খুঁজুন
, ,

সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপো নির্মাণের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 22 August, 2022, 5:17 pm
সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপো নির্মাণের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

সীতাকুণ্ড উপজেলার ৮নং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের গামারীতলা (দ. সোনাইছড়ী) গ্রামের ভিতরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তা দিয়ে কাভার্ডভ্যান স্হাপন প্রক্রিয়াবন্ধ করার দাবিতে এবং এলাকাবাসিকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বলে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে আজ ২২ আগস্ট (সোমবার) চট্রগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় এ গ্রামে দক্ষিণ সোনাইছড়ি আলহাজ্ব মোস্তফা-হাকিম হাই স্কুল, দক্ষিণ সোনাইছড়ি জামে মসজিদ, গ্রামের উত্তর পাশে হাফিজ জুট মিলস সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চ বিদ্যালয় ও দক্ষিনে শীতলপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও শীতলপুর গাউছিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যায়নরত শতশত ছাত্র-ছাত্রী এ রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করে। এ রাস্তা ছাড়া এলাকাবাসী ও ওই সকল প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের আর কোন বিকল্প রাস্তা নেই।

বিভিন্ন সময়ে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তা নষ্ট হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা জন্য রাস্তা এটিকে যাতে ভারী যান চলাচল করতে না পারে সেজন্য এলাকাবাসী রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেয়।

এলাকার নুরুল আলম চৌধুরী নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রামের মধ্যে হাই স্কুল ও মসজিদের মাঝখানে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তার পরিত্যক্ত খালি জায়গায় কন্টেইনার টার্মিনাল স্থাপন করার অপচেষ্টা স্বরুপ ১ আগষ্ট সোমবার দিবাগত রাত্রে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে বাঁশের বেড়া সরিয়ে সকালে শত শত কাভার্ডভ্যান গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করায়।

এতে এলাকাবাসী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। গ্রামবাসী ও ছাত্র-ছাত্রীদের চলার পথে শত শত গাড়ির বেপরোয়া গতিতে আসা যাওয়ার ফলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে ও দুর্ঘটনা ঘটছে। কন্টেইনার ডিপোতে শতশত ড্রাইভার ও হেলপারের আনাগোনায় পুরো এলাকা মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে।

রাস্তাঘাটে ড্রাইভার ও হেলপার দের আনাগোনায় স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। দিনে রাতে এলাকায় গাড়ি গুলোর বেপরোয়া চলাচল ও বিকট হর্নের শব্দ দূষণের কারনে ছাত্র- ছাত্রী ও মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচেছ।

কন্টেইনার ডিপো নির্মাণ করার ফলে মহাসড়ক থেকে গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত কাভার্ডভ্যান /কন্টেইনার ট্রাক চলাচল করছে। এ কারণে গ্রামের মানুষের চলাচলের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া এলাকায় অবস্থিত স্কুলের শিক্ষার্থী ও মসজিদের মুসল্লীদের যাতায়াতের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গ্রামের মধ্যে ট্রাক ডিপো তৈরীর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০০/ ৬০০ কাভার্ডভ্যান / কন্টেইনার ট্রাক আসা যাওয়া করে। ফলে স্কুলের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের চলাচলে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। ট্রাকগুলোতে করে শত শত রাসায়নিক পদার্থসহ বিভিন্ন ক্যামিকেল আনা নেওয়া করছে।

যার ফলে এলাকাবাসী চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএম ডিপোতে স্মরণকালের ভয়াবহ কেমিক্যাল কন্টেইনার বিস্ফোরণের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে এ কন্টেইনার ডিপো বন্ধ করার আহবান জানিয়ে সম্প্রতি শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দিয়েছি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে। এদিকে ডিপো স্হাপনকারী প্রভাবশালী নুরুল আলম চৌধুরী এলাকাবাসীকে হুমকি স্বরুপ মামলা – হামলা করে ডিপো স্হাপনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

গ্রামবাসীর যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অসৎ উদ্দেশ্য গত ১৫ আগষ্ট গ্রামবাসীকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বলে আখ্যায়িত করে এলাকার গন্যমান্য ১৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করে।

এ দিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা এলাকাবাসী ডিপো স্হাপনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ব। নুরুল আলম চৌধুরী যাতে এখানে ডিপো স্হাপন করতে না পারে ও গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে করা মিথ্যা চাঁদা বাজির অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য সাংবাদিক সমাজের মাধ্যমে আমরা সংকারের উধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাষ্টার মাহবুবুল আলম। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন যথাক্রমে মো. মাহবু্ুবুল আলম, সাবেক মেম্বার মো. আজগর আলী, মো. জাফর ইকবাল, শফিউল আজম, এ এম, দিদারুল আলম, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান জিকু, মওলানা মো. সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

জে-আর

Feb2
Feb2

জার্মানির এইচকেজি-থ্রি রাইফেল নিয়ে কৌতূহল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 6:40 pm
জার্মানির এইচকেজি-থ্রি রাইফেল নিয়ে কৌতূহল

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া জার্মানির তৈরি সামরিক গ্রেডের একটি এইচকেজি-থ্রি সিরিজের রাইফেল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি বেশ পুরনো। তেমন সক্রিয়ও নয়। তবুও এ ধরনের ভারী সামরিক অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডে আরও থাকার সম্ভাবনা ভাবিয়ে তুলেছে গোয়েন্দাদের।

মিয়ানমারের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাবেক হেড অব মিশন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের ধারণা, আগ্নেয়াস্ত্রটি মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছ থেকে সীমান্তপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানেরও ধারণা অস্ত্রটি বেশ কয়েকবছর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে এসেছে।

দেশীয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে কাজ করা একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) তথ্য, ২০১১ সালে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বিধান বড়ুয়ার কাছ থেকে জার্মানির তৈরি এইচকেজি-থ্রি রাইফেল উদ্ধার হয়েছিল। গত ১৫ বছরে এ ধরনের অস্ত্র আর দেখা যায়নি। উদ্ধারের তথ্যও নেই।

পুলিশের এ কর্মকর্তার ধারণা, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া রাইফেলটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ অথবা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হতে পারে। তাদের কাছ থেকে সেটি অপরাধ জগতের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের হাতে পৌঁছতে পারে।

গত ২৪ জুন সকালে র‌্যাব চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার হাজীরপুল ফেদা পুকুর পাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি উদ্ধার করে। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এএসপি এ আর এম মোজাফফর হোসেন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, বাট ও ম্যাগাজিনবিহীন অবস্থায় অস্ত্রটি জলিল নামে এক ব্যক্তির সীমানা প্রাচীর দেওয়া খালি জায়গায় পড়ে ছিল। গোপন তথ্যে সেটি উদ্ধারের পর চান্দগাঁও থানায় জমা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে করা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাব নিয়েছে বলে জানালেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

জার্মানির হেকলার অ্যান্ড কক কোম্পানি যুদ্ধকালীন রাইফেল হিসেবে ১৯৫০ এর দশকে আগ্নেয়াস্ত্রটি তৈরি করে। অতি মাত্রায় ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ও নিখুঁত নিশানার জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। শক্তিশালী অস্ত্রটি প্রতি মিনিটে ৫০০ থেকে ৬০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে সক্ষম। প্রায় এক কিলোমিটার দূরের নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম রাইফেলটি স্নাইপার বা মেশিনগানের মতোও কাজ করতে পারে। ইফেক্টিভ রেঞ্জের জন্য এটি প্রায় ৭০টি দেশের সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে বলে তথ্য মিলেছে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ায় রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী এই অস্ত্র ব্যবহার করে না বলে জানালেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এমদাদুল ইসলাম। বললেন, ‘ভারত, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, পাকিস্তান কোথাও এই অস্ত্রের সচরাচর ব্যবহার নেই। চীনের তৈরি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের যেসব অস্ত্র আমাদের দেশের বিভিন্ন বাহিনী ব্যবহার করে সেগুলোর চেয়ে জি-থ্রি রাইফেল বেশি মারাত্মক নয়। স্নাইপার হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে স্নাইপার এখন আরও বিভিন্ন সোর্সে ব্যবহার হয়।’

‘তাহলে এটা নিয়ে এত কৌতূহল কেন? যে অস্ত্রের ব্যবহার উপমহাদেশে নেই, এই অঞ্চলে নেই হঠাৎ করে সেটা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারের কারণে কৌতূহলটা তৈরি হয়েছে। এটা কোত্থেকে আসল, কীভাবে আসল, কারা এখানে সরবরাহ করল, কৌতূহল থাকাটা খুব স্বাভাবিক।’- বলেন এমদাদুল ইসলাম।

র‌্যাব কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বললেন, ‘আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোয় জি-থ্রি রাইফেল তৈরিও হয় না। ব্যবহারও হয় না। বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কারখানায় একসময় জি-থ্রি রাইফেল তৈরি হতো। পরে এর ব্যবহার কমানো হয়েছে। আমরা যে রাইফেলটি পেয়েছি সেটি এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমরা কেউই এই ক্যালিবারের অস্ত্র ব্যবহার করি না। সরকারিভাবেও আমদানি হয় না।’ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তপথ প্রায় ২৭০ কিলোমিটারের। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা দেড় বছর ধরে দেশটির বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে।

মায়ানমারের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাবেক হেড অব মিশন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের বিশ্লেষণ, ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর জান্তা বাহিনী রাখাইনে পণ্য আসার অভ্যন্তরীণ তিনটি পথ ব্লক করে দিয়েছে। এর ফলে আরাকান আর্মি শুধু অর্থ ও নিত্যপণ্যের মারাত্মক সংকটে ভুগছে। মিয়ানমারের কায়িন স্টেট থেকে চিন স্টেট হয়ে আরাকান আর্মির কাছে এ ধরনের অস্ত্র পৌঁছে। টাকার জন্য তারা এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। এজন্য সীমান্ত পার করে অস্ত্রগুলো এ দেশের কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে বিক্রি করেছে বলে ধারণা করছি।’

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, আগ্নেয়াস্ত্রটি কীভাবে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এল এবং এর পেছনে কোনো দেশীয় সংঘবদ্ধ চক্র বা আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কী না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্ত্রটির উৎস, ব্যাচ নম্বর এবং এর মালিকানা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা হাফিজুরের ভাষ্য, ‘পৃথিবীর সব দেশের সীমান্ত দিয়ে স্মাগলিং হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের সীমান্ত পুরোপুরি চোরাচালানমুক্ত নয়। সীমান্তপথ দিয়ে কোনোভাবে অস্ত্রটি এখানে এসেছে।’

সিএমপি ও জেলা পুলিশে কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত এক এএসপি বললেন, ‘রেঞ্জ বেশি। হেভি আর্মস। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গ্রুপগুলো এই অস্ত্র খুব বেশি ব্যবহার করতো। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছেও এমন অস্ত্র ছিল। আর দেশের ভেতরে আন্ডারওয়ার্ল্ডেও এর ব্যবহার ছিল। সীমান্তপথ দিয়েই এটা এসেছে। এটা মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়।’

এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি, গ্যাস সরবরাহ কমে অর্ধেক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 6:20 pm
এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি, গ্যাস সরবরাহ কমে অর্ধেক

কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এতে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। দেশে এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। এর মধ্যে দুটি টার্মিনাল থেকে ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছিল। হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ ৬০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। এতে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেছে।

দেশে প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। ফলে এলএনজির সরবরাহ কমে গেলে গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। অনেক এলাকায় রান্নার চুলা জ্বালাতে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার গ্রাহকেরা চাপে পড়েছে। শিল্পও চাহিদামতো গ্যাস পাবে না। কমতে পারে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

এদিকে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।

সিলিমপুর আবাসিকের ভেতর দিয়ে সড়ক নয়, বিকল্প রুটের প্রস্তাব সিডিএর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 3:43 pm
সিলিমপুর আবাসিকের ভেতর দিয়ে সড়ক নয়, বিকল্প রুটের প্রস্তাব সিডিএর

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রস্তাবিত কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ও কানেক্টিং সড়কের মধ্যে দুটি সিলিমপুর আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে প্লট মালিকদের মতামতের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সিলিমপুর আবাসিক এলাকায় প্লট মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রস্তাবিত সড়কের স্থান পরিদর্শন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এ সময় তিনি সম্ভাব্য রুটগুলো ঘুরে দেখেন এবং মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করেন।

সিডিএ সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুর একটি স্পর্শকাতর এলাকা। ওই এলাকার সঙ্গে একটি শান্ত ও সংরক্ষিত আবাসিক এলাকার সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হলে আবাসিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় প্লট মালিকদের মতামত নিয়ে বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সড়কটি মূল আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে করার সুযোগ নেই।

তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খালের পাড় ধরে সাময়িকভাবে একটি অস্থায়ী পথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। স্থায়ীভাবে আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ না করাই ভালো। প্লট মালিকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে বিকল্প স্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিকল্প রুটের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণের পর তারা সিডিএকে হালনাগাদ অগ্রগতি জানাবে।

সভায় দীর্ঘদিনের গ্যাস ও পানি সংকট নিরসনের আশ্বাসও দেন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দ্রুত পানির সংযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ওয়াসা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এলাকার সব নাগরিক দুর্ভোগ দূর করা হবে।

এ সময় সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সিলিমপুর আবাসিক এলাকার প্লট মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।