খুঁজুন
, ,

চসিকের ‘একুশে পদক’ পেলেন সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 February, 2020, 6:50 pm
চসিকের ‘একুশে পদক’ পেলেন সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক ও সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী পেলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিকে) একুশে পদক-২০২০। চসিকের বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত এবারের বইমেলায় সাংগঠনিক ক্যাটাগরিতে ‘মুজিব বর্ষ একুশে পদক’ পেলেন তিনি। পদক তুলে দেন সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিন।

সবচেয়ে কমবয়সেই তিনি পেলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের(চসিকে) এই পদক । এবার একুশে পদক পেলেন ১১জন, সাহিত্য পদক পেলেন ৪ জন। শুধু এবার নয়, এযাবতকালে চসিকের যতবার একুশে ও স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছে, তন্মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে প্রাপ্তির স্বীকৃতি জুটল রিয়াজের ।

বিষয়টিকে চট্টগ্রামের তরুণ সংগঠকরা বেশ ইতিবাচকভাবে দেখছেন । সংগঠক ও তরুণদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। পারিবারিক পর্যায় থেকেই আওয়ামী ঘরানার এই সংগঠক চট্টগ্রামে প্রগতিশীল বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের নেতৃবৃন্দের কাছেও নানা ভাবে গ্রহনযোগ্য। নেতৃত্বে ও পেশায় সফলতার সিঁড়িতে পা রাখা এই সংগঠক একই সাথে তিনটি সংগঠনের শীর্ষ নেতা ।

কর্মক্ষেত্রেও একাধারে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সফল । রাজনীতি, অর্থনীতি, অপরাধ ও সংস্কৃতি নিয়েই লেখালেখির কারনেও পাঠকপ্রিয় নাম রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। টেলিভিশনের টকশো সঞ্চালনা করেও তৈরি করেছেন নিজস্ব বলয়।

রাজনীতি-সংস্কৃতির মাঠে সক্রিয় প্রতিবাদি এই সংগঠক শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সংগ্রামে ব্যাপক সম্পৃক্ত। জীবনের পদাঘাত তাকে করেছে সমকালীন অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা, সফল এবং আত্মপ্রত্যয়ী।

বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছাড়াও চট্টগ্রামের নাগরিক উদ্যোগের তিনি আহবায়ক। এছাড়া প্রগতিশীল পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত মোর্চা ‘পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদে’র সাধারণ সম্পাদকও এই সাংবাদিক নেতা। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য তিনি। বাংলাদেশের সবচে বেশি প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ।

দায়িত্বশীল সাংগঠনিক ঘনিষ্ঠরা জানান, শুধু এবারের একুশে পদক প্রাপ্তিই নয়, সব সাংগঠনিক অর্জনই সবচেয়ে কম বয়সেই করেছেন তিনি।‌ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে এই পেশাজীবী সংগঠক বারেবারে ঝুঁকি নিয়েছেন, হামলারও শিকার হয়েছেন।

প্রায় তিন দশক ধরেই টানা সাংগঠনিক চর্চায় যুক্ত রিয়াজ। ২০বছর ধরেই নির্বাচন করেছেন সাংবাদিকদের অঙ্গনে। সাংবাদিকদের মধ্যে একমাত্র রিয়াজই গত ১৮বছর ধরে প্রগতিশীল পেশাজীবী মোর্চার নেতৃত্বে রয়েছেন। এই সংগঠক চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সবচেয়ে কম বয়সেই দফায় দফায় সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত সভাপতি (২০১৬-২০১৮), দু’দফায় সাধারণ সম্পাদক (২০০৬-২০০৮, ২০১২-২০১৪) ও দু’দফায় সাংগঠনিক সম্পাদক (২০০২-২০০৩, ২০০৩-২০০৪) ।

ওয়ান-ইলেভেনে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে তাঁর মুক্তি দাবি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদ , ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলন-গণজাগরণ ও বিএনপি-জামায়াত শিবিরের হরতাল অবরোধ নৈরাজ্য, পেট্রোল -বোমা জ্বালাও-পোড়াও আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও জাতীয় নানা ইস্যুতে বরাবরই মাঠে থেকেছেন এই পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক।

বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশের কোথাও যখন জাতির বিবেক খ্যাত সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানো হতো না তখনই সাহসী কাজটা করেন সাংবাদিক নেতা ও পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। শুধু তাই নয়, জাতির একটি ক্রান্তিকালে বঙ্গবন্ধুকন্যার নামে তিনি উদ্ভাবন করেন এক নতুন স্লোগানও।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে যখন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দু’ভাগে বিভক্ত তখন ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেশাজীবী সম্মেলনে চট্টগ্রাম থেকে অংশ নেয়া পেশাজীবী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’র সাথে ‘জয় শেখ হাসিনা’ যুক্ত করে একটি নতুন শ্লোগানের উদ্ভাবন করেন ।

সেসময়ে দেশের এক পক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে, অন্যপক্ষ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে অনড়। বহির্বিশ্বের চোখ ছিল এদেশের নাগরিক পেশাজীবী শক্তির দিকেও। এমনি সময়ে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেশাজীবী সম্মেলন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ঠিক এমন অবস্থায় জাতীয় পেশাজীবী সম্মেলনটিতে রিয়াজ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও সারা দেশের পেশাজীবী নেতাদের সামনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন। শুধু তাই নয় সরকারের সে সময় চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া ও দেশের কালিমামুক্ত করার মতো যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখায় পেশাজীবীদের পক্ষে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে কৃতজ্ঞতাও জানান ।

চট্টগ্রামের তিনিই প্রথম সাংবাদিক নেতা, যিনি বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য অসামান্য অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে কৃতজ্ঞতা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

২০১৮ এর একাদশ জাতীয় সংসদ জাতীয় নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান উপলক্ষে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা; নৌকা পারে, নৌকাই পারবে’ শীর্ষক প্রচারপত্রটিও রচনা করেন তিনি।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক রিয়াজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে ২০০৫ , ২০১০ সালে সক্রিয় ছিলেন।

২০১৫ সালে সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিরও আহ্বায়ক ছিলেন। নির্বাচনটিতে চট্টল মেয়রের যেন ছায়াসঙ্গীই ছিলেন।

২০১৮ এর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম সদর আসনে পেশাজীবী-নাগরিক প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন প্রত্যাশীর মনোনয়ন না মিললেও সেই আসনে মনোনয়ন পাওয়া জননেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র ব্যারিস্টার চৌধুরী মহিবুল হাসান নওফেল সহ চট্টগ্রাম শহর ও শহরযুক্ত ৬টি আসনের প্রার্থীদের জন্য প্রচারণায় তিনি ‘পেশাজীবী-নাগরিক স্কোয়ার্ড’ গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থীদের পক্ষে টানা প্রায় সপ্তাহব্যাপী প্রচারণা শেষে চট্টগ্রাম শহীদ মিনার চত্বরে মহাসমাবেশ করেন।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ সংগঠক ২০০১এর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি মানিকছড়ি বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মাঠে ছিলেন। এছাড়াও রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগ, পাথরকাটা, ফতেয়াবাদস্থ বিভিন্ন স্থানে সনাতনী সম্প্রদায়ের উপর হামলা-নির্যাতনের উপর হামলা নির্যাতনের প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

প্রায় ৬০ বছরের পুরনো সংগঠন সিইউজে’র ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হন। অংশ নেন দুশতাধিক দেশের প্রতিনিধিত্বে ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ন্যাম সম্মেলনে(২০১২)।

সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রশিক্ষক হিসেবেও সমাদৃত এই সাংবাদিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, মালয়েশিয়ার ট্যুরিজম বোর্ডসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সনদ স্বীকৃতি লাভ করেন। একাধিক গ্রন্থ প্রণেতা এই সাংবাদিক ইউরোপ ও এশিয়ার দেশ ঘুরে রাজনীতি-পর্যটন নিয়েও দারুণ লিখেছেন। তাঁর ‘ইউরোপের পথে পথে’ শীর্ষক প্রতিবেদন দেশের সবচে বেশি প্রচারিত কাগজ ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনে’ ধারাবাহিক প্রকাশ হলে পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়।

তিনি দুইবার জাপান সফরসহ পেশাগত ও সাংগঠনিক সফর করেন জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ন্যাদারল্যান্ডস, ইরান, তুরস্ক, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া ও ভারতসহ ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্র। নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা, গবেষণা, গদ্য পদ্যে যেন যুথবদ্ধ পথ চলেছেন রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।

বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবনের সিংহ ভাগ সময়েই তিনি একাধারে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করেন। কখনো পূর্বকোণে কাজ করলেও পাশাপাশি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক বাংলা স্যাটেলাইট টিভি এসটিভিইউএস,(STVus), একুশে টেলিভিশন কিংবা যমুনা টেলিভিশনে , আবার কখনো বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাজ করলেও যুক্ত হন স্যাটেলাইট টেলিভিশন নিউজ টুয়েন্টিফোরে(NEWS24)।

টেলিভিশনে চট্টগ্রাম থেকে ব্যাপক জনপ্রিয় এই মুখ রোজ সকালে চট্টগ্রামের সংবাদপত্রগুলোর সংবাদ বিশ্লেষণ লাইভের যাত্রা শুরু করেও গড়ে তুলেন নিজস্ব ভক্তবলয়। গণমাধ্যমে যেন নতুন পালক যুক্ত করে এ সংবাদ বিশ্লেষণ।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি, কমিউনিটি পুলিশিং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রিয়াজ । চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)’র নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ক নাগরিক পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং চসিকের উদ্যোগে চট্টগ্রামের প্রথম সর্বজনীন অমর একুশে বইমেলা ২০১৯, মুজিববর্ষ চট্টগ্রাম অমর একুশে বইমেলা ২০২০ এর উপদেষ্টা, চট্টগ্রামের সর্বজনীন মুজিব জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম কলেজ প্রাক্তন ছাত্রলীগ পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি।

সংবাদত্রসেবী ঐক্য পরিষদের সচিব (২০০৬-২০০৮)ছিলেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি, মা- শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের স্থায়ী সদস্য, জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন চাঁদের হাট, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, পূর্বাশার আলো, পরিবর্তন উপদেষ্টা সহ শতাধিক সংগঠনে নানাভাবে যুক্ত ।

বিশেষ প্রতিনিধি ও ব্যুরো প্রধান হিসেবে এক দশক ধরে কাজ করছেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে। সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণে। এতে কাজ করেন প্রায় এক যুগ। দৈনিক রূপালী, দৈনিক খবর ও দৈনিক বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয়েও কাজ করেন । দৈনিক সংবাদ, দৈনিক প্রথম আলো , আজকের কাগজ , দৈনিক আজাদী, দৈনিক নয়াবাংলা,দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ, দৈনিক পূর্বদেশ, খবরের কাগজ, দেশচিন্তা সহ অসংখ্য কাগজে লেখা ছাপা হয় এই কবি সাংবাদিক ও গবেষকের।

১৯৯৫ সালেই তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দেশ চেতনার কাগজ ‘বঙ্গজ’।কৈশোরে আবৃত্তি চর্চায় যুক্ত রিয়াজ বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হলে সেখানে একুশের প্রথম কবিতার প্রথম একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন। কেন্দ্রের প্রথম শ্রেণির তালিকাভুক্ত এই উপস্থাপক গ্রন্থনায়ও পারদর্শী। কেন্দ্রটি চালুর আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন রিয়াজ।

সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ আদায় ও বাস্তবায়ন ছাড়াও হকার্স এবং কম্পিউটার অপারেটরদের অধিকারের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

চট্টগ্রামের জ্ঞানজ্যোতি ভিক্ষু হত্যা ও অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যা, শিক্ষাবিদ ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা, সাংবাদিক শামসুর রহমান কেবল, হুমায়ূন কবির বালু, সাগর-রুনি-শিমুল হত্যার প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সিলেটে মৌলবাদিদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শিক্ষাবিদ ড. জাফর ইকবাল অনশন-ধর্মঘটের ডাক দিলে সেখানেও ছুটে যান ।

যশোরে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আক্রান্ত হলে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছুটে যান সেখানেও। বিডিআর বিদ্রোহ’র নামে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের হত্যা করা হলে প্রতিবাদে মাঠে ছিলেন । এ নিয়ে লিখেছেনও প্রচুর। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু এবং চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন।

এছাড়া একুশের প্রথম কবিতার জনক চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান ‘সীমান্ত’ সম্পাদক মাহবুব উল আলম চৌধুরীর প্রয়াণের খবর শুনে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছুটে যান তিনি। চট্টগ্রামের সংগঠক হিসেবে একমাত্র পূস্পার্ঘ্য দেন।

একইভাবে নাট্যগুরু সেলিম আল দীনের প্রয়াণেও ছুটে গিয়ে যেন বনপোড়া হরিণের মত আর্তনাদ করেন এই সংগঠক। এ নিয়ে তাৎক্ষণিক লিখেনও।

এই অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক বহু রাজনৈতিক প্রতিবেদনের জন্য আলোচিত। শুধু রিপোর্টিং নয় প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও কাব্য প্রচেষ্টায়ও তিনি সমধিক পরিচিত।

১৯৯৪ সালে ঘাতক গোলাম আযমের লালদীঘি মাঠের জনসভা প্রতিরোধ প্রচেষ্টার পূর্বাপর সময়ে মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রকমান্ডের এই সাহসী কর্মী শৈশব থেকেই বেড়ে উঠেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাশ্রিত পরিবেশে।

২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের পুলিশের বেধড়ক হামলার প্রতিবাদে ন্যায্য বিচার চেয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে পেশাজীবী সাংবাদিকদের সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন । সেসময় ঘটনার জন্য তিন মন্ত্রণালয় বৈঠকে ডেকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তৎকালিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
২০০১ সাল।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোট নেত্রী বেগম জিয়ার প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় তুলে ধরে রাজনৈতিক-সামাজিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। বেগম জিয়া মহান জাতীয় সংসদে ৬ মাসের সন্ত্রাস বিরোধী কর্মসূচি ঘোষণা দেন সে বার। কিন্তু সেদিনই টপটেরর শিবির ক্যাডার নাছির কুমিল্লা কারাগার থেকে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে পুলিশি পাহারায় চকবাজারে গোপন বৈঠক করে সহযোগী সন্ত্রাসীদের সাথে। সরকারের এই স্ববিরোধীতা রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই সুনিপুণ অনুসন্ধানে সংবাদপত্রের পাতায় তুলে ধরেন একমাত্র রিয়াজই।

সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আর প্রগতির ব্যানারে ছদ্মবেশে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর হামলা-মামলার টার্গেট এই সাংবাদিক পথ চলেন মৃত্যু হুমকি উপেক্ষা করে। হামলায় আক্রান্ত হয়ে দুই বার মরতে মরতে বেঁচেও যান। যুদ্ধাপরাধি কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবির মধ্য দিয়ে সৃষ্ট গণজাগরণে চট্টগ্রামের প্রধানতম এই সংগঠক হামলার শিকার হন।

অল্পের জন্যই প্রাণে বেঁচে যান। ২০১৮’র নভেম্বরে ফের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলে সে ঘটনাকে ঘিরে পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজ আন্দোলন গড়ে তোলেন। গোপন আততায়ীরা চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. অনুপম সেন ও পেশাজীবী সাংবাদিক নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরীসহ পাঁচ বিশিষ্টজনকে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেও উড়ো চিঠি দেয়।

‘মহিউদ্দিনের আইয়ের’ : ওয়ান ইলেভেনের আগের কথা। ‘মহিউদ্দিনের আইয়ের’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদনে তীব্র আলোড়ন তোলেন তিনি। প্রতিবেদনটিতে সে সময়ের মেয়র জননেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর তুমুল তুখোড় সাহসী অবস্থান তুলে ধরেন।-এমন অসংখ্য আলোচিত প্রতিবেদনের জনক এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পেশাজীবী নেতা।

জীবনের বৈভব : মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রিয়াজের জন্ম ঢাকাই হলেও ব্যাংকার পিতার বদলী সুত্রে শৈশব থেকেই বসতি চট্টগ্রামে। অবশ্য উত্তর চট্টগ্রামের হালদা পাড়ের হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা গ্রামের চৌধুরী বাড়িই পৈতৃক নিবাস। শহর ও গ্রামের জল হাওয়া, সমুদ্রের ঢেউ আর পাহাড়ের মৌনতা তাকে দিয়েছে জীবনের বৈভব।

কৈশোর থেকে লেখালেখির প্রবল নেশা তার। আর এই নেশা তাকে সহসা পেশাদারও করে তোলে। স্নাতককালীন সময়ে যুক্ত হন পেশাদার সাংবাদিকতায়, পরবর্তীতে স্নাতকোত্তর সময়ে গতি পায় নৈমিত্তিক চাকুরীজীবন, সমানে চলে বিদ্যার্জন ও লেখার নেশা।

ভাষার লড়াই-শেখের বেটি: ভাষা সংগ্রাম ও এতে বঙ্গবন্ধুর অবদানের পথ ধরে বাংলার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার অবদানকে এক মলাটে সংযুক্ত করে ২০১১ সালে কবি সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর প্রকাশিত প্রথম গবেষণাগ্রন্থ ‘ভাষার লড়াই’।

২০২০ এ প্রকাশিত তাঁর কাব্য গ্রন্থ ‘শেখের বেটি’ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলা ছাড়িয়ে বিশ্ব জয়ের অদম্য অগ্রযাত্রায় দেশের রাজনীতি, সমাজ মননের বদলে যাওয়া, অথচ শংকাময় জনগোষ্ঠীর হৃদয়ের উথালপাতাল ঢেউয়েরই সমাহার।

এতে বাঙালি মানসের আবেগ আশাবাদ ফুটে উঠেছে। তারুণ্যের দেশচেতনা, প্রেম, স্বপ্ন ও স্বপ্ন ভঙ্গের কাব্যিক শব্দসুর সংযুক্ত হয়েছে। রাজনীতি, প্রকৃতি ও প্রেমের এক অনন্য মিশেলের চেষ্টা করেছেন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার আলোচিত মুখ রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।

কবি সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ‘শেখের বেটি’ গ্রন্থে শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে তুলে এনে পুরো বাংলাদেশ, তার ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে ধারণ করেছেন কাব্য ছন্দে। রিয়াজ দেখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যার মুখে দুঃখিনী বর্ণমালার পোড়াচিহ্ন। লক্ষ স্বজন হারার আর্তনাদ। তিনি ভাবেন, শেখের বেটি শেখ হাসিনা মানেই শোষকের রক্ত চক্ষু ডিঙ্গিয়ে যাওয়া গণমুক্তির নাম।

শব্দ শ্রমিক : সব ছাপিয়ে শব্দ শ্রমিক হিসেবেই রিয়াজের এগিয়ে চলা। মঞ্চ মাঠে ময়দানে সক্রিয়তা আর সাংবাদিকতা- কার্যত শব্দেরই কাজ। কারো কারো দৃষ্টিতে হয়তো এমন সব্যসাচী অবস্থান বেঢপ। ঈর্ষার কারণও । তবুও প্রগতি পথের এই সারথির অগ্রযাত্রা রয়েছে অদম্য।

Feb2
Feb2

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।