খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন : নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোট গঠন করলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই চলমান। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে দলটির ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এনসিপির জন্য একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যখন আমরা গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছি, সেই দল একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইলেকশনে অংশগ্রহণ করছে। এখানে কতগুলো বিষয় আসছে যেগুলো পুরো এনসিপির জার্নির সঙ্গে রিলেটেড। আমরা যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু করি, আমরা কতগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ঘোষণাপত্র দিয়ে শুরু করেছিলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের দলের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের যেই চিন্তা বা আদর্শের জায়গাটা, সেটাও গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, আমরা আগস্টে শহীদ মিনারে স্পষ্টত কয়েকটি কথা বলেছিলাম। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত অর্থাৎ আমরা একটা ফ্যাসিবাদী যে সিস্টেম গত ১৬ বছরে তৈরি হয়েছে, গত ৫০ বছরে স্বাধীনতার পর থেকেই যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং যেটার কারণে আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে কখনো পৌঁছাতে পারি নাই।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শেখ হাসিনার সময় বা বিগত রেজিম এদের একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল, আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং আমাদের জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছিল, জুলাইয়ের পরিস্থিতিতে সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নিয়ে এসে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম। এই ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে একটা নতুন বন্দোবস্ত করতে হবে, যে বন্দোবস্তটা বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করবে। এটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ আমাদের জন্য নিশ্চিত করবে। আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য– সেগুলাকে লক্ষ্য করে আমরা জাতীয় মর্যাদা নিয়ে বিশ্বের বুকে দাঁড়াতে পারব। এটা ছিল আমাদের প্রাথমিক আকাঙ্ক্ষা। সেই জায়গা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার এবং গত দেড় বছরের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা আজকের পরিস্থিতিতে আছি।

তিনি বলেন, আমরা জোট করার ফলে এই প্রশ্নটা অনেকবার এসেছে। পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের নতুন বন্দোবস্তের যে লড়াই বা যে দাবি নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম, আমরা এখনো সেই দাবিতেই আছি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমত আমাদের লক্ষ্য ছিল যে সাংবিধানিক পরিবর্তন। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে একটা সংস্কারে এসে মধ্যস্থতা হয় কমিশনের মাধ্যমে, সেখানে আমরা আমাদের পরিপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। নতুন বন্দোবস্তের যে আকাঙ্ক্ষাটা সেটা আমরা এখন একটা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে দেখি, দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার মধ্যে অর্জন করতে হবে।

নাহিদ আরও বলেন, আমরা অনেক অপরচুনিটি মিস করেছি কিন্তু এই সময় আমাদের অনেক সম্ভাবনা এবং আমাদের অনেক কিছু অর্জন হয়েছে। ফলে সংস্কারের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি, যেটা নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে এবং আমরা নতুন বন্দোবস্তে সেই লড়াইয়ের দিকে যাব।

তিনি বলেন, এই জোট প্রক্রিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আমাদের এই যে লক্ষ্য নতুন বন্দোবস্তের, পুরোনো দলের সঙ্গে জোট করার ফলে লক্ষ্য থেকে আমরা সরে এলাম কি না। আমরা এটা স্পষ্ট করেছি যে, আমাদের জোটটার ন্যূনতম কিছু রাজনৈতিক জায়গায় ঐকমত্য রয়েছে এবং মূলত এটা নির্বাচনী একটা জোট। এই জোটের নামও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। আমাদের চেষ্টা থাকবে এই জোটের মধ্য দিয়ে আমাদের সংস্কারের যে দাবি, আমরা সেটাকে বাস্তবায়ন করব। আমাদের প্রায়োরিটি আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ কারণে আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে একটা আলাদা ইশতেহার দিচ্ছি, জামায়াতে ইসলামী তাদের একটা ইশতেহার দিয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ২৪ এর প্রজন্ম, একটা নতুন প্রজন্ম আকারে বাংলাদেশে আবির্ভূত হয়েছে। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক জায়গায় আমরা এই প্রজন্মকে কীভাবে কাজে লাগাব। এ কারণে তারুণ্য আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা, সেকেন্ড হচ্ছে মর্যাদা বা ডিগনিটি। কারণ আমরা মনে করি যে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল ডিগনিটি। নাগরিক অধিকার, নাগরিক মর্যাদা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল ফ্যাসিবাদের সময়ে। মানুষের ন্যূনতম মানবাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার আমরা গত ১৬ বছর পাইনি। প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষা ছিল না। ফলে জাতীয় মর্যাদা এবং নাগরিক মর্যাদা এই দুইটা আমাদের প্রধান বিষয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা নাগরিক হিসেবে তার মানব অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করব? আমাদের ন্যাশনাল ডিগনিটির কোশ্চেন যে, আমরা আমাদের জাতি হিসেবে বা রাষ্ট্র হিসেবে জনগোষ্ঠী হিসেবে আমরা কীভাবে মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াব। একটা ডিগনিফাইড কান্ট্রি আমরা গড়ে তুলতে পারব, সেটার জন্য আমরা আমাদের সক্ষমতা, আমরা আধিপত্যবাদ বিরোধিতার কথা বলছি। এটা আমাদের স্লোগান কিন্তু আমি কীভাবে আধিপত্যবাদ বিরোধিতা করব, আমার সঙ্গে এতগুলো পরাশক্তি যারা বাংলাদেশকে ডমিনেট করতে চায়, সেটার একমাত্র সমাধান হচ্ছে আমার নিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, নিজেকে গঠন করা, নিজের অর্থনীতি-রাষ্ট্র সেটাকে আমি আবার কীভাবে তৈরি করব সেটাই আমার ন্যাশনাল ডিগনিটি বৃদ্ধি করবে।

তিনি বলেন, ফলে তারুণ্য এবং মর্যাদাকে প্রায়োরিটি রেখে আমরা আসলে আমাদের এই টোটাল ইশতেহারের জায়গাটা করে তৈরি করেছি। যেটা আমরা আবারো ক্লারিফাই করছি যে এটা কিন্তু আমরা ওভারঅল সবকিছু কাভার করেছি এরকম না। যদি ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করে সে সরকারের অংশীদার হিসেবে আমরা কি কি জিনিসকে মন্ত্রিসভায় প্রায়োরিটি দেব, সংসদে প্রায়োরিটি দেব সেটাকে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে।

Feb2

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: খুলশী থানার ওসি বদলি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: খুলশী থানার ওসি বদলি

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলি করা হয়।

শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

আদেশ অনুযায়ী, খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানকে সিএমপির লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে সিটিএসবিতে কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহেদুল কবিরকে বাকলিয়া থানার ওসি এবং বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ( ১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার চাদগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দুই মাসে এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে আলোচনায় আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা দেশে আজ থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র গ্রহ। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণেই পরিবেশ বিপর্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে একটি সোনালু গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের চাদগাঁও এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৫০ একর জমিতে ১৯ প্রজাতির ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। রোপিত চারার মধ্যে রয়েছে সোনালু, চালতা, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, পলাশ, মহুয়া, কাঞ্চন, আমলকি, অর্জুন, জলপাই, কাঠবাদাম, ঝাউ, হিজল, বহেরা, চিকরাশি ও মেহগনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বন বিভাগের আওতায় প্রায় ১৮ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে ৭ লাখ ৫০ হাজার, দক্ষিণ বন বিভাগে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০, উপকূলীয় বন বিভাগে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১৫ হাজার ২৮৯টি চারা রোপণ করা হবে।

এ ছাড়া সিডিএ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কর্ণফুলী বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৬ হাজার গাছ লাগানো হবে।

গাছের সুরক্ষার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিক সচেতনতা। এই গাছ আমাদের পরিবেশ, জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাকালে আমরা অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজের গাছ মনে করে এসব চারার পরিচর্যা করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারের এই বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি চট্টগ্রামে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।