খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলকে ‘মিস’ করছেন ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
মির্জা ফখরুলকে ‘মিস’ করছেন ওবায়দুল কাদের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলে থাকায় বাকযুদ্ধের জবাবের অনুপস্থিতি উপলব্ধি করছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি।

কারাগারে থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করছেন কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘না… থাকলে ভালো হতো। এই যে… মানে এটা… এমন একটা বিষয় যে কথাবার্তার মধ্য দিয়ে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা। এতে গণতন্ত্রই লাভবান হয়। এখন এখানে আইনের ব্যাপার যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তো করণীয় কিছু নেই, থাকলে ভালো হতো। উনি আমার কথার জবাব দেন, আবার আমি তার কথার জবাব দিই। এটা তো এক ধরনের… এটা একটা ইন্টারেকশন এক্সচেঞ্জ। এটা একটা ফাইন এক্সচেঞ্জ।’

‘আমি অভ্যাসগতভাবে মিস করা বলি, ঐভাবে বলতে চাই না। আমি বলছি, উনার সঙ্গে প্রতিদিনই যে কথাবার্তা, যে কাউন্টার হয়। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনিও আক্রমণ শানিত করেন। তো সেটার জবাব দিতে ভালো লাগে। আক্রমণ শানিত করলে তার সঠিক উত্তরটাও আমাদের দিতে হয়। সেদিকটা অবশ্যই এখন অনুপস্থিত। এটা ঠিক। মিস-টিস এগুলা বলতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি কোন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, এটা আমাদের প্রশ্ন। এটা নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্র। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে নাশকতার মাধ্যমে বানচাল করা।’

‘আজ তারা গভীর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, তারা কিছু প্ল্যান তৈরি করে রেখেছে, তারা চায় গুপ্ত হামলা, গুপ্ত হত্যা। আজ বাসে আগুন দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি– এসব অপকর্ম বিএনপির দোসররা করতে চায়। এর জন্য আমরা সতর্ক পাহারা আরও জোরদার করেছি।’

বিএনপির নাশকতা প্রতিরোধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থারও দায়িত্ব আছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এ নির্বাচন আমাদের সফল করতে হবে, শান্তিপূর্ণ করতে হবে। ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।’

‘এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য সমমনা সবার সঙ্গে আমরা বসছি, আলাপ আলোচনা করে যাচ্ছি। দেশের মানুষকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখার চক্রান্ত করছে বিএনপি। এর মধ্যেই ব্যাপক ভোটার উপস্থিত করতে হবে। তারা যতই নাশকতা করুক, মানুষ নির্বাচনমুখী, মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ। উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যরা ভেবেছিল বড় দল নেই, নির্বাচনের পরিবেশ ম্লান হয়ে যাবে, ভোটে জাগরণের ঢেউ থাকবে না। নির্বাচন কেন্দ্রিক উৎসবমুখর পরিবেশ অব্যাহত রয়েছে। ৭ জানুয়ারি ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিতে ভালো নির্বাচন হবে।’

কাদের বলেন, ‘আমরা এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও পারফেক্ট করব, আমাদের গণতন্ত্র বিকাশমান। পৃথিবীর কোথাও গণতন্ত্র পারফেক্ট নয়। আমাদের ত্রুটিবিচ্যুতি যাই আছে, এসব দূর করে আমরা গণতন্ত্রের পথকে আরও মসৃণ করব।’

জোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘জোট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের শঙ্কা, গুজব আছে। আমরা সতর্ক আছি। গুজব, গুঞ্জন, সন্ত্রাস, সহিংসতা আমাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না। আমরা বিচলিত হব না, আমরা সব জেনে শুনেই নির্বাচনে।’

‘নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে, আমাদের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই। নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচন বিরোধী অপতৎপরতার জবাব দেব।’

জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমাদের তারা তো বলেছে, তারা নির্বাচনে আছে, জোটে থাকতে চায়। তারা তো সরে যাবে বলেনি। সরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে, এটা নিয়ে আমরা আরও নিশ্চিত হতে চাই। ১৭/১৮ তারিখ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি। অস্বস্তির কিছু নেই।’

‘এটাও আমাদের আরেকটা নতুন অভিজ্ঞতা, কি হবে জোট প্রার্থী যারা হবে, সেখানে স্বতন্ত্র আছে।’

দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাহস দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উঠিয়ে দিতে পারব না। এখন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে। আমরা তো জোর করে বসিয়ে দিতে পারি না। এখানে আপস করার সুযোগ নেই।’

বিএনপি নেতা রিজভীকে উদ্দেশ করে কাদের বলেন, ‘এই যে বিএনপির বর্তমান অনাবাসিক প্রতিনিধি রিজভী আহমেদ ১০-১২ জন লোক নিয়ে বের হয়। কি করে, অসুস্থ একটা লোক। রিজভীকে দেখেও আমরা না দেখার ভান করি।’

জামায়াত-বিএনপি শেষ পর্যন্ত কি করতে পারে বলে মনে করেন– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে তারা এক মোহনায় একাকার হবে। বিএনপি মানে জামায়াত, আর জামায়াত মানে বিএনপি। দুঃখ হয়, বিএনপির বি টিম জামায়াত থেকে ক’দিন পর জামায়াতের বি টিম হয়ে যাবে বিএনপি।’

এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সদস্য মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক সামসুন্নাহার চাঁপা, উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আওয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।