খুঁজুন
, ,

মুশফিক-মিরাজ ঝড়ে কুমিল্লাকে বিদায় করে প্লে-অফে খুলনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 January, 2020, 11:39 pm
মুশফিক-মিরাজ ঝড়ে কুমিল্লাকে বিদায় করে প্লে-অফে খুলনা

বিপিএলের চলতি আসরে নিজেদের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে মাঠে নেমছিল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। এই ম্যাচ হেরে এবারের বিপিএল পর্ব শেষ হলো কুমিল্লার। তবে ৯২ রানে ম্যাচ জিতে প্লে-অফ নিশ্চিত করলেও মাত্র ২ রানের আক্ষেপে পুড়তে হলো টাইগার্স দলপতি মুশফিকুর রহিমকে।

এদিন শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে শুরুতে ব্যাট করত নামে খুলনা। দলের হয়ে ইনিংস শুরু করত এসে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। ইরফান হোসেনের বলে আউট হয়েছেন ১ রান করে। এরপর নিজ ব্যাটে ঝড় তুললেও তা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি রাইলি রুশো। ১১ বলে ৩টি ছয়ের মারে করেন ২৪ রান।

এরপরের গল্পটা কেবলি মুশফিক আর মেহেদী হাসান মিরাজের। তৃতীয় উইকেট জুটিতে কুমিল্লার বোলারদের নাস্তানুবাদ করে ছাড়েন দুজন। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে মিরপুরের ভরা গ্যালারীকে আনন্দে ভাসান এ দুই ক্রিকেটার। শুরুতে মাত্র ৩৩ বলে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন মিরাজ। খানিক পর একই পথে হাঁটেন মুশফিকও। ফিফটি পূরণ করতে মুশফিকের লাগে ৩৮ বল।

তবে বিপত্তি বাঁধে ইনিংসের ১৯তম ওভারে। ৭৪ রানে থাকা মিরাজকে ফিরতে হয় পেশিতে টান পেয়ে। মিরাজের সুযোগ না থাকলেও মস্ত বড় সুযোগ পেয়েছিলেন মুশফিক। তবে আজও সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া হয়নি তার।

শেষপর্যন্ত মাত্র ৫৭ বলে ৯৮ রানে অপরাজি থেকে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। ততক্ষণে রান পাহাড়ে চেপে বসেছে খুলনা টাইগার্স। ২০ ওভার শেষে স্কোর বোর্ডে জমা করে ২১৮ রান।

হারলেই বিদায় নিশ্চিত। এমন সমীকরণ নিয়ে ব্যাট করতে নেমেও সুবিধা করতে পারেনি কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। ইনিংসের শুরুর ওভারে কোন রান না করে ফেরেন সাব্বির রহমান। পরে পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে ৪১ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। যার দুইটা শিকার করেন শহিদুল ইসলাম, একটা মোহাম্মদ আমিরের।

এরপর কুমিল্লার হাল ধরার চেষ্টা করেন উপুল থারাঙ্গা ও সৌম্য সররকার। তবে চতুর্থ উইকেটে ২৮ রানের বেশি যোগ কর‍তে পারেননি দুজন। যেখানে আউট হওয়ার আগে থারাঙ্গার ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান। খানিক পর আমিরের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সৌম্য ফেরেন ১০ রান করে।

পরে ইয়াসির আলী ২০ ও ফারদীন ২২ রান ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান সুবিধা করতে না পারলে মাত্র ১২৬ রানে থামে কুমিল্লার ওয়ারিয়র্সের ইনিংস। ফলে ৯২ রানের জয়ে চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করে খুলনা টাইগার্স। এই ম্যাচ হারের ফলে ১২ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ করলো কুমিল্লা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

খুলনা টাইগার্স: ২১৮/২ (২০ ওভার)
মুশফিক ৯৮*, মিরাজ ৭৪, রুশো ২৪; মুজিব ১/১৮, ইরফান ১/৩৮

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: ১২৬/৯ (২০ ওভার)
থারাঙ্গা ৩২, ইয়াসির ২০, ফারদীন ২২; শহিদুল ৩/২৮, বিপ্লব ২/১৯, আমির ২/২৪।

ফল: খুলনা ৯২ রানে জয়ী।

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা আছে, এ বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই: মুহাম্মদ এয়াকুব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 5:36 pm
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা আছে, এ বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই: মুহাম্মদ এয়াকুব

সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানও বর্তমানে তেল আমদানি করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ও জেওসিএল লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব বলেছেন, “তারেক রহমানের সরকার, জনগনের সরকার। জ্বালানী তেলের সংকট নিরসনে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটার সাথে আমরা একমত।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ক্রুড অয়েল আমদানি করে। সেই তেল তারা পরিশোধন করেন। সেই তেলও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মাধ্যমে আমরা বিক্রি করি। অর্থাৎ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল আমদানি এখন চলমান রয়েছে ।”

“দেশের ও জনগনের স্বার্থে সরকার যদি বেসরকারিভাবে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেয়, এখানে আমাদের মতামত হচ্ছে, যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য, দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছেন। তাঁর সে কথার উপর আমাদের আস্থা রয়েছে,” তিনি বলেন।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড (জেওসিএল) কার্যালয় ‘যমুনা ভবনে’র অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি, অস্থায়ী শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ বিভিন্ন দাবীতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে জেওসিলসহ জ্বালানীখাতের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

এই শ্রমিক নেতা বলেন, “দেশের আয়তনের চাইতে জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাই এই জনসংখ্যার মৌলিক অধিকার পুরণ করতে গিয়ে সরকারকে অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। বিশেষ করে জ্বালানী তেলের সংকট নিরসনেরকল্পে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে সেটার সাথে আমরা একমত পোষন করি।”

“যেহেতু তারেক রহমানের সরকার জনগনের সরকার, শ্রমিক বান্ধব সরকার। আমরা মনে করি এমন কোনো কিছু উনি চাপিয়ে দেবেন না, যেটায় এই সেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ হবে, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে,” তিনি যোগ করেন।

এ সময় জেওসিএল এর এই নেতা অভিযোগ করেন, সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল শ্রমিক অধিকার খর্ব করে জ্বালানীখাতকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

সেই লক্ষে, অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদ্যমান ২২টি সুনির্দিষ্ট সুবিধা কর্তনের পাঁয়তারা, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিনামার মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করায় গড়িমসি, জ্বালানীখাতে শ্রমআইনকে শ্রমিকবান্ধবের পরিবর্তে শ্রমিকবিরোধী আইনে পরিণত করার তোড়জোড় চলছে।

শ্রমিক নেতা এয়াকুব বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের নায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলছে। এজন্য নানামুখি উদ্যোগও গ্রহন করা হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানী খাতে এর উল্টোটাই ঘটছে। বিপিসির আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজিসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে শ্রমিকদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর পাঁয়তারা চলছে।”

“শ্রমিক নেতাদের নানাভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের নায্য অধিকার আদায়ের পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টাও হচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা জ্বালানী খাতে শান্তি চায়,” তিনি যোগ করেন।

তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা জানিয়ে দিতে চাই, জ্বালানী খাতে কাউকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা কেবল তাদের নায্য অধিকার চায়। হয়রানী বন্ধ চায়। অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ চায়।’

সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি থেকে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো হলো –

দুই বছর পর পর দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে বিপিসির তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ ১৯ মাস পার হতে চললেও কোম্পানীসমূহের অবহেলা ও গড়িমসির কারণে নতুন চুক্তি করা যাচ্ছে না।

এছাড়া জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত ১৭ জুন বিপিসির আওতাধীন কোম্পানীগুলোর প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬ (খসড়া) প্রণয়ণের নামে শ্রমিক-কর্মচারিদের বিদ্যমান ২২টি সুবিধা কাটছাঁট করতে চাইছে।

একইভাবে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ২ (৬২) ধারায় সংজ্ঞায়িত ‘শিল্প বিরোধ এবং শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ সংক্রান্ত ধারা- ২০৯, ২১০ ও ২১১ রহিতকরণের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারিদের অধিকার আদায়ে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা সিবিএ নেতাদের ক্ষমতা খর্ব করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

আবার খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকেই গত ২৬ জুলাই জারিকৃত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিপিসির পরিচালককে (অপারেশন) আহবায়ক করে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম মনিটরিং এবং জবাবদিহির সুপারিশ চাওয়া স্পর্শকাতর এই খাতের শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে বেশকিছু সংখ্যক শ্রমিক কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শ্রমিক হিসেবে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে খুবই অল্প বেতনে চাকরি করে আসলেও লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

যমুনা অয়েল কোম্পানি লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়ন সভাপতি জসিম উদ্দিন, এলপিজি শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়ন সভাপতি মনির হোসেন, বিপিসির শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক সেলিম কবির চৌধুরী, যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ মন্নান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন হচ্ছে জ্বালানী তেল ও গ্যাসখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের শীর্ষ সংগঠন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সিবিএ সংগঠনগুলো নিয়ে সম্মিলিত এই সংগঠন।

তামিম বললেন ‘তানজিদ বগুড়ার’, প্রধানমন্ত্রীর জবাব ‘ও বাংলাদেশের ছেলে’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 1:49 pm
তামিম বললেন ‘তানজিদ বগুড়ার’, প্রধানমন্ত্রীর জবাব ‘ও বাংলাদেশের ছেলে’

বাংলাদেশ দল যখন অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কলে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন তামিম ইকবাল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি কথোপকথন বেশ আলোচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ ও তানজিদ হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের কর্মব্যস্ততার ফাঁকেই তৎক্ষণাৎ ক্রিকেটারদের সাথে ভিডিও কলে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

তারেক রহমানের বাড়ি বগুড়ায়, তানজিদেরও বাড়ি একই জেলায়। সেই কথাই প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখ করেন তামিম। তানজিদের সঙ্গে তারেক রহমান কথা বলার সময় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হস্তক্ষেপ করে বলেন, ‘ও তানজিদ হাসান, বগুড়ার ছেলে, সেঞ্চুরি করেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিসিবি সভাপতিকে সংশোধন করে দিয়ে বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। সে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, বগুড়াকে না।’

এ সময় ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের স্বাগত জানানোর জন্য। সবার শরীর ভালো আছে তো? একটু (ক্লান্তি) হবে স্বাভাবিক। গরম কেমন ওখানে? ভালো গরম? দেশের মতো? আসেন আপনারা সুস্থভাবে। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

সরকার প্রধান বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল তারা।

বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 1:36 pm
বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, আজকে এখানে যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, এই মাছগুলো যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে, বিভিন্ন খালে-বিলে ঢুকবে, তখন উপকার কাদের হবে? লন্ডনের মানুষের উপকার হবে নাকি জাপানের মানুষের উপকার হবে? উপকার হবে বাংলাদেশের মানুষের।

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষের কল্যাণ। জনগণ বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপিকে বিজয়ী করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিটাই হচ্ছে এমন একটি রাজনীতি, যেই রাজনীতি বাস্তবায়ন করলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে, গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। এই রাজনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে তারা খাল খননের কর্মসূচি শুরুর কথা বলেছিলেন। সরকার গঠনের পর আল্লাহর রহমতে সারা দেশে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি খালের আশপাশের এলাকার মানুষও পানির সুবিধা পাচ্ছেন।

তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, খালের পানি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। কৃষিতে সেচ সুবিধার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়াতেও এসব জলাশয় কাজে লাগাতে হবে।

তিনি জানান, আজ ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী ও বড় বড় খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে মাছ আহরণের মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সময় নারীদের শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অংশীদার করতে হবে। নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মানুষ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। মাছের পোনা অবমুক্তকরণকে ঘিরে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো.শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।