খুঁজুন
, ,

দ্রুততম সময়ে তিস্তা চুক্তি আশা করা হচ্ছে : মোদি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 6 October, 2019, 6:53 pm
দ্রুততম সময়ে তিস্তা চুক্তি আশা করা হচ্ছে : মোদি

PM-and-Modi

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে ভারতীয় পক্ষ কাজ করছে।

এদিকে, সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আট বছর আগে দুই দেশের সরকারের সম্মতি অনুযায়ী বাংলাদেশ এ চুক্তি আশু স্বাক্ষরের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

এর আগে আজ ভারতের রাজধানীতে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি (শেখ হাসিনাকে) অবহিত করেছেন যে তার সরকার ভারতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে চুক্তিটি সম্পাদনের জন্য কাজ করছে।’

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘২০১১ সালে দুই সরকারের সম্মতি অনুযায়ী তিস্তা নদীর পানি বণ্টনে ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম এগ্রিমেন্ট আশু স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন’-এর জন্য বাংলাদেশের জনগণ অপেক্ষায় রয়েছে একথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে মোদি তার বক্তব্য দেন।

বিবৃতি অনুযায়ী দুই প্রধানমন্ত্রী যুগপৎভাবে অপর ছয়টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনেও দ্রুততার সাথে সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত বিনিময় এবং ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম এগ্রিমেন্টের খসড়া প্রস্তুত করার জন্য যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অপর নদীগুলো মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার উল্লেখ করে এতে বলা হয়, দুই নেতা ফেনী নদীর পানি বণ্টনে খসড়া ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম এগ্রিমেন্ট সুনির্দিষ্ট করারও নির্দেশ দেন।

মোদির সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকারে রোহিঙ্গা সমস্যাও উঠে আসে উল্লেখ করে বলা হয়, মোদি এসব বাস্তুচ্যুত লোকদের নিরাপদ, দ্রুত ও স্থায়ীভাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাড়ি-ঘরে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন।

৫৩-দফা বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিত ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতিসহ তাদের (রোহিঙ্গাদের) ফিরে যাওয়া সুগম করতে আরো বৃহত্তর প্রয়াস গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তারা (দুইনেতা) একমত পোষণ করেন।

এতে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের’ আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, নয়াদিল্লী কক্সবাজারের অস্থায়ী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক প্রয়াসে সহায়তা করতে পঞ্চম কিস্তি মানবিক সহায়তা সরবরাহ করবে।

তিনি বলেন, সহায়তার এ কিস্তিতে থাকবে তাবু, ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম এবং মিয়ানমার থেকে আসা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে এক হাজারটি সেলাই মেশিন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে ভারত রাখাইন রাজ্যে এ পর্যন্ত ২৫০টি বাড়ি তৈরির প্রথম প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং দেশটি এখন ওই এলাকায় অপর একগুচ্ছ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লোকদের প্রয়োজন মোতাবেক সহায়তায় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের মানবিক সহায়তার জন্য ঢাকার কৃতজ্ঞতা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ”শান্ত, স্থিতিশিলতা এবং অপরাধ মুক্ত সীমান্ত”নিশ্চিত করতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর এবং যতশিগগির সম্ভব দু’দেশের সকল বাকি স্থানে সীমান্ত বেড়া নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে তাদের নিজ নিজ সীমান্ত বাহিনীকে নির্দেশ প্রদানের ওপর দুই প্রধানমন্ত্রীই গুরুত্বারোপ করেছেন।

দু’নেতাই সীমান্তে বেসামরিক লোকের হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং এ ধরনের সীমান্ত হত্যাকান্ডের ঘটনা জিরোতে নামিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত বাহিনীকে নির্দেশ প্রদানে সম্মত হন।

বিবৃতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি এবং অঞ্চলে শান্তি নিরাপত্তা এবং স্থিতিশিলতা নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রশংসা করেন। তবে বিবৃতিতে বলা হয়, দু’দেশ এবং অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশিলতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হুমকিগুলোর মধ্যে সন্ত্রাস একটি।

বিবৃতিতে দুই নেতাই যে কোন ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সর্মথন করার কোন যুক্তি হতে পারে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনা এবং মোদি সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জঙ্গিবাদ, চরমপন্থী, সন্ত্রাস, চোরাচালানী, জাল মূদ্রা পাচার এবং সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ট সহযোগিতা প্রদানে সম্মতির বিষয়টি পুন:রুল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে বালাদেশের পক্ষ থেকে পাট পণ্যসহ ভারতে রফতানিকৃত বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য ভারত কর্র্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। নেতৃদ্বয় ১২ টি সীমান্ত হাট প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করতে তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশে দেশটির আগ্রহের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ এর আগে ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পন্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের অনুমতি প্রদানের অনুরোধ জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অপরদিকে ভারতের পক্ষ থেকে আখাউড়া আগরতলা বন্দর দিয়ে পণ্য প্রবেশে বন্দর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অদূর ভবিষ্যতে নিয়মিত বাণিজ্যের অধিকাংশ পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর করা হবে।

বিবৃতিতে দুই নেতাই এ বছরে এই প্রথম বারের মতো বাংলাদেশের এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ভারতে রফতানি হওয়াকে স্বাগত জানান।

দুই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুজাতিক সংস্থায় ঘনিষ্টভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশেষকরে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তাঁরা, উন্নত দেশগুলোকে ২০৩০-এর এজেন্ডা অনুসারে বাস্তবায়নের মাধ্যমগুলিতে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

দুই দেশের জন্যই আঞ্চলিক এবং উপআঞ্চলিক সহযোগিতা অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র বলেও দুই নেতা একমত হন। এই লক্ষ্য অর্জনে সমস্ত সদস্য দেশের সম্মিলিত সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে একটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার কার্যকর বাহন হিসেবে বিমসটেকের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও তারা সম্মত হন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং এই সফরের সময়সূচি কূটনৈতিক মাধ্যমে চূড়ান্ত করার বিষয়েও উভয়ে একমত হন।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উভয় নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কেননা, এই সম্পর্ক গভীর ঐতিহাসিক এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা সার্বভৌমত্ব, সমতা, আস্থা এবং অনুধাবনের ভিত্তিতে একটি সর্বাত্মক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে প্রতিফলিত করে যা কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ছাড়িয়ে যায়।
দুই প্রধানমন্ত্রীই প্রচলিত এবং অপ্রচলিত উভয় ক্ষেত্রেই পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন এবং এই অপরিবর্তনীয় অংশীদারিত্ব যা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে শুরু হয়েছিল তা উত্তোরাধিকারকেও বাড়িয়ে তোলে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প বাস্তবায়নে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, উভয় দেশই দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এটি সহজিকরণের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের মধ্যকার

ভ্রমণের জন্য দরকারী বিষয়গুলোকে সহজ করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকার করায়, বিশেষ করে যে সমস্ত বাংলাদেশী ভারতে সড়ক বা রেলপথে ভ্রমণ করেন তাদের জন্য, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানান এবং পারষ্পরিক সহমর্মিতার চেতনায় বিদ্যমান স্থল বন্দরগুলোতে বাংলাদেশী ভ্রমণকারীদের জন্য সকল ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিতেও আহ্বান জানান।

দুই নেতাই একমত হন যে, বৈধ কাগজ পত্রের ভিত্তিতে স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশীদের ভারতে প্রবেশ/বাহিরের ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিধি নিষেধগুলো এখনও বলবৎ রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে দূর করা হবে। আখাউড়া (ত্রিপুরা) এবং ঘোজাডাঙ্গা (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে তা শুরু হবে।

এলডিসিভুক্ত দেশগুলো থেকে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তিতে ভারত অভিনন্দন জানায় বাংলাদেশকে। এ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি’র (সিইপিএ) সম্ভাবনা নিয়ে যৌথ সমীক্ষা চালুর কাজ দ্রুত করতে সম্মত হয়েছে।

উভয় পক্ষই স্বীকৃতি দিয়েছে যে আকাশ, জল, রেল, সড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধি বাংলাদেশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে এবং এর বাইরেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য পারস্পরিক উপকারী সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

২০১৯ সালের আগস্টে ঢাকায় দুই দেশের পানি সম্পদ সচিবদের আলোচনায় উভয় নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী সময়ে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের পাশাপাশি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ অনুসারে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবিত গঙ্গা-পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের শর্তাদি প্রণয়ন করা হয়েছে।

উভয় নেতা রেলওয়ে খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার অপরিসীম সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁরা আগস্ট ২০১৯ সালে দুই দেশের রেলপথ মন্ত্রীদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার বিষয়টিও সন্তুষ্টির সাথে উল্লেখ করেন।

উভয় নেতা জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এক ধাপ এগিয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রীই মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাতায়াত প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ বারে এবং বন্ধন এক্সপ্রেসের যাতায়াত প্রতি সপ্তাহে ১ থেকে ২ বারে বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মোদী বাংলাদেশে রেলওয়ের রোলিং স্টক সরবরাহের জন্য এবং বাংলাদেশে সৈয়দপুর ওয়ার্কশপের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগুলোর সমাপ্তি ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

শেখ হাসিনা অনুদানের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি ব্রডগেজ এবং মিটার গেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানান। এটি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে সহায়তা করবে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

দুই নেতা আগামীতে দুটি বর্ষপূর্তি উদযাপনেও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যার একটি হচ্ছে- ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন।

উভয় প্রধানমন্ত্রীই ২০২০ সালে তাঁর জন্ম শতবর্ষ উদযাপনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফিচার ফিল্মের সহ-প্রযোজনার জন্য এনএফডিসি এবং বিএফডিসির মধ্যে চুক্তির কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও প্রদান করেন।

Feb2
Feb2

রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 11:03 pm
রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ রেলওয়ে (কর্মচারী) কল্যাণ ট্রাস্টের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচন-২০২৬ ঘিরে বিরোধ ও আইনি জটিলতা আরও গভীর হয়েছে। ভোটার তালিকা, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই, আপিলের সময়সীমা এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক প্রার্থী। এর মধ্যেই আগামী ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণে আপাতত অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন “গ” গ্রুপ এর বৈধ প্রার্থী আহামুদুর রহমান টিটু,প্রধান সহকারী, ডিটিও,ঢাকা দপ্তর।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ রেলওয়ে (কর্মচারী) কল্যাণ ট্রাস্টের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচন-২০২৬-এর তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৩০ জুলাই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দের সময় নির্ধারিত ছিল।

তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় একাধিক কর্মচারীর নাম, পদবি ও কর্মস্থলসংক্রান্ত ভুল-ত্রুটি,অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, চাকুরী হইতে অব্যাহতি নেওয়া কর্মচারী, মৃত ব্যক্তির নাম,বদলীজনিত ব্যক্তি,কর্মস্থল থেকে অনেক দূরের কর্মচারী ছিল। কয়েকজনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং একই ব্যক্তির নাম একাধিক কেন্দ্রে থাকার বিষয়ও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংশোধনের জন্য ০২ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২৯ জুলাই প্রকাশিত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের খসড়া তালিকায় একজন প্রার্থীকে বৈধ এবং অন্য ০২ জন কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে আপিলের সুযোগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাদীপক্ষের দাবি, নির্বাচনী নীতিমালা ও তফসিলে আপিলের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

মামলার নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে অবৈধ ঘোষিত এক প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের ০৮ মিনিট পর আপিল জমা দেন। নথিতে আপিল গ্রহণের সময় ১৪:০৮ মিনিট উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ৩০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাড়ে সাতটার দিকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ‘সাময়িকভাবে বৈধ’ বা ‘স্থগিত’ প্রার্থী হিসেবে রাখা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রার্থীকে তার সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তির প্রমাণ দাখিলের জন্য সময় দেওয়া হয়।

এরপর ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের একটি অফিস স্মারকের মাধ্যমে ওই প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে বৈধ ঘোষণা এবং ‘গোলাপ ফুল’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বাদীপক্ষ এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

আদালতে কারণ দর্শানোর নোটিশ
বিষয়টি আদালতে গড়ানোর পর সংশ্লিষ্টদের প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি হয়েছে। নথিতে ৬ আগস্টের নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত অফিস স্মারক বাতিল, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে প্রার্থিতা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আদালতের আদেশ চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অফিস স্মারকের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।

ভোটে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন ” গ” গ্রুপ এর মই মার্কার বৈধ প্রার্থী আহামুদুর রহমান টিটু।

এই আইনি জটিলতার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি ১৬ আগস্টের নির্বাচনে আপাতত ভোটগ্রহণে অংশ নেবেন না। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনারকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে নয়; বরং একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বার্থে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালতে বিচারাধীন কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধের কারণ, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও তাদের অবস্থান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন।

কী হতে যাচ্ছে?
১৬ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসার মধ্যে আদালতে বিচারাধীন বিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ভোটগ্রহণে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য এবং আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপরই এ বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।

এখন সবার নজর আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

স্পোর্টসকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 7:37 pm
স্পোর্টসকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী

অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন হিসেবে দেখলে হবে না; এটিকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ক্যারিয়ার হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লাখ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত। তাই স্পোর্টস ইকোনমিকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু বই পড়ার মধ্য দিয়ে একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ ও দক্ষ নাগরিক তৈরিতে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের খেলার মাঠ, খেলোয়াড় এবং ক্রীড়াঙ্গন নানা দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকেই শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। তাদের মোবাইল আসক্তি থেকে বের করে খেলার মাঠে নিয়ে আসতে হবে।সেইসাথে সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে,যারা প্রতিভাবান এবং খেলাধুলায় ভালো করবে, তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্রীড়াবিদদের সহযোগিতা এবং স্কুল পর্যায়ে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জার্সি, ব্যাগ, জুতা ও যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই স্কুলের ছেলেমেয়েরা। তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। কারণ একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বিত বিকাশ প্রয়োজন।

ক্রীড়া সংগঠকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে দলাদলি ও বিভাজন পরিহার করে খেলাধুলার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যারা খেলাধুলাকে ভালোবাসেন, তাদের ক্রীড়ার উন্নয়নে এবং যারা সংস্কৃতিকে ভালোবাসেন, তাদের সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখতে হবে।

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খানেঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে
চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মশিউল আলম স্বপন সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করে আসা ব্যাক্তিবর্গসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

পরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পর মাঠে টুর্নামেন্টের খেলা শুরু হয়।

শিপইয়ার্ডে প্রত্যেক নিহতের পরিবার পাবে ১০ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 7:05 pm
শিপইয়ার্ডে প্রত্যেক নিহতের পরিবার পাবে ১০ লাখ টাকা

সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের একটি এলএনজি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা ও আহত শ্রমিকের চিকিৎসার খোঁজ নিতে এসে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন এ টাকা দেবে।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর টিম গেছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের টিম গেছে। একটি তদন্ত টিম গঠন করা হবে। যাতে বিশেষজ্ঞ থাকবে। রিপোর্ট পেলে বুঝতে পারব সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছিল কিনা।