খুঁজুন
, ,

করোনা থেকে বাঁচতে লকডাউন, জীবন বাঁচাতে চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 28 June, 2021, 9:02 pm
করোনা থেকে বাঁচতে লকডাউন, জীবন বাঁচাতে চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা

রফিক তালুকদর : করোনা ঠেকাতে ‘লকডাউন’। তাতে করোনার প্রকোপ হয়তো কিছুটা কমলো, কিন্তু ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমিক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে ত্রাহি অবস্থা আমরা দেখেছি, তাতে আমাদের এই অর্থনীতি লকডাউনের চাপ কতটা নিতে পারবে তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

শোনা যাচ্ছে লকডাউনে রপ্তানিমুখী শিল্পসহ বেশকিছু জরুরী প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে, ফলে সেইসব খাতে ক্ষতি হবে কম। কিন্তু নানান পণ্য উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্টান ও উদ্যোক্তা যারা ঈদসহ নানান উৎসবকে ঘিরে তাদের পণ্য বিক্রয়ের পসরা সাজান, তারা পড়বেন মারাত্মক বিপাকে। সেই সাথে আছে রেস্টুরেন্ট, পরিবহনসহ নানান রকম আইসিটি সম্পৃক্ত সেবা -যারা তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারবেন না। এই সকল উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত আছে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কর্মচারী। এসকল খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষে তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন কতদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব?

বড় বড় উদ্যোক্তাদের যেখানে শ্রমিকের বেতন/পাওনা মেটাতে সরকারের সাহায্য নিতে হয়, সেখানে এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কিভাবে তা চালিয়ে যাবেন?

গতবছরের প্রণোদনা প্যাকেজের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বন্টন হয়েছে খুব ধীরগতিতে। তাতেও আবার অনেক উদ্যোক্তা সেই সুবিধা পাননি। বিশেষ করে যাদের ব্যাংকের সাথে লেনদেন নেই কিংবা যাদের ব্যবসার ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছিল সেইসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা কিন্তু এই প্রণোদনার আওতার বাইরেই রয়ে গেছেন।

আবার যারা প্রণোদনার ঋণ সুবিধা পেয়েছিলেন, তারা যদি এখন ব্যবসা-বাণিজ্য করতে না পারেন, তাহলে ঋণের টাকা ফেরত দিবেন কিভাবে, সেটিও চিন্তার বিষয়।

দিনমজুর, রিক্সাওয়ালা, দোকানপাট মার্কেটের কর্মী, দারোয়ান, কুলি, মুচি, ঝালমুড়ি বিক্রেতা -এইসব সাধারন মানুষগুলো কতদিন এভাবে চলতে পারবেন?

এটা পরিস্কার যে,এই লকডাউনের পরেই কিন্তু করোনা বিদায় হচ্ছেনা।

বৈশ্বিক এই মহামারীর সাথে আমাদের চলতে হবে আরও কয়েক মাস কিংবা বছর, এভাবে দিনের পর দিন লকডাউন থাকলে তার অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করা অনেক মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়।
তাই সার্বিক পরিস্হিতি মোকাবেলায় সরকারকে নিতে হবে সুদুরপ্রসারি এক পরিকল্পনা।

যেমন অতি দরিদ্র,খেটে খাওয়া মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য ব্যাবস্হা করতে হবে পুরো বছর জুড়েই, আওতা বাড়াতে হবে খাদ্য বিতরণেরও।

যেসকল খাতকে লকডাউন এর আওতায় রাখা হয়েছে অর্থাৎ যারা তাদের ব্যবসা বাণিজ্য কিংবা কাজ করতে পারছেন না তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। এদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে ঋণ নিয়েছেন তা ফেরত দেয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে দিতে হবে। আর যে সকল খাত লকডাউন এর আওতার বাইরে আছে অর্থাৎ যারা তাদের উৎপাদন কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন, তাদেরকে আর কোন নতুন প্রণোদনা দেয়া যাবে না।

স্বাস্থ্য বিধি মানার বিষয়ে বাস্তবিক কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে, দরিদ্র মানুষের মধ্যে মাস্ক ও সাবান বিতরণ করতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং এর গুরুত্বের বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে, এতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি যুক্ত করতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও। আগামী অন্তত ৩মাস কোনভাবেই স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে শিথিলতা আনা যাবে না, বন্ধ রাখতে হবে সব ধরণের সভা সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্টান সমূহ। এটি পালন করতে পারলে হয়ত সহসাই আবার লকডাউন দেয়ার প্রয়োজন হবেনা।

এদেশে অনেক স্বচ্ছল(বিত্ত্ববান) মানুষ আছেন যারা মাসের-পর-মাস ঘরে থাকতে পারবেন, কোন কাজ না করলেও তাদের জন্য স্বাভাবিক জীবনযাপনের গতি ধরে রাখতে কোন সমস্যা হবে না।

কিন্তু স্বল্প আয়ের জনগোষ্টির পক্ষে তা কিছুতেই সম্ভব না । সরকারের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী বিত্ববানদেরকেও এই কঠিন দুঃসময়ে এগিয়ে আসতে হবে। দাঁড়াতে হবে নিম্নমধ্যবিত্তের পাশে।

সর্বোপরি মানুষের জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে আরওবৃদ্ধি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় এগিয়ে নিতে হবে।

লেখক- সংবাদকর্মী, সমাজকর্মী।

Feb2
Feb2

১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 7:54 pm
১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের জেলাগুলো হলো- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

শনিবার (১০ জুলাই) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে বন্যায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় এমপি ও দলীয় সকল সংগঠনের নেতাকর্মীদের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে ত্রাণ বাবদ ২ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখা হয়েছে বিজিবি, সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ডসহ সরকারি বিভিন্ন বাহিনীকে। প্রস্তুত করা হয়েছে ১ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র। আশ্রয়কেন্দ্রে ওষুধ, স্যানিটেশনসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান ড. মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার দায়বদ্ধতা ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এর আগে, শুক্রবার বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

দুর্যোগের পর থেকেই কোথায় কী লাগবে, সবই জানছেন প্রধানমন্ত্রী: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 7:13 pm
দুর্যোগের পর থেকেই কোথায় কী লাগবে, সবই জানছেন প্রধানমন্ত্রী: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

দুর্যোগের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বন্যাদুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে৷ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার রশিদের পুকুর এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। কোথায় কী লাগবে, কী প্রয়োজন—সবকিছু তিনি জানেন। গতকালও তিনি আমাকে বলেছেন, আপনি সেখানে যান, কী কী লাগবে দেখে আসেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আজ আপনাদের মাঝে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আপনাদের খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি, যিনি দেশের মানুষের কল্যাণে ২৪ ঘণ্টাই চিন্তা করেন। সরকার যে কোনো দুর্যোগে আপনাদের পাশে আছে। আপনাদের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তা দিতে প্রস্তুত।

এম ইকবাল হোসেইন বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কাজ করবে সরকার: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:38 pm
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কাজ করবে সরকার: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী

বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

পাহাড় ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি খাসজমি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবহার করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বেই।

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রয়েছে। সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য রোগব্যাধি প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে। কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিশু খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী শিশু খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় পানি পরিশোধন যন্ত্র ও বোতলজাত পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় বন্যাকবলিত জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।