খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘লন্ডভন্ড’ ঢাকা, মোড়ে মোড়ে সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
‘লন্ডভন্ড’ ঢাকা, মোড়ে মোড়ে সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল রাজধানী ঢাকা। দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ১৯৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে (সূত্র প্রথম আলো)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার রাতে (১৯ জুলাই) ঢাকাসহ সারাদেশে কারফিউ জারির পাশাপাশি সেনা মোতায়েন করে সরকার।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয় ১ জুলাই। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পরদিন থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৮ থেকে ২০ জুলাই—এই তিন দিনে সবচেয়ে বেশি হতাহত হয় এবং ৮৯টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি, সেতু ভবন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে।

বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন পুলিশ বক্সটি যেন ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। ভেতরে থাকা চেয়ার-টেবিল, খাতাপত্রসহ সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এমনকি আন্দোলনের সময় দেওয়া আগুনে অন্তত ১০-১৫টি পুলিশের মোটরসাইকেল, একাধিক পুলিশ ভ্যান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বক্সটির পাশেই কিছু পুলিশ সদস্য বসে থাকলেও তারা আতঙ্কে আছেন, কখন যেন ভেঙে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ বক্সটি।

জানা গেছে, কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের শাটডাউন কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি ও একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী মৃত্যুর খবরে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা৷ আগুন নেভাতে খিলগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে পানিবাহী গাড়ি বের হলে রাস্তায় গাড়িটি আটকে দেয় উত্তেজিত জনতা। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের মারধর করে গাড়িটিকে স্টেশনে ফিরে যেতে বাধ্য করে।

এতে রাষ্ট্রায়ত্ত এই টেলিভিশনটির একাধিক গাড়ি, ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বেলা পৌনে ৩টায় আগুনের সূত্রপাত হলেও রাত ৯টার দিকেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস বা কোনো উদ্ধারকারী বাহন। ফলে প্রায় ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় টেলিভিশনটি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই যেন শুধু তান্ডবের ক্ষতচিহ্ন।

রামপুরা-মালিবাগ এলাকায় গিয়েও পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞের দেখা পাওয়া যায়। গতকাল পর্যন্ত মালিবাগ রেলগেট থেকে আবুল হোটেল হয়ে রামপুরা পর্যন্ত মূল সড়কে গত কয়েক দিনের আন্দোলন ও সংঘর্ষের বিভিন্ন ক্ষতচিহ্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। সড়কের পাশে কোথাও উপড়ে ফেলা রোড ডিভাইডার, ইটের টুকরা ইত্যাদিও পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

রামপুরা এলাকার টিভি রোডের বাসিন্দা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বেলা পৌনে ৩টার দিকে সর্বপ্রথম বিটিভিতে আক্রমণ শুরু হয়। এসময় ক্যান্টিনের সামনের একটি গাড়িতে আগুন ও ক্যান্টিন ভাঙচুর করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলনের পক্ষে এবং বিভিন্নস্থানে পুলিশের গুলিতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। এরপর দলে দলে আরও শিক্ষার্থী আসতে থাকেন, এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে ভয়ে-আতঙ্কে দৌড়ে তিনি বাসায় চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সেদিন রামপুরায় পুলিশ ছাত্রদের ওপর প্রথম গুলি ছুড়ে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা ও গুলির খবর শোনার পর ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়কে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় রামপুরায় অবস্থান করা পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর গুলি চালায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপরই আশেপাশের স্থানীয় মানুষ আর ছাত্ররা রামপুরার দিকে দৌড়ে আসে, এসময় পুলিশের গুলিতে আরও কয়েকজন আহত হন। এক পর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

মালিবাগ এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, আন্দোলনে এই এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা ছিল। যে কারণে তাদের সংখ্যা বেশি থাকায় সেদিন পুলিশ অনেকটাই কোণঠাসা ছিল। শুরুতে পুলিশ গুলি করলেও এক পর্যায়ে তারা পিছু হটে এবং শিক্ষার্থীরা পুরো রামপুরা-মালিবাগ এলাকা দখল নেয়। গত ১৭ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৫দিন রামপুরা এলাকায় কোন পুলিশ বা অন্যকোনো বাহিনী ঢুকতে পারেনি।

মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে অধিদপ্তরের পুরো ১০ তলা ভবন পুড়ে গেছে। ভবনের নিচে জেনারেটর, সার্ভার স্টেশনসহ সম্পূর্ণ ফ্লোরই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত ১৮ জুলাই মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে একটি পানিবাহী গাড়ি, একটি ইঞ্জিনবাহী গাড়ি এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সবাহী গাড়ি রওনা হয়। উত্তেজিত জনতা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি আটকে ভাঙচুর করে।অ্যাম্বুলেন্সটি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন।

এর পরদিনই (১৯ জুলাই) মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি আগুনের ঘটনায় পানিবাহী ও পাম্পটানা গাড়ি দুটি ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

মহাখালী এলাকার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ১৮ জুলাই মহাখালীর আমতলী মোড় থেকে বীর উত্তম একে খন্দকার সড়কে আন্দোলনকারী একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসে। তারা তিতুমীর কলেজের আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনের সামনে এসে ইটপাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি সড়কে এবং ভবনটির প্রবেশপথের সামনে থাকা কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পাশে থাকা গাড়িগুলোতে আগুন ধরে যায়। আধা ঘণ্টা জ্বলার পর আগুন ওই ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাঝে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ৫০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত হবে তা জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল ওয়াদুদ গণমাধ্যমকে বলেন, আগুনে ভবনের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার পুড়ে গেছে, যেখান থেকে সারা দেশে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশে যেকোনো দুর্যোগ হলে এখান থেকে ত্রাণ বা সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়াও ভবনের সামনে ও পার্কিংয়ে অধিদপ্তরের ৫৩টি গাড়ি এবং ১৩টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতি অন্তত ৫০০ কোটির বেশি হবে।

এদিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ডিজি ড. জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে আমরা আশঙ্কা করছি কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি তো হবেই। তারা বিটিভির কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে, ক্যামেরাসহ অনেককিছুই পুড়িয়ে দিয়েছে। অনেক যন্ত্রপাতি লুটপাটও করেছে। স্পেসিফিক ক্ষতির পরিমাণ বের করতে হলে তো আমাকে তালিকা করতে হবে। তারপরও আমি ক্ষতির পরিমাণটা নির্ধারণ করতে পারব না।

তিনি বলেন, ছাত্ররা আমাদের ১৭টি গাড়ি পুড়িয়েছে, ৯টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে, দুইটি সম্প্রচার ভ্যান পুড়ানো হয়েছে। এছাড়াও আগুনে বিল্ডিংয়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবমিলিয়ে ভয়াবহ একটা হামলা ও অগ্নিকাণ্ড বিটিভিতে হয়েছে, যেই পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে তুলে ধরাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।