খুঁজুন
বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের সীমান্তে খাসিয়ার গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
সিলেটের সীমান্তে খাসিয়ার গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে লাকড়ি আনতে গিয়ে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি দুই যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকজন। গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের কালাইরাগ সীমান্তের নাজিরেরগাঁও (১২৫২ নং পিলার) এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের কালাইরাগ গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে আলী হোসেন (৩২) ও মৃত সুন্দর আলীর ছেলে কাওসার আহমদ (৩০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই যুবকরা সীমান্ত পেরিয়ে প্রায়ই ভারতে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে আসেন। গতকাল সকালেও তারা ভারতে গিয়েছিলেন লাকড়ি আনতে। বিকেল ৩টার দিকে খবর আসে, খাসিয়ার গুলিতে মারা গেছেন আলী হুসেন ও কাউছার আহমদ। একটু পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরে আসেন নবী হুসেন।

উত্তর রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ফখরুল মিয়া বলেন, দুই যুবকের লাশ নাজিরেরগাঁও কারবালারটুক সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকতে দেখিছি। এ ঘটনা নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফ পতাকা বৈঠক করেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি গোলাম দস্তগীর বলেন, ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বিজিবির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা লাশ দেশে আনতে কাজ করছে। লাশ দেশে আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪৮ বিজিবির কালাইরাগ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে বিজিবি সদস্যরা যাচ্ছেন।

Feb2

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।

মা-বাবাকে ভুলিয়ে দেওয়া ‘সফলতা’ আমাদের প্রয়োজন নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মা-বাবাকে ভুলিয়ে দেওয়া ‘সফলতা’ আমাদের প্রয়োজন নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

রাজধানীর মিরপুরে উচ্চশিক্ষিত তিন সন্তানের জননী নুরজাহান বেগমের (৭২) পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি বিবেকবান মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সন্তানেরা বুয়েট শিক্ষক, যুগ্মসচিব ও কানাডা প্রবাসী হওয়ার পরও শেষ বয়সে মায়ের এমন করুণ পরিণতিতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, “সাত-আট দিন আগে যে বৃদ্ধা মরে পচে গেছেন, তার এক ছেলে বুয়েট শিক্ষক, আরেকজন যুগ্মসচিব, অন্যজন কানাডা-প্রবাসী। বাবার-মা সন্তানকে যে সফলতার স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, তাদের তিন ছেলেই সেই চূড়া স্পর্শ করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে মা বেঁচে আছেন না মরে গেছেন, সেই খোঁজ নেওয়ার সুযোগটুকুও সন্তানদের হয়নি।”

বস্তুগত সফলতার অসারতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, “যে সফলতা বাবা-মার ভালোবাসাকে ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময় মায়ের মাথার কাছে এক আঁজলা পানি নিয়ে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।”

তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দীন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যতদিন আমরা শুধু বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, ততদিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে। আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।”

রোববার (১ জুন) গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, প্রায় সাত থেকে আট দিন আগেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ না নেওয়া এবং পারিবারিক চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে মর্যাদাপূর্ণ বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, তিনি বিশ্বমঞ্চে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নয়, বরং সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিজের দায়িত্বকালীন সময়ে সকল সদস্য দেশকে সমানভাবে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত কোনো মতামতকে তিনি প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) হিসেবে নিজের পেশাগত কাজে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করতে দেবেন না।

মঙ্গলবার (২ জুন) আন্তর্জাতিক এই নির্বাচনে জয়লাভের পর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রদত্ত এক আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে পরাজিত করে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান লাভ করেন ৯৯টি ভোট এবং তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেজ কাকাউরিস পান ৯১টি ভোট। ফলে ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পেছনে ফেলে গৌরবময় এই জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। আগামী এক বছর অর্থাৎ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনজুড়ে তিনি এই সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।

জাতিসংঘের ওপর বিশ্ববাসীর আস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি তাঁর বক্তব্যে ছয়টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে এসে তার নবম দশকে পদার্পণ করছে, যখন বিভিন্ন দিক থেকে এই বিশ্ব সংস্থার কার্যকারিতা ও আস্থার জায়গাটি বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন। যে সংস্থার মূল লক্ষ্যই ছিল পরবর্তী প্রজন্মকে সংঘাত আর যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা, বর্তমান সময়ে এসেও সেই যুদ্ধ ও সংঘাত বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মুখে ফেলছে।

খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, বহুপাক্ষিকতা যখন নানাবিধ প্রতিকূল চাপের মুখে রয়েছে এবং আর্থিক সংকটের কারণে সংস্থাটি তার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই এই বৈশ্বিক সংকটগুলো দৃশ্যমান হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নিজের কাজের প্রতি সম্পূর্ণ একাগ্র থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিশেষ করে জাতিসংঘে যেসব দেশের প্রতিনিধিদল বা মিশন আকারে ছোট, তাদের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করাকে তিনি নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবেন বলে জানান।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, আগামী অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তিনি তাঁর ভিশন স্টেটমেন্ট বা দূরদর্শী ইশতেহারে উল্লিখিত প্রধান ছয়টি অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করবেন। এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিতকরণ; জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ; মানবাধিকার রক্ষা, মানবিক কর্মকাণ্ড, শরণার্থী ও অভিবাসী ইস্যু পরিচালনা; ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য বহুপাক্ষিকতা, ইউএন ৮০ সংস্কার ও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।