয়েছে। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমার যতটুকু আছে তা উজাড় করে চসিক স্বাস্থ্যসেবার সুনাম ফিরিয়ে আনবো।

তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সংশ্লিস্ট সকলকে আন্তরিকতার সাথে নাগরিক সেবা নিশ্চিতের পরামর্শ দেন। এসময় প্রশাসক কাজে গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়ে বলেন, চসিক একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করার এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। তাই ভর্তুকি দিয়ে হলেও নগরবাসীর সেবা অব্যহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র টাকার জন্য যারা এ চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন তারা অমানুষ বলে গণ্য হবেন। ডাক্তারদের উপলব্দি করা উচিত যে মানুষ পথ সৃষ্টি করে পথ কিন্তু মানুষ সৃষ্টি করতে পারেনা।

তিনি বন্ধরটিলা হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রুপান্তের জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা করা হবে।

তিনি ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে বলেন এই শহরের মানুষকে আপনাদের কাছে আসতে আগ্রহী করে তুলুন। তারা যেন সেবা পায় সেটাই আপনাদের কাছে আমার কাম্য। আপনাদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে মমতা ও স্নেহ এবং সুন্দর ব্যবহার দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রাসাশকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার সেলিম আকতার চৌধুরী,স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, ইনচার্জ ডা. নাসিম ভুঁইয়া, ডা. আশিষ মুখার্জি, ডা.ইশরাত জাহান, ডা. তৌহিদুল আনোয়ার খান, জোনাল মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা, ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী, ডা. হাসান মুরাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

চসিক প্রশাসক সকাশে শ্যামল কুমার নাথ
চট্টগ্রামের সড়ক যানজট মুক্ত রাখার আহবান চসিক প্রশাসকের

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপররূপ লীলাভুমি এই চট্টগ্রাম। পাহাড়,সমুদ্র ও সবুজ এই নগরকে করছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষনীয় স্থান। কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও সড়ক সমূহের করুন দশায় এই অর্জন ম্লান হতে চলেছে। এথেকে উত্তোরনে চাই সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতা।

আজ সকালে টাইগারপাস্থ চসিক নগরভবনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে আসলে প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি ট্রাফিক পুলিশকে আরো আন্তরিকতার সাথে চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটে যানজট মুক্ত রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ তাঁদের নিজকর্মগুনে আপামর জনসাধারনের মনে জায়গা করে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কে আইনশৃংখলা বজিয়ে রেখেছে। সেই সাথে সুনাম কুড়িয়েছে মানবিক পুলিশের খ্যাতিতে। আমরা লক্ষ্য করেছি বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতা ও আন্তরিকতায় দেশের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বে অদ্বিতীয়।

এসময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক(পশ্চিম) জয়নাল আবেদীন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার(পশ্চিম) সুত্র ধর, উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক(উত্তর) মিলন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তাঁরা নগরীতে ট্রাফিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, নগরীতে ট্রাফিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত বর্ষনের কারনে সড়কে খানা-খন্দকের সৃস্টি হয়েছে তা মেরামত, বাস টার্মিনাল না থাকার কারনে যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং এর দরুন যে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এ থেকে পরিত্রানের জন্য বাস টার্মিনাল স্থাপনের জন্য প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানান।

এছাড়াও জব্দকৃত অবৈধ গাড়ী সমূহ ডাম্পিং করার জন্য ডাম্পিং স্টেশন তৈরীসহ পোর্ট এক্সেস রোড(টোল রোড)-এ দূর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত সড়ক বাতি লাগানো ও আগ্রাবাদস্থ সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটের সামনে রোড ডিভাইডার স্থাপনের অনুরোধ জানালে প্রশাসক অতি সহসায় এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্থ করেন।

চসিক প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে
ইসলামিক আরবিক ইউনিভার্সিটির ভিসি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বেসরকারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটিই দেশের সর্বোচ্চ ইসলামী বিদ্যাপীঠ। বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশী-বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকের সমন্বয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ব্যবসা প্রশাসন, সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিক ও কলা অনুষদীয় বিষয়ের পাশাপাশি দেশে শুধুমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতেই ধর্মতত্ব ও ইসলামী আইনের উপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া সারা বাংলাদেশে দাখিল,ফাজিল,স্নাতক,অনার্স-মাষ্টার্স সহ যুযোপযুগি সব শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে চালু রেখেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

আজ সকালে চসিক নগরভবনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে ইসলামিক আরবিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.আহসান উল্লাহ সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় উভয়ে বাংলাদেশের মাদ্রসাগুলোতে উন্নত পাঠদান ও উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করন,শিক্ষকদের মানউন্নয়ন,ডিজিটাল পাঠদান পদ্ধতি চালুকরণ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেন।

ভিসি প্রফেসর ড.আহসান উল্লাহ বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যায়ে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় একাডেমিক উন্নতি ও ভৌত অবকাঠামো উন্নতি করনের লক্ষ্যে প্রশাসন প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।’

চসিকের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত
অবৈধ পার্কিং দায়ে জরিমানা আদায়

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌস এর নেতৃত্বে আজ সকালে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে নগরীর পোর্ট কানেকটিং রোডের সাগরিকা মোড় থেকে নয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার উপর অবৈধ ভাবে গাড়ী পার্কিং করে রাস্তার চলমান উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টির দায়ে ০৭ টি কভারভ্যান/ট্রাককে পনের হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উক্ত সড়কে এই অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে।

অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়কে সহায়তা প্রদান করেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

মাটি ও পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মাটি ও পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

মাটির গুণগত মান বজায় এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। যে এলাকায় যে ধরনের মাটি ও পরিবেশ রয়েছে, সে অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করে লাগাতে হবে। এতে গাছের বেঁচে থাকার হার বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঋতুচক্রেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন। আগে জুন মাস এলেই নিয়মিত বৃষ্টিপাত হতো, কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে বনাঞ্চল ও গাছপালা কমে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। এই বৃক্ষরোপণ কীভাবে হবে তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জন্য সরকার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৪ জুন কক্সবাজারের দুলহাজরায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেলের সদস্য জামাইল বশীর জেবি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিশোধ এবং ইতিহাস গড়ারও লড়াই। বাংলাদেশের সামনে বিরল কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর এবারও শিরোপা জিতলে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন হবেন লাল-সবুজের মেয়েরা। স্বাগতিক ভারতের লক্ষ্য হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

ফাইনালে ওঠার পথে দুদলের যাত্রা ছিল ভিন্ন। গ্রুপপর্বে ভারত বাংলাদেশের অপরাজেয় পথচলায় ধাক্কা দেয় ৩-০ গোলের জয়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ছন্নছাড়া দেখালেও সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পিটার বাটলারের দল। অন্যদিকে ভারত ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। কোচ পিটার বাটলার শুরু থেকেই বলে আসছেন, ভারতের বিপক্ষে তার দল ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামবে। গ্রুপপর্বের পরাজয়কে তিনি দেখছেন শিক্ষার অংশ হিসাবে। তার বিশ্বাস, ভারতের আক্রমণাত্মক ফুটবল বাংলাদেশের জন্য পালটা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেই কৌশল রপ্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। বাংলাদেশের ফুটবলাররাও জানেন, ফাইনাল একেবারেই আলাদা ম্যাচ। গ্রুপপর্বের ফল এখানে কোনো মূল্য বহন করে না। বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য আগেও দেখিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতও সতর্ক। কোচ ক্রিসপিন চেত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, ফাইনালে দুদলের সম্ভাবনাই সমান। ভুটানের বিপক্ষে জয় পেলেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। ভারতেরও লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দুদলের তারকা ফুটবলাররা। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। ভারতের আশা থাকবে সানফিদা নংরুম, মালাভিকা এবং গোলরক্ষক পন্থোই চানুকে নিয়ে।

একদিকে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের আকাক্সক্ষা। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে গোয়ার ফাইনাল আজ রূপ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণে। অপেক্ষা শেষ বাঁশির। কার হাতে উঠবে সাফের সোনালি ট্রফি। কার মাথায় শোভা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি।

শনিবার (৬ জুন) সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা প্রদান করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ভারত কর্তৃক ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিহত করে।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হলে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও ৪ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে উক্ত ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে এবং বিজিবি সেখানে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করায়। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। বিজিবি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এছাড়া নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্বে জড়ো করে রাখা ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিজিবি উক্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করছে যে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।