খুঁজুন
, ,

দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্তম্ভিত করে ধর্মশালায় ডাচ রূপকথা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 18 October, 2023, 12:22 am
দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্তম্ভিত করে ধর্মশালায় ডাচ রূপকথা

ধর্মশালা থেকে অ্যাডিলেডের দূরত্ব কত হতে পারে? দূরত্ব যতই হোক দুটি শহরকে আজ যেন একসূতোয় গাঁথল নেদারল্যান্ডস। প্রায় বছর খানেক আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্তম্ভিত করে ম্যাচ জিতেছিল ডাচরা। এবার ফরম্যাটটা ভিন্ন। কিন্তু ফলাফলটা একই। ১২ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ধর্মশালায় রূপকথা লিখল ডাচরা। অথচ প্রোটিয়ারা আগের দুই ম্যাচে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়াকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানদের ঐতিহাসিক জয়ের পর আরেকটি বড় অঘটনের সাক্ষী হলো চলতি বিশ্বকাপ।

মঙ্গলবার ধর্মশালার হিমাচল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মাঠে বৃষ্টি বাধায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৩ ওভারে। যেখানে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রান তুলে নেদারল্যান্ডস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৯ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন স্কট এডওয়ার্ডস। জবাবে খেলতে নেমে ৪২ ওভার ৫ বলে ২০৭ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে ৩৮ রানের জয় পায় ডাচরা।

২৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা দেখে-শুনে করেছিলেন টেম্বা বাভুমা ও কুইন্টন ডি কক। আগের দুই ম্যাচে টানা সেঞ্চুরি করা ডিক কক আজ দ্রুতই ফিরেছেন। অবশ্য শুরুটা ভালোই করেছিলেন এই ওপেনার। তবে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। ২২ বলে করেছেন ২০ রান।

ডি কক ফেরার পর বাভুমাও টিকতে পারেননি। ফন ডার মারউইয়ের লেন্থ ডেলিভারীতে লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে প্রোটিয়া অধিনায়কের ব্যাট থেকে এসেছে ৩১ বলে ১৬ রান।

এরপর এইডেন মার্করাম-রাসি ফন ডার ডুসেনরাও সুবিধা করতে পারেননি। দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ফিরেছেন এই দুই ইনফর্ম ব্যাটার। তাতে দলীয় অর্ধশতক পূরণের আগেই টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারিয়ে ধুঁকছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

দলকে এমন অবস্থা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ডেভিড মিলার ও হেনরিখ ক্লাসেন। তবে ২৮ রান করে ক্লাসেন ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি। এরপর মিলারকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি মার্কো জানসেন। এই অলরাউন্ডার ৯ রান করে ফিরেছেন।

বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনেও এক প্রান্তে সাবলীল ছিলেন মিলার। তবে ৩১তম ওভারে এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ডাচরা। ফল ভেকের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫২ বলে ৪৩ রান। এরপর জেরাল্ড কোয়েটজে চেষ্টা করেছেন। তবে তার ২২ রানের ইনিংস কেবলই ব্যবধান কমিয়েছে।

এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে দলীয় ২২ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে ৮২ রানেই ৫ উইকেট হারায় তারা। তবে ব্যাটারদের আসা যাওয়ার মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। প্রোটিয়া বোলারদের চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে দলকে টেনে তুলেছেন একাই।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৪৩ ওভার শেষে ৮ উইকেট ২৪৫ রানে থামে নেদারল্যান্ডস। শেষ দিকে ৯ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন আরিয়ান দত্ত। এছাড়া ১৯ বলে ২৯ রান করেন রোয়েলফ ভ্যান ডের মেরওয়ে। ২৫ বলে ২০ রান করেন তেজা নিদামানুরু।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন লুঙ্গি এনগিদি, কাগিসো রাবাদা ও মার্কো জানসেন। তাছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন জেরাল্ড কোয়েটজে ও কেশব মাহারাজ।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।