খুঁজুন
, ,

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে সরকার: ডা.শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 February, 2023, 7:43 pm
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে সরকার: ডা.শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন,সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এই সরকার। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। আজ গণমাধ্যম কথা বলতে পারে না। গণমাধ্যমের কোন সাংবাদিক সরকারের সমালোচনা করে কোন প্রতিবেদন চাপালেই তার বিরুদ্ধে আইসিটি এক্ট নামে কালো আইনের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আজকে এই কাল আইনের কারণে সাংবাদিকরা সঠিক সংবাদ প্রচার করতে পারছে না। তেমনি ভাবে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই সরকার একদলীয় ভাবে দেশ শাসন করছে। কেউই সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা, নির্যাতন নিপীড়ন শুরু হয়। এই সরকার একদলীয় ভাবে ফ্যাসিস্ট কায়দায় দেশ শাসন করছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারা অন্তরীন রেখেই এই সরকার নিশি রাতের ভোটের মাধমে এক দলীয়ভাবে ক্ষমতায় এসে দেশের অর্থনীতিকে লুটপাট করেছে। আজ দেশকে একটি তলাবিহীন জুড়িতে পরিণত করেছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে ফেলেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে পচার করেছে এই সরকার।

তিনি আজ ১৪ ফেব্রুারি (মঙ্গলবার) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ব্যয় সংকোচনের কথা বলে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়ে মানুষের জীবন যাপন দুর্বিষহ করে তুলেছে। দিন দিন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, সব কিছু মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সেদিকে সরকারের কোন নজর নেই। কিন্তু এই সরকার বিএনপি, যুবদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে জনগণের এই মৌলিক অধিকারের আন্দোলন দমনে ব্যস্ত। বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী তাল্লাসী চালিয়ে দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে সরকার। তারা শান্তির কথা বলে অশান্তি সৃষ্টি করছে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আন্দোলন কখনো স্তব্ধ করা যায় না এবং এগুলো করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী সহ সকল রাজবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামীগ বিএনপির জনসম্পৃক্ত কর্মসুচির ভয়ে ভীত হয়ে তারা পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সব জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, সন্ত্রাসকে তারা উসকে দিচ্ছে। যে রাজনৈতিক দল পাল্টা কর্মসূচি দেয়, বুঝতে হবে তারা একদম দেউলিয়া হয়ে গেছে। অবৈধ ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সরকার একদিকে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সন্ত্রাসকে উসকে দিচ্ছে অন্যদিকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনিিপ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার অব্যহত রাখছে। মামলা হামলা গ্রেফতার অব্যহত রেখে আওয়মী সরকারের শেষ রক্ষা হবেনা। নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তীকে গ্রেফতার করে যুবদলে গণতান্ত্রিক আন্দোলকে স্তব্দ করার চেষ্টা করেছে। আজকের সমাবেশ প্রমান করে যুবদল দমে যায়নি বরং আরো শক্তিশালী হয়ে রাজপথে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মোশারফ হোসেন দিপ্তীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও মোশাররফ হোসেন দিপ্তীসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবী জানাচ্ছি। এই ফ্যাসিবাদী সরকার হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে এই আন্দোলনকে থামানো যাবে না। এখন শেখ হাসিনার পতন কোন ভাবেই থামানো যাবে না। যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে আর থামিয়ে দেয়া যাবে না। এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। গতিশীল করতে হবে। দেশ বাঁচাতে, জনগণ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে চলমান এই আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি।এই আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সামিল হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন ফ্যাসিবাদী সরকার দমন পীড়ন করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়। আমরা বাংলার জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারের সকল অপকর্মের সমুচিত জবাব দিব।

নগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, সদস্য এডভোকেট মফিজুলক ভূঁইয়া,বক্তব্য রাখেন, নগর যুবদলের সহ সভাপতি আজমল হুদা রিংকু, নূর আহমদ গুড্ডু, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল করিম, আবদুল গফুর বাবুল, সাহাবুদ্দিন হাসান বাবু, মুহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, হায়দার আলী চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাসিম, হাসান মুরাদ, মুজিবুর রহমান, আবু সুফিয়ান, অরূপ বড়–য়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মাসুম, হুমায়ুন কবীর, মো. সেলিম, ইকবাল পারভেজ, এরশাদ হোসেন, মো. তাজুল ইসলাম তাজু, আবদুর হামিদ পিন্টু, দীপংকর ভট্টচার্য, সেলিম উদ্দিন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, জিয়াউল হুদা জিয়া, শাহীন পাটোয়ারী, এস এম ফারুক, রাজন খান, গুলজার হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম, কামাল পাশা, আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাচা, ওসমান গণি, শাহজালাল পলাশ, মুজিবুর রহমান রাসেল, আহাদ আলী সায়েম, জাফর আহমদ খোকন, মো. ইয়াছিন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নূর হোসেন উজ্জ্বল, জিল্লুর রহমান জুয়েল, মুহাম্মদ সাগীর, মো. জসিম উদ্দিন সাগর,

মো. আলাউদ্দিন, গাজী ফারুক, মোহাম্মদ আলী, মহিউদ্দিন মুকুল, এস এম বখতেয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, মো. নুরুল আমিন, মো. ইকবাল, ওমর ইমতিয়াজ টিটু, মো. নওশাদ, আসাদুজ্জামান রুবেল, সহ সম্পাদক বৃন্দ আতিকুর রহমান, মো. কামাল উদ্দিন, মনোয়ার হোসেন মানিক, কমল জ্যোতি বড়–য়া, কামরুল ইসলাম, জিয়াউল হক মিন্টু, মঞ্জুরুল আলম, মোহাম্মদ হাসান, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম, হামিদুল হক চৌধুরী, মো. আনোয়ার হোসেন আনু, আরিফ হোসেন, ইয়াছিন আজাদ, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, মো. আবুল কালাম, মো. সালাহ উদ্দিন, আবু বক্কর সিদ্দিক আবু, মো. জসিম উদ্দিন, হাফেজ কামাল উদ্দিন, রুবেল বড়–য়া, মো. সিরাজুল ইসলাম সিকদার, দেলোয়ার হোসেন, সাইফুদ্দিন যুবরাজ, ফারুক হোসেন স্বপন,মো. ইদ্রিছ, গুলজার হোসেন মিন্টু, ইলিয়াছ হাসান মঞ্জু, আবদুল্লাহ আল মামুন জিতু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হোসেন উজ্জামান হোসেন, নুর জাহেদ বাবলু, এ কে আজাদ, মো. ইব্রাহিম খান, মো. সাইদুল ইসলাম, মিফতাহ উদ্দিন সিকদার টিটু, মো. ইউসুফ, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, নগর যুবদলের সদস্য আফসার উদ্দৌলা অপু, শাখাওয়াত হোসেন টিপু, লতিফুর বারী সুমন, আইয়ুব আলী, শাবাব ইয়াজদানী, মাহাবুব খান জনি, মো. কলিম উল্লাহ, সোহাগ খান, সাইদুল হক সিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. আকবর হোসেন, সাব্বির ইসলাম ফারুক, আবদুল করিম, আজিজ চৌধুরী, শাখাওয়াত কবীর সুমন, থানা যুবদলের আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন টুনু, শফিউল আজম, বজল আহমদ, মোশাররফ আমীন সোহেল, ইসমাঈল হোসেন লেদু, হোসনে মোবারক রিয়াদ, মো. খোরশেদ, মো. সেলিম, মো. ইসমাঈল, সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, মো. হাসান, শওকত খান রাজু, তাজ উদ্দিন তাজু, ইলিয়াছ খান, এ জে এম সোহেল, হাবিবুল্লাহ খান রাজু, সারোয়ার হোসেন, মো. রাশেদ, মুশফিকুর রহমান নয়ন, থানা যুবদলের সি: যুগ্ম আহবায়ক আবদুল জলিল, মো. ইয়াছিন, সাইফুল আলম রুবেল, খালেদ সাইফুল্লাহ, সাজ্জাদ আহমেদ সাদ্দাম, মো. সোহেল, ইউনুছ মুন্না, সফিকুর রহমান, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, এস এম আলী, মো. আকতার, মোহাম্মদ ইউনুছ, মো. সাইফুল আলম, মো.মুজাহিদ, বাদশা আলমগীর, মনসুর আলম, জহিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাসান, মো. সাদেক, আবু বক্কর বাবু, মো: আবু তৌহিদ, মো. জাবেদ, মো. শাহবাজ, মো. সাইফুল ইসলাম, রাসেল খান, দেলোয়ার হোসেন ও আবদুল্লাহ আল ফিরোজ টিপুসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

Feb2
Feb2

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।