খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাষা আন্দোলন বর্তমান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু ভাষার মধ্যে দিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না: নোমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
ভাষা আন্দোলন বর্তমান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু ভাষার মধ্যে দিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না: নোমান

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী জনাব আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ভাষা আন্দোলন বর্তমান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু ভাষার মধ্যে দিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ৪৮ সাল থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এর বিরুদ্ধে এদেশের মানুষ আন্দোলন শুরু করে। এরপর থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার জন্য আন্দোলন তীব্রতা কে তীব্র হয়।পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত আন্দোলনকে থামানোর জন্য তৎকালীন পাকিস্তানি পাক-হানাদার বাহিনী একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা সৈনিকদের উপর গুলিবর্ষণ করলে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ অনেকেই প্রাণ হারায়। আজ আমরা তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান একুশে ফেব্রুয়ারি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছি। এটা আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিশ্বের কোন দেশ নেই যে ভাষা প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে। একমাত্র বাঙালি জাতিকে ভাষার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে।

তিনি আজ সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আন্তর্জা‌তিক মার্তৃভাষা দিবস উপল‌ক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএন‌পির আ‌লোচনা সভা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হো‌সে‌নের সভাপতিত্বে সদস‌্য সচিব আবুল হা‌শেম বক্কর এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আব্দুল্লাহ-আল নোমান আরো বলেন, বর্তমান একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মাঝে এসে জনগণের যে রাষ্ট্র ৭১ সালের মুক্তির সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এদেশ। বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা ছিনিয়ে নিয়েছে। জনগণের সকল অধিকার খর্ব করেছে। জনগণ সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিএনপি ১০ দফা দিয়েছে। ২৭ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা দিয়েছে। এ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। এই সরকারের নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না।বর্তমানে এদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন চাই। জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে আছি রাজপথে থাকবো। এই সরকারের পতনের মাধ্যমে জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলন, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১/১১ মঈন-ফখরুদ্দিন সরকার বিরুদ্ধে যে আ‌ন্দোলন সর্বোপরি বর্তমান ফ‌্যা‌সিষ্ট আওয়ামী সরকা‌রের বিরু‌দ্ধে আ‌ন্দোলন, সব‌কিছুর মূলমন্ত্র জনগ‌ণের অ‌ধিকার আদা‌য়ের আ‌ন্দোলন। আমার অ‌ধিকার আমার দেশ, সে অ‌ধিকার আদা‌য়ের জন‌্য আমরা সংগ্রাম কর‌ছি। বায়ান্ন সা‌লে আমারা ভাষার জন‌্য সংগ্রাম ক‌রে‌ছি, একাত্তর সা‌লে আমারা মু‌ক্তি‌যোদ্ধ ক‌রে‌ছি মানু‌ষের সাম‌্য, ন‌্যায় বিচার ও গণতা‌ন্ত্রিক অ‌ধিকার প্রতিষ্ঠার জন‌্য। যে স্বপ্ন নি‌য়ে মু‌ক্তি‌যো‌দ্ধের মাধ‌্যা‌মে যে স্বাধীনতা অ‌র্জিত হ‌য়ে‌ছে স্বাধীনতা পরব‌র্তি সে কাংঙ্খিত সুফল জনগন এখনো পায়‌নি। আজ‌কে আমরা রাষ্ট্র মেরাম‌তের ২৭ টি প্রস্তাবনার কথ বল‌ছি, রেইন‌বো ন‌্যাশ‌ানের কথা বল‌ছি। এই‌টি বাংলা‌দেশী জাতীয়তাবা‌দের মর্ডান সংস্ককরন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিমুদ্দিন বলেন, এই সরকার নির্যাতন নিপীড়নের মাধ্যমে দেশ শাসন করছে। আন্দোলন ছাড়া এ সরকারের পতনের কোন বিকল্প নেই।সমস্ত রাজনৈতিক দল ও মতকে নিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দূর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা তাদের পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএন‌পির সদস‌্য স‌চিব আবুল হা‌শেম বক্কর ব‌লে‌ছেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের যে চেতনা, আওয়ামী লীগ সেই চেতনা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনই ছিল আমাদের জাতিসত্ত্বা নির্মাণের প্রথম ভিত্তি। সেই আন্দোলনের চেতনা ছিল-স্বাধীন, সুস্থ, গণতান্ত্রিক, মুক্তসমাজ নির্মাণ করা। তারই ধারাবাহিতায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলাম। আজকে সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা, চেতনা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, সরকার পতন আন্দোলন বেগমন করতে হবে। এই সরকারের দুর্নীতি- দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এই দেশের মানুষ রাজপথে আছে।আওয়ামী লীগ সমস্ত মানুষের স্বপ্নগুলোকে ভেঙে-চুরে শেষ করে দিয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. সিদ্দিক আহমেদ বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এই দেশ মুক্তি কামি জনতা পাকহানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীন করে প্রমাণ করেছে।আওয়ামী লীগ দে‌শে রাজ‌নৈ‌তিক, অর্থ‌নৈ‌তিক সহ নানামূ‌খি সংকট তৈ‌রি ক‌রে‌ছে।এ সংকট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হলে আরো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম বদরুল আনোয়ার বলেন, যতদিন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে না ততদিন পর্যন্ত এই দেশের নির্বাচন সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব না।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পেশাজীবী নেতা প্রফেসর নজরুল কাদেরী বলেন,একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবসকে সামনে রেখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে।

মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আ‌লোচনা সভা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান,পেশাজীবী নেতা এডভোকেট এসএম বদরুল আনোয়ার, ড. সিদ্দিক আহমেদ, ডা. খুরশিদ জামিল, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি,

কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক এড. আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য হারুন জামান, এড মুফিজুল হক ভূঁইয়া, নিয়াজ মো. খান, এস এম আবুল ফয়েজ, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল,আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো. সিরজ উল্লাহ,মো. কামরুল ইসলাম, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, ম‌হিলা দ‌লের ফা‌তেমা বাদশা, ম‌নোয়ারা বেগম ম‌নি, থানা বিএনপির সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, হাজী বাবুল হক, মোশাররফ হোসেন ডেপটি, আবদুল্লাহ আল হারুন, থানা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, হাজী বাদশা মিয়া, জসিম উদ্দিন জিয়া, মনির আহম্মেদ চৌধুরী, আবদুল কাদের জসিম, জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর ছাত্রদ‌লের আহবায়ক মো. সাইফুল আলম, সদস‌্য স‌চিব শ‌রিফুল ইসলাম তু‌হিন প্রমূখ।

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’