খুঁজুন
, ,

ক্যারাভান দখলবাজ এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্প্রসারনে বাঁধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এক কঠিনবার্তা:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 30 September, 2020, 6:36 pm
ক্যারাভান দখলবাজ এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্প্রসারনে বাঁধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এক কঠিনবার্তা:সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, ক্যারাভান দখলবাজ এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্প্রসারনে বাঁধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এক কঠিনবার্তা। অবৈধ দখলদার যতই ক্ষমতাবান কিংবা প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকে তিল পরিমান ছাড় দেয়া হবে না। তাদের সকল অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে।

তিনি আজ অপরাহ্নে নগরীর ২নং গেইট থেকে বায়েজিদ হয়ে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত নগরসেবায় ক্যারাভান কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন স্থানে তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে একথা বলেন।

এছাড়া যাত্রাপথে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে সাথে সাথে সমাধান করার নির্দেশনা প্রদান করেন। ২নং গেইট থেকে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত অবৈধ মাদক বেচা-কেনার আস্তানাগুলোতে সাড়াশী অভিযান চালানোর জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। এই সব মাদকের আস্তানাগুলো সন্ত্রাস ও অনাচারের উৎপত্তি স্থল।

তিনি অক্সিজেন মোড়ে যানজট ও জলাবদ্ধতাজনিত বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে বলেন, এই সমস্যা অনেক পুরানো। এগুলোর সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এজন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যাতে যুগোপযোগী করা যায় সেই লক্ষ্যে আমাদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র আন্তরিকতায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে যেগুলো দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে, উক্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী জলজট থেকে মুক্তি পাবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

জলাবদ্ধতা নিরসনে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, পানি নিস্কাশন পথগুলো যারা বন্ধ করে রেখেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। ফুটপাতের উপর নির্মাণ সামগ্রী থাকলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে। ফুটপাত জনগনের হাটা চলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা বরদাশত করা হবে না।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় তরঙ্গের আভাষ স্মরণ করিয়ে দিলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। বাইরে মাস্ক ছাড়া কোনভাবেই চলাফেরা করা যাবে না। মনে রাখতে হবে করোনাকালের ইতি ঘটেনি। যতদিন ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হবে না ততদিন আমরা বলতে পারিনা এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়েছি। প্রশাসক চলতি পথে জমে থাকা পানি, ময়লা আবর্জনা ও ভাঙ্গাচোড়া রাস্তা তাৎক্ষণিক সংস্কারের ব্যবস্থা করেন।

এসময় তিনি স্থানীয় জনসাধারনের সাথে মতবিনিময় করে বলেন, যেহেতু এখন রাস্তা সংস্কারের কাজ চলমান সেহেতু আপনারা ধৈর্য্য ধারন করুন। যেখানে অনিয়ম কিংবা দূর্ণীতি দেখবেন আমাকে অবগত করুন।

তিনি অবৈধ গাড়ী পার্কিং দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রাস্তায় কোন অলস গাড়ী পার্কিং থাকবে না বলে ছাফ জানিয়ে দেন। তিনি এলাকাবাসীকেও ক্যারাভানে শরীক হওয়ার আহবান জানান এবং সকল প্রকার অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।

ক্যারাভান চলাকালীন চসিক প্রশাসকের আহবানে সাড়া দিয়ে যারা স্বউদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলেছেন তাদেরকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

এছাড়া কর্মসূচীতে উপস্থিত র‌্যাব, পুলিশ, সংবাদকর্মী, চসিক’র প্রকৌশল, বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্নসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এসময় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেমসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

প্রশাসকের সাথে প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয় সভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, প্রকৌশলীরা হলেন উন্নয়নের চালিকা শক্তি। তিনি প্রকৌশলীদের স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সহিত দ্রুত গতিতে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন।

আজ দুপুরে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে প্রকৌশলীদের সাথে সমন্বয় বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

তিনি আরো বলেন, পোর্ট কানেক্টিং রোডের কাজ আগামী ৫অক্টোবরের মধ্যে সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।তিনি ষ্ট্রেন্ড রোডের কাজ দ্রুত গতিতে করার নির্দেশ দেন। প্রশাসক বলেন কাজ করতে গিয়ে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি আহত হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসময় প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম,অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সালেহ, মনিরুল হুদা,কামরুল ইসলাম, সুদিপ বসাক,নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, ফরহাদুল আলম,বিপ্লব দাশ,অসীম বড়ুয়া, মীর্জা ফজলুল কাদেরসহ অন্যান্য প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন টিজিতে নিয়মিত গাড়ি সরবরাহের বিষয়ে কোনো অজুহাত গ্রহনযোগ্য হবেনা। প্রশাসক নালা নর্দমা ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ স্থায়ী স্থাপনা এবং বিনা অনুমতিতে সেøব নির্মাণকারীদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন সিটি গেইট হলো চট্টগ্রামের প্রবেশ দ্বার। এই গেইটের সৌন্দর্য রক্ষার্থে দ্রুত রং কাজ ও লাইটিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কালার লাইটিং এর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর আদালত সড়কের স্মৃতি ২৪ চত্বর   চসিক প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রাণ ফিরে পেল স্মৃতি ২৪ চত্বর

“অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার লালদিঘি ময়দানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত ২৪ জন নেতাকর্মীসহ নাম না জানা গণতন্ত্রকামী বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ” শিরোনামে চট্টগ্রাম আদালত সড়কের স্মৃতি ২৪ চত্বর একটি ক্যাপশন ছবি গতকাল দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার শরীফ চৌধুরী তুলে ধরেন।

বিষটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের দৃষ্টি আকর্ষন হলে। তিনি তাৎক্ষণিক চসিক পরিচ্ছন্ন বিভাগকে এটি পরিস্কার পরিচ্ছন্নর জন্য নির্দেশনা দেন। যা আজকেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে দৃষ্টি নন্দন করে তোলা হয়।

এ প্রসঙ্গে প্রশাসক পূর্বকোণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদ মাধ্যম জনগণের কথা বলে। নগরীর আনাচে-কানাচে যে কোন অসঙ্গতি যেমন তুলে ধরবেন তেমনিভাবে ভাল কাজের দৃষ্টান্ত তুলে ধরাও সংবাদ মাধ্যমের কাজ। এসব কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তাই আপনারা উপস্থাপন করুন আমি নগর সেবক হিসেবে সেবা করার চেষ্টা করবো।

২৪ ঘণ্টা/মোরশেদ

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।