খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে সরকার: ডা.শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে সরকার: ডা.শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন,সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এই সরকার। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। আজ গণমাধ্যম কথা বলতে পারে না। গণমাধ্যমের কোন সাংবাদিক সরকারের সমালোচনা করে কোন প্রতিবেদন চাপালেই তার বিরুদ্ধে আইসিটি এক্ট নামে কালো আইনের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আজকে এই কাল আইনের কারণে সাংবাদিকরা সঠিক সংবাদ প্রচার করতে পারছে না। তেমনি ভাবে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই সরকার একদলীয় ভাবে দেশ শাসন করছে। কেউই সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা, নির্যাতন নিপীড়ন শুরু হয়। এই সরকার একদলীয় ভাবে ফ্যাসিস্ট কায়দায় দেশ শাসন করছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারা অন্তরীন রেখেই এই সরকার নিশি রাতের ভোটের মাধমে এক দলীয়ভাবে ক্ষমতায় এসে দেশের অর্থনীতিকে লুটপাট করেছে। আজ দেশকে একটি তলাবিহীন জুড়িতে পরিণত করেছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে ফেলেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে পচার করেছে এই সরকার।

তিনি আজ ১৪ ফেব্রুারি (মঙ্গলবার) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ব্যয় সংকোচনের কথা বলে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়ে মানুষের জীবন যাপন দুর্বিষহ করে তুলেছে। দিন দিন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, সব কিছু মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সেদিকে সরকারের কোন নজর নেই। কিন্তু এই সরকার বিএনপি, যুবদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে জনগণের এই মৌলিক অধিকারের আন্দোলন দমনে ব্যস্ত। বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী তাল্লাসী চালিয়ে দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে সরকার। তারা শান্তির কথা বলে অশান্তি সৃষ্টি করছে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আন্দোলন কখনো স্তব্ধ করা যায় না এবং এগুলো করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী সহ সকল রাজবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামীগ বিএনপির জনসম্পৃক্ত কর্মসুচির ভয়ে ভীত হয়ে তারা পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সব জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, সন্ত্রাসকে তারা উসকে দিচ্ছে। যে রাজনৈতিক দল পাল্টা কর্মসূচি দেয়, বুঝতে হবে তারা একদম দেউলিয়া হয়ে গেছে। অবৈধ ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সরকার একদিকে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সন্ত্রাসকে উসকে দিচ্ছে অন্যদিকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনিিপ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার অব্যহত রাখছে। মামলা হামলা গ্রেফতার অব্যহত রেখে আওয়মী সরকারের শেষ রক্ষা হবেনা। নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তীকে গ্রেফতার করে যুবদলে গণতান্ত্রিক আন্দোলকে স্তব্দ করার চেষ্টা করেছে। আজকের সমাবেশ প্রমান করে যুবদল দমে যায়নি বরং আরো শক্তিশালী হয়ে রাজপথে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মোশারফ হোসেন দিপ্তীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও মোশাররফ হোসেন দিপ্তীসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবী জানাচ্ছি। এই ফ্যাসিবাদী সরকার হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে এই আন্দোলনকে থামানো যাবে না। এখন শেখ হাসিনার পতন কোন ভাবেই থামানো যাবে না। যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে আর থামিয়ে দেয়া যাবে না। এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। গতিশীল করতে হবে। দেশ বাঁচাতে, জনগণ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে চলমান এই আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি।এই আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সামিল হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন ফ্যাসিবাদী সরকার দমন পীড়ন করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়। আমরা বাংলার জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারের সকল অপকর্মের সমুচিত জবাব দিব।

নগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, সদস্য এডভোকেট মফিজুলক ভূঁইয়া,বক্তব্য রাখেন, নগর যুবদলের সহ সভাপতি আজমল হুদা রিংকু, নূর আহমদ গুড্ডু, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল করিম, আবদুল গফুর বাবুল, সাহাবুদ্দিন হাসান বাবু, মুহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, হায়দার আলী চৌধুরী, নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাসিম, হাসান মুরাদ, মুজিবুর রহমান, আবু সুফিয়ান, অরূপ বড়–য়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মাসুম, হুমায়ুন কবীর, মো. সেলিম, ইকবাল পারভেজ, এরশাদ হোসেন, মো. তাজুল ইসলাম তাজু, আবদুর হামিদ পিন্টু, দীপংকর ভট্টচার্য, সেলিম উদ্দিন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, জিয়াউল হুদা জিয়া, শাহীন পাটোয়ারী, এস এম ফারুক, রাজন খান, গুলজার হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম, কামাল পাশা, আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাচা, ওসমান গণি, শাহজালাল পলাশ, মুজিবুর রহমান রাসেল, আহাদ আলী সায়েম, জাফর আহমদ খোকন, মো. ইয়াছিন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নূর হোসেন উজ্জ্বল, জিল্লুর রহমান জুয়েল, মুহাম্মদ সাগীর, মো. জসিম উদ্দিন সাগর,

মো. আলাউদ্দিন, গাজী ফারুক, মোহাম্মদ আলী, মহিউদ্দিন মুকুল, এস এম বখতেয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, মো. নুরুল আমিন, মো. ইকবাল, ওমর ইমতিয়াজ টিটু, মো. নওশাদ, আসাদুজ্জামান রুবেল, সহ সম্পাদক বৃন্দ আতিকুর রহমান, মো. কামাল উদ্দিন, মনোয়ার হোসেন মানিক, কমল জ্যোতি বড়–য়া, কামরুল ইসলাম, জিয়াউল হক মিন্টু, মঞ্জুরুল আলম, মোহাম্মদ হাসান, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম, হামিদুল হক চৌধুরী, মো. আনোয়ার হোসেন আনু, আরিফ হোসেন, ইয়াছিন আজাদ, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, মো. আবুল কালাম, মো. সালাহ উদ্দিন, আবু বক্কর সিদ্দিক আবু, মো. জসিম উদ্দিন, হাফেজ কামাল উদ্দিন, রুবেল বড়–য়া, মো. সিরাজুল ইসলাম সিকদার, দেলোয়ার হোসেন, সাইফুদ্দিন যুবরাজ, ফারুক হোসেন স্বপন,মো. ইদ্রিছ, গুলজার হোসেন মিন্টু, ইলিয়াছ হাসান মঞ্জু, আবদুল্লাহ আল মামুন জিতু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হোসেন উজ্জামান হোসেন, নুর জাহেদ বাবলু, এ কে আজাদ, মো. ইব্রাহিম খান, মো. সাইদুল ইসলাম, মিফতাহ উদ্দিন সিকদার টিটু, মো. ইউসুফ, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, নগর যুবদলের সদস্য আফসার উদ্দৌলা অপু, শাখাওয়াত হোসেন টিপু, লতিফুর বারী সুমন, আইয়ুব আলী, শাবাব ইয়াজদানী, মাহাবুব খান জনি, মো. কলিম উল্লাহ, সোহাগ খান, সাইদুল হক সিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. আকবর হোসেন, সাব্বির ইসলাম ফারুক, আবদুল করিম, আজিজ চৌধুরী, শাখাওয়াত কবীর সুমন, থানা যুবদলের আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন টুনু, শফিউল আজম, বজল আহমদ, মোশাররফ আমীন সোহেল, ইসমাঈল হোসেন লেদু, হোসনে মোবারক রিয়াদ, মো. খোরশেদ, মো. সেলিম, মো. ইসমাঈল, সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, মো. হাসান, শওকত খান রাজু, তাজ উদ্দিন তাজু, ইলিয়াছ খান, এ জে এম সোহেল, হাবিবুল্লাহ খান রাজু, সারোয়ার হোসেন, মো. রাশেদ, মুশফিকুর রহমান নয়ন, থানা যুবদলের সি: যুগ্ম আহবায়ক আবদুল জলিল, মো. ইয়াছিন, সাইফুল আলম রুবেল, খালেদ সাইফুল্লাহ, সাজ্জাদ আহমেদ সাদ্দাম, মো. সোহেল, ইউনুছ মুন্না, সফিকুর রহমান, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, এস এম আলী, মো. আকতার, মোহাম্মদ ইউনুছ, মো. সাইফুল আলম, মো.মুজাহিদ, বাদশা আলমগীর, মনসুর আলম, জহিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাসান, মো. সাদেক, আবু বক্কর বাবু, মো: আবু তৌহিদ, মো. জাবেদ, মো. শাহবাজ, মো. সাইফুল ইসলাম, রাসেল খান, দেলোয়ার হোসেন ও আবদুল্লাহ আল ফিরোজ টিপুসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।