খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ চালকদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 9:39 am
চট্টগ্রামে গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ চালকদের

চট্টগ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। আজ (শুক্রবার) ভোরে নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ দেখান কয়েকশ চালক।

অবরোধের কারণে মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেইট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর পাশের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করছে।

চালকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করেও তারা গ্যাস পাচ্ছেন না। কখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।

শাহিন নামে এক চালক বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না। কখন গ্যাস পাব, সেটাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?’

মনু মিয়াজি নামে এক চালক বলেন, ‘দুই দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারিনি। কোনো আয় নেই অথচ গাড়ির জমা, সংসারের খরচ সবই দিতে হচ্ছে। গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও যদি গ্যাস না পাই, তাহলে আমরা কীভাবে বাঁচব?’

আরেক বিক্ষুব্ধ চালক মুজিবুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের সব ফিলিং স্টেশনে একই অবস্থা। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন। কর্তৃপক্ষ যদি সংকটের সমাধান করতে না পারে, তাহলে আমাদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজিতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরও কিছু করার নেই।’

চালকরা বলেন, গ্যাসের অভাবে শুধু তাদের আয় বন্ধ হয়নি, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে এবং যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বাড়ছে।

এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকেই মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেইট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছে। তবে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়তে রাজি নন বিক্ষুব্ধ চালকরা।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম রয়েছে। চালকদের সরানোর চেষ্টা চলছে।

Feb2
Feb2

ডজনে ১০ টাকা কমেছে ডিমে, আগের দামেই মাছ-মাংস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 11:45 am
ডজনে ১০ টাকা কমেছে ডিমে, আগের দামেই মাছ-মাংস

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। মাছ ও মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ডজন প্রতি ডিমের দাম কমেছে ১০ টাকা। মাছের দাম একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমছে, তো পরদিনই আবার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

আজ (শুক্রবার) নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ১৪০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজনের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। আবার মাছের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। কোনো মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বেড়েছে। আবার কোনো মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। তবে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

ব্রয়লার মুরগির গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে পরিবর্তন নেই। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পুকুরে চাষ করা পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, ওজন ভেদে রুই ৩০০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

পাঙাশ মাছ কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে ১৮০ কেজি বিক্রি হতো। এখন ২০০ টাকার নিচে নেই। আর তেলাপিয়া তো কয়েক মাসের ব্যবধানে ৬০ টাকা বেড়েছে। তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহে তুলনায় এই সপ্তাহে মুরগির দাম কিছুটা কম ছিল। আজ একটু বেড়েছে। তারপরও ব্রয়লার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি করছি। গত সপ্তাহে কেজি ছিল ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই আছে। ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।

পাহাড়তলী বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আজকে মাছের দাম আগের মতোই আছে। কিছু মাছের দাম সব সময় বেশি থাকে। ২০ থেকে ৩০ টাকা ওঠানামা করে। সকালে মাছের এক দাম, আবার বিকেলে আরেক দাম থাকে।

চাঁদ দেখা যায়নি, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 10:08 pm
চাঁদ দেখা যায়নি, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ১৫ আগস্ট থেকে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এরপর শনিবার (১৫ আগস্ট) থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের গণনা শুরু হবে। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ অনুযায়ী বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক ড. মু. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সামিটের টার্মিনাল বন্ধ, আরও বাড়ল এলএনজি সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 8:05 pm
সামিটের টার্মিনাল বন্ধ, আরও বাড়ল এলএনজি সংকট

দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় কক্সবাজারের মহেশখালীর সাগরে ভাসমান এই এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।

মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গত দুদিন ধরে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাত্র ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল। যেখানে টার্মিনালের সক্ষমতা ছিল ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন করে এলএনজিবাহী জাহাজ না আসায় সামিটের টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে মহেশখালীর ভাসমান দুটি টার্মিনালের মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট থেকে এলএনজি সরবরাহ আংশিক চালু আছে। সেই টার্মিনালের ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার বিপরীতে আজ বৃহস্পতিবার মিলেছে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গতকাল বুধবারও দেওয়া হয়েছিল ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বয়লার নষ্ট হওয়ায় সেই টার্মিনাল দিয়ে এর চেয়ে বেশি এলএনজি সরবরাহ এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। বয়লার মেরামত করতে ৭২ ঘণ্টা এই টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হবে। ফলে সামিটের টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি দিয়ে চলা ছাড়া সরকারের হাতে কোনো বিকল্প নেই।

দেশে দুটি টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২১ জুলাই আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের বয়লার আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। ৬ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়েছিল। কিন্তু দুদিন আগে থেকে সামিটের টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ কমলে পুরো এলএনজি সরবরাহে ধস নামে।

এ বিষয়ে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলামকে একাধিক ফোন দেওয়া হলেও তার সাড়া না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরে প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন সামিট টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে। তবে সুখবর হচ্ছে, সামিট টার্মিনালের জন্য এলএনজিবাহী জাহাজ ‘বিডিব্লউ লেসমেস’ আসছে আমেরিকা থেকে। মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগর এলাকায় পৌঁছাবে আগামী ১৫ আগস্ট সকাল ৬টা। জাহাজটিতে ৬৬ হাজার টন এলএনজি আছে। সেই জাহাজ এলেই কেবল সামিট চালু হবে। তার মানে অন্তত দেড় দিন সামিটের টার্মিনাল বন্ধ থাকবে।

জাহাজের গতিবিধি জানানো আন্তর্জাতিক সংস্থা মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে (মাদাগাস্কারের কাছাকাছি) অবস্থান করছে এবং ১৮.৭ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছে। ১৫ আগস্ট সকাল ৬টায় মহেশখালীতে পৌঁছাবে।

জাহাজের শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই জাহাজ সামিটের টার্মিনালেই ভিড়বে বলে মৌখিকভাবে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এদিকে এলএনজিবাহী আরেক ট্যাংকার ‘আল হামরা’ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছেছে গত ১২ আগস্ট। সেই জাহাজ আনা হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের জন্য। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা গত দু-দিন ধরে বলে আসছিলেন সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজিবাহী জাহাজ ভাসমান টার্মিনালে ভিড়িয়ে সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে এলএনজিবাহী জাহাজ না আসায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এটা কৌশল ছিল প্রতিষ্ঠানটির।