ক্যারাভান দখলবাজ এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্প্রসারনে বাঁধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এক কঠিনবার্তা:সুজন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, ক্যারাভান দখলবাজ এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্প্রসারনে বাঁধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এক কঠিনবার্তা। অবৈধ দখলদার যতই ক্ষমতাবান কিংবা প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকে তিল পরিমান ছাড় দেয়া হবে না। তাদের সকল অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে।
তিনি আজ অপরাহ্নে নগরীর ২নং গেইট থেকে বায়েজিদ হয়ে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত নগরসেবায় ক্যারাভান কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন স্থানে তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে একথা বলেন।
এছাড়া যাত্রাপথে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে সাথে সাথে সমাধান করার নির্দেশনা প্রদান করেন। ২নং গেইট থেকে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত অবৈধ মাদক বেচা-কেনার আস্তানাগুলোতে সাড়াশী অভিযান চালানোর জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। এই সব মাদকের আস্তানাগুলো সন্ত্রাস ও অনাচারের উৎপত্তি স্থল।
তিনি অক্সিজেন মোড়ে যানজট ও জলাবদ্ধতাজনিত বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে বলেন, এই সমস্যা অনেক পুরানো। এগুলোর সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এজন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যাতে যুগোপযোগী করা যায় সেই লক্ষ্যে আমাদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র আন্তরিকতায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে যেগুলো দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে, উক্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী জলজট থেকে মুক্তি পাবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
জলাবদ্ধতা নিরসনে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, পানি নিস্কাশন পথগুলো যারা বন্ধ করে রেখেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। ফুটপাতের উপর নির্মাণ সামগ্রী থাকলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফুটপাত জনগনের হাটা চলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা বরদাশত করা হবে না।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় তরঙ্গের আভাষ স্মরণ করিয়ে দিলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। বাইরে মাস্ক ছাড়া কোনভাবেই চলাফেরা করা যাবে না। মনে রাখতে হবে করোনাকালের ইতি ঘটেনি। যতদিন ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হবে না ততদিন আমরা বলতে পারিনা এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়েছি। প্রশাসক চলতি পথে জমে থাকা পানি, ময়লা আবর্জনা ও ভাঙ্গাচোড়া রাস্তা তাৎক্ষণিক সংস্কারের ব্যবস্থা করেন।
এসময় তিনি স্থানীয় জনসাধারনের সাথে মতবিনিময় করে বলেন, যেহেতু এখন রাস্তা সংস্কারের কাজ চলমান সেহেতু আপনারা ধৈর্য্য ধারন করুন। যেখানে অনিয়ম কিংবা দূর্ণীতি দেখবেন আমাকে অবগত করুন।
তিনি অবৈধ গাড়ী পার্কিং দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রাস্তায় কোন অলস গাড়ী পার্কিং থাকবে না বলে ছাফ জানিয়ে দেন। তিনি এলাকাবাসীকেও ক্যারাভানে শরীক হওয়ার আহবান জানান এবং সকল প্রকার অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
ক্যারাভান চলাকালীন চসিক প্রশাসকের আহবানে সাড়া দিয়ে যারা স্বউদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলেছেন তাদেরকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
এছাড়া কর্মসূচীতে উপস্থিত র্যাব, পুলিশ, সংবাদকর্মী, চসিক’র প্রকৌশল, বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্নসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এসময় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেমসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসকের সাথে প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয় সভা
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, প্রকৌশলীরা হলেন উন্নয়নের চালিকা শক্তি। তিনি প্রকৌশলীদের স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সহিত দ্রুত গতিতে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন।
আজ দুপুরে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে প্রকৌশলীদের সাথে সমন্বয় বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
তিনি আরো বলেন, পোর্ট কানেক্টিং রোডের কাজ আগামী ৫অক্টোবরের মধ্যে সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।তিনি ষ্ট্রেন্ড রোডের কাজ দ্রুত গতিতে করার নির্দেশ দেন। প্রশাসক বলেন কাজ করতে গিয়ে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি আহত হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসময় প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম,অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সালেহ, মনিরুল হুদা,কামরুল ইসলাম, সুদিপ বসাক,নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, ফরহাদুল আলম,বিপ্লব দাশ,অসীম বড়ুয়া, মীর্জা ফজলুল কাদেরসহ অন্যান্য প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন টিজিতে নিয়মিত গাড়ি সরবরাহের বিষয়ে কোনো অজুহাত গ্রহনযোগ্য হবেনা। প্রশাসক নালা নর্দমা ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ স্থায়ী স্থাপনা এবং বিনা অনুমতিতে সেøব নির্মাণকারীদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন সিটি গেইট হলো চট্টগ্রামের প্রবেশ দ্বার। এই গেইটের সৌন্দর্য রক্ষার্থে দ্রুত রং কাজ ও লাইটিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কালার লাইটিং এর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

“অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার লালদিঘি ময়দানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত ২৪ জন নেতাকর্মীসহ নাম না জানা গণতন্ত্রকামী বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ” শিরোনামে চট্টগ্রাম আদালত সড়কের স্মৃতি ২৪ চত্বর একটি ক্যাপশন ছবি গতকাল দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার শরীফ চৌধুরী তুলে ধরেন।
বিষটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের দৃষ্টি আকর্ষন হলে। তিনি তাৎক্ষণিক চসিক পরিচ্ছন্ন বিভাগকে এটি পরিস্কার পরিচ্ছন্নর জন্য নির্দেশনা দেন। যা আজকেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে দৃষ্টি নন্দন করে তোলা হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রশাসক পূর্বকোণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদ মাধ্যম জনগণের কথা বলে। নগরীর আনাচে-কানাচে যে কোন অসঙ্গতি যেমন তুলে ধরবেন তেমনিভাবে ভাল কাজের দৃষ্টান্ত তুলে ধরাও সংবাদ মাধ্যমের কাজ। এসব কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তাই আপনারা উপস্থাপন করুন আমি নগর সেবক হিসেবে সেবা করার চেষ্টা করবো।
২৪ ঘণ্টা/মোরশেদ


আপনার মতামত লিখুন