খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোহলির সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে হেসেখেলে হারালো ভারত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৩, ১০:২০ অপরাহ্ণ
কোহলির সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে হেসেখেলে হারালো ভারত

বিরাট কোহলি যখন ৯৭ রানে অপরাজিত, ভারতের জয়ের জন্য দরকার মাত্র ২ রান। ম্যাচ তো ভারতের পক্ষে চলে গেছে অনেক আগেই। পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা, কোহলি কি পারবেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৮তম সেঞ্চুরি করতে?

কোহলি পারলেন। সেটাও আবার ছক্কা হাঁকিয়ে। ভারত ম্যাচ জিতলো হেসেখেলে, ৭ উইকেট আর ৫১ বল হাতে রেখে। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর টানা তৃতীয় ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ-ভারত লড়াই, গত কয়েক বছরে আলাদা মাত্রা পেয়েছে। এই তো গত এশিয়া কাপেও ভারতকে হারিয়েছিল টাইগাররা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে একবারই ভারতবধ করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। সেটাও ১৬ বছর আগে, ২০০৭ সালে।

এরপর আর সাফল্য ধরা দেয়নি। দিলো না এবারও। বরং এশিয়া কাপে ভারতকে হারানোর পর এবার যতটুকু লড়াই আশা করা গিয়েছিল, তার ছিঁটেফোঁটাও দেখাতে পারেনি টাইগাররা।

ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ২৫৭ রানের। ব্যাটিং শক্তিতে বলীয়ান দলটিকে এই লক্ষ্যে একদমই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ প্রথম উইকেটে ৯৩ রান তুলেছিল। ভারত ওপেনিং জুটিতে তোলে ৮৮ রান। অবশেষে শুভমান গিল আর রোহিত শর্মার ভয়ংকর হয়ে উঠা এই জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ।

হাসানকে ডিপ স্কয়ার লেগে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হন রোহিত (৪০ বলে ৪৮)। মাত্র ২ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি রোহিত। তবে অপর ওপেনার গিল ঠিকই ফিফটি ছুঁয়েছেন।

যদিও ফিফটির পরপরই গিলকে আউট করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডিপ মিডউইকেট বাউন্ডারিতে মাহমুদউল্লাহ নিয়েছেন দারুণ এক ক্যাচ। ৫৫ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে ৫টি চার আর ২টি ছক্কা হাঁকান গিল। ১৩২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ভারত।

শ্রেয়াস আয়ার সেট হয়ে আউট হয়েছেন। মিরাজের বলে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৫ বলে করেন ১৯ রান। ১৭৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে সহজ জয় তুলে নেয় ভারত। ৯৭ বলে ৬ চার আর ৪ ছক্কায় ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি।

এর আগে মাহমুদউল্লাহর শেষের ঝড়ে ভর করে ৮ উইকেটে ২৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ যখন ক্রিজে এসেছিলেন, ১৭৯ রানে ৫ উইকেট নেই টাইগারদের। সেখান থেকে দেখেশুনে এগোলেন। শেষের দিকে তো ব্যাট হাতে ঝড়ই তুললেন রিয়াদ।

৩৬ বলে ৪৬ রানের ইনিংসে হাঁকালেন তিনটি করে চার-ছক্কা। মাহমুদউল্লাহর এই শেষের চেষ্টা আর তানজিদ তামিম আর লিটন দাসের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ভারতের বিপক্ষে আড়াইশোর্ধ্ব পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নেই। বাংলাদেশ কেমন করবে এমন একটা শঙ্কা ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। এমন যখন পরিস্থিতি, তখন টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

পুনেতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার লিটন দাস এবং তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৬৩ রান তুলে ফেলেন ছোট তামিম এবং লিটন দাস। ১০ম ওভারে শার্দুল ঠাকুরকে টানা দুটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারি মারেন তানজিদ তামিম।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ে অন্যতম অবদান রেখেছিলেন তানজিদ তামিম। দারুণ সম্ভাবনাময়ী ব্যাটার। কিন্তু জাতীয় দলে জায়গায় পাওয়ার পর কেন যেন নিজেকে মেলেই ধরতে পারছিলেন না। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেকেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি।

এরপর আরও ৭ ম্যাচে সুযোগ দেয়া হয়েছিলো তাকে; কিন্তু খোলস ছেড়ে বের হতেই পারছিলেন না তিনি। সর্বোচ্চ রান ১৬। এমন পরিস্থিতিতে তানজিদ তামিমকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে মেহেদী হাসান মিরাজকে মেকশিফট ওপেনার হিসেবে খেলানোর দাবিও উঠেছিলো জোরালোভাবে।

কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট তার ওপরই আস্থা রাখছিলো। শেষ পর্যন্ত সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ভারতের বিপক্ষে পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রীতিমত ঝড় তোলেন তানজিদ হাসান তামিম।

ভারতীয় বোলারদের পিটিয়ে ৪১ বলেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ওপেনার। ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মারও মারেন তিনি। তবে ঝোড়ো ফিফটি করার পর কুলদিপ যাদবের এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। ৪৩ বলে তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান।

এরপর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি শান্ত। ১৭ বলে ৮ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ আউটে ফেরেন তিনি।

প্রমোশন পেয়ে চার নম্বরে আসা মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যর্থ। ১৩ বলে ৩ রান করে তিনি মোহাম্মদ সিরাজের লেগ সাইডে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মেরে বসেন। ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুল। ১২৯ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর লিটন দাস ফিফটি করে সাজঘরে ফেরেন। জাদেজাকে লংঅফে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন লিটন। ৮২ বলে ৭ বাউন্ডারিতে করেন ৬৬ রান। ১৩৭ রান তুলতে হারায় ৪ উইকেট।

সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৫৮ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম। যদিও এই জুটিতে মূল অবদান মুশফিকেরই। হৃদয় ভীষণ ধীরগতিতে ব্যাটিং করেছেন।

মন্থর ব্যাটিং করে যখন সেট হলেন, তখনই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন হৃদয়। ৩৫ বলে ১৬ রান করে শার্দুল ঠাকুরের শিকার হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

মুশফিকুর রহিম ফিরেছেন জাদেজার দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে। বুমরাহর বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাজপাখির মতো এক ক্যাচ নেন জাদেজা। ৪৬ বলে মুশফিকের ৩৮ রানের ইনিংসটিতে ছিল একটি করে চার-ছক্কার মার।

নাসুম আহমেদ ১৮ বলে ১৪ করে শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহকে ভালো সঙ্গ দেন। আর ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকান শরিফুল ইসলাম (৩ বলে ৭)।

ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ আর রবীন্দ্র জাদেজা নেন দুটি করে উইকেট।

Feb2

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।

সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করব

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে ‘ইয়াসিন বাহিনী’র একদল সন্ত্রাসী যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে এবং বুলডোজার দিয়ে একটি নির্মাণাধীন ক্যাম্পের দেয়াল ভেঙে দেয়।

সোমবার (২৫ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরের ফের হামলার এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এসময় তিনি ঘটনাটিকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য হারাতে বসা সন্ত্রাসীদের ঝাঁকুনি বলে অভিহিত করেন।

এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘এই জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের একটা বড় স্বার্থের এবং ইন্টারেস্টের জায়গা। এগুলো প্রতিটা টাকার বিষয়। কোটি কোটি টাকার বিশাল এ সাম্রাজ্য যখন তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন হাতছাড়া হওয়ার আগে তারা একটা ঝামেলার দিকে যাচ্ছে। তারা যতই ঝামেলার দিকে যাক, আমরা প্রতিহত করতে চেষ্টা করব।’

এসময় তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছে। সামনে প্রয়োজনে আরও বেশি পরিমাণে ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং সে অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

হামলার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত ইয়াসিন নামের ওই ব্যক্তির বিষয়ে এসপি বলেন, ‘এই ইয়াসিন নামের ব্যক্তিটি সম্প্রতি এখানে তৎপরতা শুরু করেছে। আমাদের মনে হচ্ছে, ওর ব্যাকগ্রাউন্ড বা ওর পেছনে কেউ থাকতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই জনপদে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একে যেন আবার দেশের ভেতরে আরেক দেশ বা কোনো রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র না বানানো হয়, তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশমুখের অন্তত চারটি রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তবে সেই বাঁধা উপেক্ষা করেই ভোররাত থেকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকাটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ১৫ থেকে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় সদ্য স্থাপন করা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ শুরু করে সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে হামলাকারীরা এস্কেভেটর ও বুলডোজার দিয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত করে। এতে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্পের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয় তারা। আগামী ঈদের পর ক্যাম্পটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা ছিল।

সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়লে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এভাবে গুলিবিনিময় চলে। তবে প্রধান সড়কগুলো কেটে ফেলার কারণে যৌথবাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্সকে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। ফলে হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমি দখল করে ভূমিদস্যু ও বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নিজস্ব রাজত্ব চালিয়ে আসছিল। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এখানে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর গত ৯ মার্চ যৌথবাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য অভিযান চালিয়ে এলাকাটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর সেখানে স্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ করা হলেও তা ভেঙে দেয় সন্ত্রাসীরা। তাদের আধিপত্য ফিরে পেতে এই দুঃসাহসিক হামলা চালায় তারা।

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।