খুঁজুন
শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবাদের রেখেই ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি,বঞ্চিত-অবমূল্যায়িতদের বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
বাবাদের রেখেই ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি,বঞ্চিত-অবমূল্যায়িতদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর পর আজ আরও ২৭২ জনকে সংযুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রিয় ছাত্রদল।

বিগত বেশ কিছু দিন যাবত শোনা যাচ্ছিল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত ছাত্র এবং ত্যাগীদের সংযুক্ত করে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। কমিটিতে স্থান পেতে পারে এ ধরণের কয়েকজন ছাত্রনেতার নামও পত্র পত্রিকায় এসেছিল।

আজ সোমবার (৩০ নভেম্বর) কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটির দাবিতে নগর বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে নেতাকর্মীরা।

নতুন ২৭২ জনের মধ্যে বেশিরভাগই পদ প্রাপ্তদের ছাত্রত্ব নেই। আর তারা বিবাহিতও। ফলে নিয়মিত ছাত্র ও অবিবাহিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হতাশ। তারা ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ হিসেবে দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেয় এবং পরে তারাই নিভিয়ে ফেলে আগুন।

এর আগে আজ বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল।  বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় আগের আংশিক কমিটির সাথে ২৭২ জনকে সংযুক্ত করে পুর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হল।

এ বিষয়ে সদ্য ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন ২০০৫ সালের আগে যারা এসএসসি পাশ করেছে তাদের কাউকে ছাত্রদলের কমিটিতে রাখা যাবে না। দায়িত্ব পেতে হলে নিয়মিত ছাত্র ও অবিবাহিত হতে হবে। কিন্তু আজ ঘোষিত কমিটিতে আগের আংশিক কমিটি বাতিল করা হয়নি। জুনিয়র সিনিয়র সিরিয়াল মানা হয়নি এবং বিবাহিত ও অছাত্রদের কমিটিতে রাখা হয়েছে এ কারণে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে নেতাকর্মীরা। আংশিক কমিটির একজন ছাড়া বাকি নয়জন অন্য কমিটির পদ পদবী বহন করছে। আমরা নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে নতুন কমিটি দাবি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ২০১৩ সালে ঘোষিত আংশিক কমিটির সভাপতি গাজী সিরাজ এখন নগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৮৯ সালে এসএসসি পাশ করেছেন। বর্তমানে তার বয়স ৫২ বছর। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু বর্তমানে নগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাশ করেন। তার বয়স ৪৬ বছর। এছাড়া চার সহসভাপতির মধ্যে মঈন উদ্দিন শহীদ নগর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, ফজলুল হক সুমন নগর যুবদলের সহসভাপতি ও জিয়াউর রহমান জিয়া নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। চার যুগ্ম সম্পাদকের মধ্যে জমির উদ্দিন নাহিদ স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক, আলী মর্তুজা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও মোশাররফ হোসেন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আরেক যুগ্ম সম্পাদক জালাল উদ্দিন সোহেল মারা গেছেন। নগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম রাশেদ এখন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। তাদের কিভাবে নতুন কমিটিতে বহাল রাখা হয়।

যুগ্ম সম্পাদক শফিউল বশর সামু পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কমিটি নিয়ে অনেক ধরণের বিতর্ক হতে পারে কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর পর হলেও একটি ঢাউশ কমিটি হয়েছে কর্মীদের মূল্যায়নের দরকার ছিল এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিকদলের কমিটি হলে কিছু মান অভিমান থাকে। দীর্ঘ সতেরো বছর পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় পদবঞ্চিত একটু আধটু ক্ষোভ আমি খারাপ দৃষ্টিতে দেখছিনা। সবাইকে মূল্যায়ন করতে গেলে কমিটির আকার হাজার পেরিয়ে যেতো। তবে আমাদের এটা সাময়িক সময়ের জন্য এরপর আহ্বায়ক কমিটি এবং তারপর আবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। সে পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করতে পারতো। এছাড়া যাদের বয়স নেই তারা অন্য সহযোগী সংগঠনে স্থানান্তরিত হতে পারবে।

মূলত আসন্ন স্থগিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহদাত হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচন পরিচালনায় কোনও প্রভাব না ফেলতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। নতুনদের নিয়ে কমিটি গঠিত হলে সিটি নির্বাচনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই ধারণা থেকেই মূলত ৭ বছর আগের আংশিক কমিটিকে বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নগর ছাত্রদলের নতুন কমটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হলে আগ্রহীদের কাছ থেকে বায়োডাটাসহ ফরম জমাদানের আবেদন করেছিল সংগঠনটি। গত ১৩ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মসূচীতে প্রায় ৩৫০টি ফরম জমা পড়ে।

কমিটির বিষয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল যোগাযোগ করতে চাইলো তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।