খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘উপদেষ্টাদের সহকারী হিসেবে কাজ করবে শিক্ষার্থীরা’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০২৪, ৮:১১ অপরাহ্ণ
‘উপদেষ্টাদের সহকারী হিসেবে কাজ করবে শিক্ষার্থীরা’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সহকারী বা অন্য কোনোভাবে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালগুলোতে যাতে তদারকি ও বক্তব্য রাখার সুযোগ থাকে তাই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে, এটি কীভাবে হবে সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে সব মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের সিস্টেম অনেকখানি ভেঙে পড়েছে। জনগণ ও প্রশাসন একসাথে কাজ করলে দেশকে গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞ ও দক্ষদের উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমরা দুইজন উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছি। পাশাপাশি আরও ছাত্র প্রতিনিধিরা অন্যান্য উপদেষ্টাদের সাথে সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবে।

এর আগে, শুক্রবার অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের মন্ত্রণালয় দফতর বন্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে রয়েছে ২ বিভাগ ও ২৫ মন্ত্রণালয়। এছাড়া, ১৩ জন উপদেষ্টাকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এদিকে, ঢাকার বাইরে থাকায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ডা. বিধান রঞ্জন রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সুপ্রদীপ চাকমা ও মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন জ্যাকপটের উপ-অধিনায়ক ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক উপদেষ্টা হিসেবে গতকাল শপথ নেননি। তারা শপথ নিলে প্রধান উপদেষ্টার অধীনে থাকা দফতর কমতে পারে।

Feb2

অপরাধীর কোনো দল নেই, দলের কেউ অপরাধে জড়ালে আইন হবে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
অপরাধীর কোনো দল নেই, দলের কেউ অপরাধে জড়ালে আইন হবে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী: মীর হেলাল

ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি অপরাধমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকাকে যেকোনো মূল্যে অপরাধমুক্ত করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা—“অপরাধীর কোনো দল নেই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে কেউ জড়িত হলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী পৌরসভা প্রাঙ্গণে অতিদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফ (চাল) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, হাটহাজারীর ইতিহাসে আপনারা আমাকে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করেছেন। আমার দায়বদ্ধতা এই এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতি। আমরা গত ১৭ বছর শুধু ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি ও দুবৃত্তায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনাই ছিল আমাদের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এমপি বলেন, আন্দোলনের দোহাই দিয়ে কেউ যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আইন যেভাবে প্রয়োগ হয়, আপনাদের ক্ষেত্রে তা ১০ গুণ বেশি শক্তিশালীভাবে প্রয়োগ করতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানাব। জনগণের ভোগান্তির কারণ যেন দল বা অঙ্গসংগঠনের কেউ না হন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কোনো তদবির শুনবেন না। অপরাধী যে-ই হোক, আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। যদি আমার কোনো লোক অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করে, তবে সরাসরি আমাকে জানাবেন; আমি তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান, আমরা সেই অভিযাত্রার সহযাত্রী। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে বিশ্বের বুকে পাসপোর্ট হাতে নিয়ে আমরা গর্বভরে বলতে পারব—আমরা বাংলাদেশী। আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই চেতনা ধারণ করতে হবে।

ভিজিএফ চাল বিতরণ শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি হাটহাজারী পৌরসভার শীলছড়ি সড়ক কার্পেটিং উন্নয়ন কাজ ও স্মার্ট এলইডি সড়ক বাতি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ছোট কাঞ্চনপুর সড়কে এইচবিবি নির্মাণ কাজ এবং ফরহাদাবাদ ও ধলই ইউনিয়নে নবনির্মিত সেতু ও কালভার্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে হাটহাজারী উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘হ্যাটট্রিক’ টেস্ট জয় বাংলাদেশের

মিরপুর টেস্টে নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না বাংলাদেশ। সফরকারীদের মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট করে ১০৪ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। তাতেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হাসান শান্ত বাহিনী।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই দুই দশকেরও বেশি সময়ে টানা ১১টি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে মিলেছে প্রথম জয়ের দেখা। দুই ম্যাচের ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারালেন শান্তরা। এটাই ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়।

২৬৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তার করা বলে কটবিহাইন্ড হন ইমাম। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। আর দলনেতা নেতা শান মাসুমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।

৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন ফজল। পরের ওভারেই সালমান আগাকে পরাস্থ করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান।

৫ উইকেট হারিয়ে আরও একবার চাপে পড়ে সফরকারীরা। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা চালান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু তাদের ক্রিজে থিতু দেননি টাইগার পেসার নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এই দুই ব্যাটারই করেন ১৫ করে রান।

এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম।

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের শেষ দুই উইকেট নেন নাহিদ। তাতেই ইনিংসে নিজের ফাইফার তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। মাত্র ৪০ রানের খরচায় পাঁচটি উইকেট নেন তিনি।

এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম। আর একটি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে শান্তর সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরি পাকিস্তান তোলে ৩৮৬ রান। ২৮ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে থেকে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

মেধাবীরা মানবিক হলে পুরো সমাজ উপকৃত হয়: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
মেধাবীরা মানবিক হলে পুরো সমাজ উপকৃত হয়: ডিসি জাহিদ

“মেধাবীরা যখন মানবিক হন, তখন সমাজ ও রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়”— এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, অসুস্থ মানুষ দিয়ে কখনো সুস্থ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসক ও নার্সদের মানবিক সেবা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট ও নার্সিং কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও শিরাবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নার্সিং সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ডা. কামরুন নাহার দস্তগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, ট্রেজারার অধ্যক্ষ ডা. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসক হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন। তিনি বহিঃবিভাগ ও শিশু বহিঃবিভাগে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এনআইসিইউ পরিদর্শনের সময় হেড অব ডিপার্টমেন্ট প্রফেসর ড. ওয়াজির আহমেদের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ জানতে চান। এছাড়া তিনি পিআইসিইউ, এডাল্ট আইসিইউ, ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও অটিজম ইউনিট পরিদর্শন করেন।

ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলা প্রশাসক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অটিজম ইউনিট পরিদর্শনকালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশ দূষণ এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে পিতা-মাতার জেনেটিক পরিবর্তনের কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে আজ প্রথমবারের মতো এই মা ও শিশু হাসপাতালে এসে আমি সত্যিই অভিভূত। এখানে আসার আগে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে যে ধারণা ছিল, এখানে এসে তা পুরোপুরি বদলে গেছে। এত সুন্দর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতা দেখে আমি মুগ্ধ।”

তিনি বলেন, “আমরা সবাই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই বাংলাদেশে নার্সরা মানবতার দেবদূত হিসেবে কাজ করবেন। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হলেও মানবিকতা ছাড়া সেই শ্রেষ্ঠত্বের কোনো মূল্য নেই।”

নার্সিং পেশাকে একটি মহৎ ও মানবিক পেশা উল্লেখ করে ডিসি জাহিদ বলেন, “আমরা মানুষ, আমরা কোনো দানব নই, আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নই। আমরা অসুস্থ হই, আমরা সেবা নেওয়ার জন্যই হাসপাতালে আসি। তখন নার্সরাই হাসিমুখে সেবা দিয়ে আমাদের সুস্থ করে তোলেন।”

তিনি আরও বলেন, “সূর্যের যদি তাপ না থাকে তাহলে যেমন সূর্যের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সমুদ্রের গর্জন না থাকলে যেমন সমুদ্রের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তেমনি মানুষের মধ্যে যদি মানবিকতা না থাকে তাহলে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে আমাদের দাবিও অর্থহীন হয়ে যাবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, রোগীর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক শক্তি ও সাহস ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি ভালো ব্যবহার কিংবা আন্তরিক হাসি একজন রোগীর সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আজ যারা শপথ নিচ্ছেন, তারা যেন সেই শপথের মর্যাদা রক্ষা করেন। সরকারি বা জনসেবামূলক হাসপাতালে আসা অধিকাংশ মানুষই অসহায়। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক দায়িত্বও।”

বিশ্বব্যাপী নার্সিং পেশার চাহিদার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে ইউরোপ ও জাপানে দক্ষ ও মানবিক নার্সের ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বর্তমানে কিডনি রোগ, অটিজমসহ বিভিন্ন জটিল রোগ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, খাদ্যাভ্যাস, পানি ও পরিবেশ নিয়ে অসচেতনতার কারণে নানা রোগ বাড়ছে। এ বিষয়ে সচেতন না হলে ভবিষ্যতে হাসপাতালের বেডই মানুষের জীবনের বড় অংশ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, “প্রতিটি মানুষেরই উচিত প্রতি মাসে অন্তত একবার হাসপাতাল ও কবরস্থানে যাওয়া। তাহলেই আমরা জীবনের প্রকৃত অর্থ ও লক্ষ্য বুঝতে পারব।”

সবশেষে জেলা প্রশাসক বলেন, “এই দেশ আমাদের। সীমাবদ্ধতা থাকলেও সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের পোশাক নয়, আমাদের কাজই হবে আমাদের প্রকৃত পরিচয়।”

এর আগে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। পরে নবাগত শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়।