খুঁজুন
, ,

নতুন টাকা, নতুন জামা, সুস্বাদু ফল—আর এক বিশ্বস্ত কোল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 22 March, 2026, 9:06 pm
নতুন টাকা, নতুন জামা, সুস্বাদু ফল—আর এক বিশ্বস্ত কোল

ঈদের আনন্দ কেমন হতে পারে, গতকাল শনিবার( ২১ শে মার্চ) তার এক নিঃশব্দ অথচ গভীর ভাষা যেন ফুটে উঠল চট্টগ্রামের রউফাবাদ এলাকার সরকারী ছোটমনি নিবাসে।

ঘরটি খুব বড় নয়। দেয়ালে রঙিন আঁকিবুঁকি, কোণে ছোট ছোট বিছানা, কোথাও খেলনা ছড়িয়ে আছে। এই সীমিত পরিসরেই গড়ে উঠেছে কয়েকটি জীবনের নতুন আশ্রয়। যাদের অনেকেরই নেই কোনো নামধাম জানা পরিবার, নেই ডাক দেওয়ার মতো ‘মা’ বা ‘বাবা’। তবু তারা বেঁচে আছে—কেউ কারও হাত ধরে, কেউ কারও দিকে তাকিয়ে।

এই শিশুদের মাঝেই ঈদের সকালে এসে দাঁড়ান সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলা প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক পরিচয় যেন দরজার বাইরে রেখেই তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। হাতে উপহারের ব্যাগ, সঙ্গে নতুন জামা, সুস্বাদু ফল আর ঝকঝকে নতুন নোট।

শিশুরা প্রথমে একটু দূরত্ব রেখেই তাকিয়ে ছিল। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। কেউ হাত বাড়ায়, কেউ আবার চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। একসময় তাদের হাতে পৌঁছে যায় নতুন টাকা—ঈদের সালামি। ছোট ছোট আঙুলে ধরা সেই নতুন নোট যেন তাদের কাছে শুধু টাকা নয়, এক ধরনের স্বীকৃতি—তাদেরও ঈদ আছে।

কিন্তু দিনের সবচেয়ে গভীর মুহূর্তটি তৈরি হয় অন্যভাবে।

একটি শিশু—অতি ছোট, কোলে নেওয়ার মতোই—তাকে তুলে নেন জেলা প্রশাসক। শিশুটি প্রথমে যেন চমকে ওঠে, তারপর ধীরে ধীরে স্থির হয়ে আসে। তার চোখ স্থির হয় সেই মানবিক জেলা প্রশাসকের মুখের দিকে, যে মুখে আছে অচেনা অথচ নিরাপদ এক মমতা। কিছুক্ষণ পর আরেকটি শিশুকেও তুলে নেন তিনি—ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার মানব পাচার মামলার আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই মাস বয়সী ইয়াসীন। দুটি শিশুকে কুলে আগলে রাখার সেই দৃশ্য ঘরজুড়ে এক নীরব আবেগ ছড়িয়ে দেয়।

এই দুই শিশুর গল্প আলাদা, কিন্তু বেদনার জায়গাটা এক। মানব পাচার মামলার ভিকটিম ইসরাত জাহান রক্সির শিশু সন্তান ইশা আক্তারকে গত বছরের ১ জুন এখানে আনা হয়। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট জন্ম নেওয়া এই শিশুটি তার জন্মদাতার পরিচয় জানে না। আদালতের মাধ্যমে তাকে এখানে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়াসীন—মাত্র দুই মাস বয়সে উদ্ধার হয়ে এসেছে অনিশ্চিত এক অন্ধকার থেকে।

তাদের কেউ জানে না, ভবিষ্যতে কে তাদের নাম ধরে ডাকবে। কিন্তু সেই মুহূর্তে তারা দুজনেই ছিল এক নিরাপদ কোলের ভেতর—যেখানে কোনো প্রশ্ন নেই, আছে শুধু নিঃশর্ত স্নেহ।

ছোটমনি নিবাসের অফিস সহকারী নূর জাহান পাশে দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখছিলেন। তাঁর কণ্ঠে তখনও আবেগ, “অনেকেই আসেন, কিন্তু এভাবে সময় দেন না। ঈদের দিন পরিবার ছেড়ে এখানে এসে শিশুদের কোলে নেওয়া—এটা আমরা আগে কখনো দেখি নাই।”

ঘরের অন্য পাশে তখন অন্য এক দৃশ্য। কয়েকজন শিশু নতুন জামা হাতে নিয়ে ব্যস্ত—কেউ খুলে দেখছে, কেউ পরার জন্য উদগ্রীব। টেবিলে সাজানো ফল, বাতাসে উৎসবের গন্ধ। কিন্তু এর মাঝেও কোথাও একটা নীরবতা রয়ে যায়—যে নীরবতা হয়তো প্রশ্ন করে, “আমার আপনজন কোথায়?”

চট্টগ্রামের এই ছোটমনি নিবাসে এখন ১৬ জন শিশু আছে। তাদের প্রত্যেকের জীবন শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তায়, কিন্তু এখানে তারা শিখছে নতুন করে বাঁচতে। যত্নে, শৃঙ্খলায়, আর একটু একটু করে ভালোবাসায়।

ঈদের এই দিনে, নতুন টাকা বা জামার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে সেই একটি দৃশ্য—একটি কোল, যেখানে কোনো পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না।

যেখানে একজন প্রশাসক আর একজন শিশু—দুজনেই হয়ে ওঠে শুধু মানুষ।

Feb2
Feb2

সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 11:05 am
সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ (​শুক্রবার) সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

​সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 9:45 pm
জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নের এক বিশেষ সভা অদ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় চট্টগ্রামস্থ একটি রেস্টুরেন্ট’র হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তানভীর মল্লিকের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেকেএ এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ সেলিম।

সভায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নাল কমিটি গঠনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামের বিশেষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ শাহেদ-কে চট্টগ্রাম রিজিয়নের নতুন চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়।

বরণ অনুষ্ঠানে জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ-কে জেকেএ-এর টাই পরিয়ে দেন এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস ব্যাজ পরিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল, পিআরইউর সদস্য সচিব ইমরান এমি, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সেলিম উদ্দিন রাসেল, জাফর আহমেদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, আতিকুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, রাশেদুল কলিম, শাবাব ইয়াজদানী, মঞ্জুর আলম মঞ্জুসহ কারাতের খেলোয়াড় বৃন্দ।

সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 7:47 pm
জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা’ এবং ‘চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গায় পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এতে অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের বিধান বহাল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।