খুঁজুন
শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে বন্দর, কাস্টমসসহ কর্পোরেট শিল্পগ্রুপের প্রতি সুজনের উদাত্ত আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২০, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে বন্দর, কাস্টমসসহ কর্পোরেট শিল্পগ্রুপের প্রতি সুজনের উদাত্ত আহবান

করোনা মহামারীতে মানবিক চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর পাশে দাড়াতে বন্দর, কাস্টমসসহ কর্পোরেট শিল্পগ্রুপের নিকট উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১ ঘটিকায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে নাগরিক উদ্যোগ আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন চট্টগ্রামের ভৌগলিক অবস্থানগত সুযোগ সুবিধার উপর গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দর। বাংলাদেশ সম্পদের সমৃদ্ধির উচ্চশিখরে আরোহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের হাত ধরেই। এই বন্দরের আয় দিয়েই দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। বন্দরের উন্নতি মানেই পুরো দেশের উন্নতি। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে গর্ববোধ করে চট্টগ্রামের আপামর মানুষ।

তিনি বলেন,এছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টমসও দেশের উন্নতির পিছনে অর্থনৈতিক যোগান দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের সিংহভাগ আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম কাস্টমসেই। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপশি কাস্টম হাউসও দেশের অর্থনীতিতে প্রতিনিয়ত অর্থের যোগান দিয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ভৌগলিক অবস্থানের কারণে আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি অধিগ্রহণ করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ছোট বড় শিল্প মিল কারখানা। যারা চট্টগ্রামে তাদের শিল্প প্রতিষ্টানসমূহ পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। চট্টগ্রামের আয় দিয়ে তারা দেশের অন্যান্য জেলায়ও তাদের ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেছে। এমনকি দেশের বাহিরেও অনেক শিল্প প্রতিষ্টানের ব্যবসা বাণিজ্য বিস্তৃত। তাদের এ উন্নতি মানেই চট্টগ্রামবাসীর উন্নতি এ কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতাম আমরা।

সুজন বলেন,বর্তমান করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় তাদের নির্লিপ্ততা আমাদেরকে দারুনভাবে হতাশ করেছে। একসময় যে চট্টগ্রামবাসী গর্ব করতো চট্টগ্রামের বড়ো বড়ো কর্পোরেট হাউসগুলো চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পসহ সামগ্রিক উন্নয়নে এগিয়ে আসবে সেই চট্টগ্রামবাসীই এখন ঐসব শিল্পগ্রুপের অমানবিক নিস্পৃহতায় ক্ষোভে পুড়ছে। কিন্তু চাইলেই এসব শিল্প প্রতিষ্টানের জন্য চট্টগ্রামবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা কোন কঠিন বিষয় না। যারা একসময় সামান্য পারিবারিক অনুষ্টানে নিমিষেই খরচ করতো কোটি কোটি টাকা। তাদের বাহারি বিলাসিতায় হতবিহ্বল হয়ে পড়তো চট্টগ্রামের মানুষ। আজ চট্টগ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থার মুমূর্ষু এ অবস্থায় তারা নিশ্চুপ। তাদের নির্লিপ্ততা চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করছে। এছাড়া আমরা প্রায়শই দেখি যে পবিত্র রমজান, পূজা কিংবা অন্য কোন উপলক্ষ্য আসলেই যারা সিন্ডিকেটভ‚ক্ত হয়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে জনগনের পকেট কাটতো আজ তারা নেই। তারা কি এখন সিন্ডিকেটভূক্ত হয়ে চট্টগ্রামবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন না? তাদের কি কোন নৈতিকতা নেই? তাছাড়া চট্টগ্রাম চেম্বারের নিশ্চুপতাও আমাদেরকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। যারা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি হয়ে যখন দুইশত টাকা হয় তখন তারা নিশ্চুপ থাকে আবার পেঁয়াজের দাম যখন কমে পঞ্চাশ টাকা হয় তখন তারা ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে উঠেপড়ে লাগে। এভাবে তারা প্রতিনিয়তই নগরবাসীর সাথে ছলনার আশ্রয় নেয়। তারা চাইলেই চট্টগ্রামের শিল্পগ্রুপগুলোকে একীভূত করে মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারে কিন্তু তাদের রহস্যজনক নির্লিপ্ততা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুলছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রামবাসীর মনে প্রশ্ন চট্টগ্রামের ভৌগলিক অবস্থা ব্যবসা বাণিজ্যের উজ্জ্বল পরিবেশকে ব্যবহার করে তারা বছরের পর বছর নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করলেও চট্টগ্রামবাসীর জন্য তাদের কোন মায়া মমতা নেই। চট্টগ্রামবাসীর জন্য কোন সময়ই তাদের প্রাণ কাঁদে না। তারা চট্টগ্রাম থেকে টাকা আয় করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শান্তির সেকেন্ড হোম বানিয়েছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে করোনা তাদেরকে সে সব সেকেন্ড হোমে যাওয়ার পথও রুদ্ধ করে দিয়েছে। করোনা আমাদেরকে উপলব্দি করার সুযোগ দিয়েছে আগে মাতৃভূমিকে ভালোবাসুন, মানবিক হোন।

সুজন চট্টগ্রামের সকল শিল্পগ্রুপকে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রামবাসীকে এ মহামারী থেকে বাঁচানোর প্রয়াস গ্রহণ করার উদাত্ত আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই আপনাদেরকে ব্যবসা বাণিজ্যের সুন্দর পরিবেশ উপহার দিয়েছেন, সহযোগীতা দিয়েছেন তাই আপনাদেরও উচিত এ মূহুর্তে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাড়ানো।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত সকল ক্যাটাগরীর শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের আশেপাশের অধিবাসীর জন্য বন্দর হাসপাতালে বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা চালু করা, বন্দর হাসপাতালে অতিসত্বর করোনা ইউনিট চালু এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসন এর সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিজাম উদ্দিন, শফিউল আজম বাহার, নূরল কবির, মোরশেদ আলম, মোঃ শাহজাহান, মোঃ বাবলু, সিরাজদ্দৌল্লা নিপু, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ নাছির উদ্দিন, রকিবুল আলম সাজ্জী, রাজীব হাসান রাজন, ইরফানুল আলম জিকু, শফিকুল আলম পারভেজ, কপিল কর, মোঃ আলী মিঠু, সাইফুল্লাহ সাইফ, সাজ্জাদ হোসেন, ফরহানুল হক রাকিব, উৎপল দত্ত, সালাউদ্দিন জিকু, জয়জিৎ চৌধুরী জয়, গিয়াস উদ্দিন, হাসান মুরাদ, রফিকুল ইসলাম, শহীদ হোসেন, ইমাম হোসেন সাগর, সাইফুল ইসলাম, মোঃ হৃদয়, মোঃ মাসুদ, অংকন শীল, মোঃ আরিফ, মোঃ নাঈম, মোঃ জুয়েল প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।

১৩তম জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরইমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় প্রথম অধিবেশনে একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা সভাপতিত্ব করবেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

তাদের নির্বাচনের পর শপথগ্রহণের জন্য অধিবেশন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে।

এরপর নবনির্বাচিত স্পিকার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

প্রথম বৈঠকেই নতুন সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন নতুন স্পিকার।

এই কমিটিই উদ্বোধনী অধিবেশনের মেয়াদ এবং সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি নির্ধারণ করবেন।

এ অধিবেশনেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে।

প্রথম বৈঠকে সংসদে শোক প্রস্তাবও গৃহীত হবে।

বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।

সব আন্দোলনে প্রেরণার উৎস নজরুল: চট্টগ্রামের ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সব আন্দোলনে প্রেরণার উৎস নজরুল: চট্টগ্রামের ডিসি

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে তাদের সামনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা তুলে ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, কবি নজরুলকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

আজ বুধবার ( ১১ শে মার্চ) নগরীর ডিসি হিলে জাতীয় কবির নামে নির্মিত “নজরুল স্কয়ার” সংস্কার শেষে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম জানুক—কার গান গেয়ে তারা উদ্দীপ্ত হয়, কার লেখনী তাদের আন্দোলিত করে এবং কার চেতনা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শক্তি দেয়। সেই লক্ষ্যেই নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমাজে কোনো অন্যায় বা অবিচার দেখা দিলে তরুণ প্রজন্ম আবারও নজরুলের চেতনাকে সামনে রেখেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অসামান্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও
তাঁর চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে তিনি যে প্রতিবাদের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন, প্রায় এক শতাব্দী পরও সেই চেতনা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ১৯২৫ সালে রচিত ‘নারী’ কবিতাও আজকের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আবার রমজান মাস এলেই যে গান গেয়ে মানুষ ঈদের আনন্দ উদ্‌যাপন করে—“…. রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”—সেটিও জাতীয় কবির সৃষ্টি।

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও গণজাগরণের কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের নানা অর্জনের পেছনেও তাঁর চিন্তা ও চেতনার গভীর প্রভাব রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, ডিসি হিলের এই এলাকাটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে ২০০৫ সালে “নজরুল স্কয়ার” স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে আশপাশের সড়কের উচ্চতা বাড়ার ফলে স্কয়ারের মনুমেন্টটি তুলনামূলক নিচু হয়ে পড়ে এবং স্থানটি ধীরে ধীরে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় চলে যায়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ ও পুরনো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিন থেকে শুরু হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের যাত্রা। সরকারি দল সংবিধান সংস্কারের শপথ নিতে সম্মত হবে বলে আশা করছি। যদি এর ব্যতয় ঘটে, তাহলে দেশের মানুষ জানে কারা এর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে কার্যকর করা সংসদ সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য সংসদে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধ চলছে। আমাদের দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এই সময় ঐক্য না থাকলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার একাই দেশ পরিচালনা করতে পারবে না। জাতীয় ঐক্যে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশে শিশু হত্যা, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিচার করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশে স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল। যে সকল জায়গায় মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে সেখানে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করবে। বিরোধী দলকে কথা বলতে দিতে হবে। গণভোটের অঙ্গীকার জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলকে মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাদিয়া ফারজানা দিনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এদিকে, বিভাগীয় এই ইফতার মাহফিলে খাবার সামগ্রী ও বসার আসন না পাওয়া নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একাংশকে হট্টগোল করতে দেখা যায়। তবে সেখানে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়াও আমন্ত্রিত গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে ইফতারের আগ মুহূর্তে পানি ও খাবার না দেওয়ায় শতাধিকের বেশি সাংবাদিক অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তারা এ ধরনের আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।