খুঁজুন
রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাণীশংকৈলে অযত্নে ঐতিহ্য হারাচ্ছে গোরকই শিব মন্দির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
রাণীশংকৈলে অযত্নে ঐতিহ্য হারাচ্ছে গোরকই শিব মন্দির

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ রক্ষণাবেক্ষণে অবেহলা, অযত্ন আর নিয়মিত তদারকির অভাবে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার প্রাচীন গোরকই আশ্রম, দুর্গা ও শিব মন্দির।

দায়িত্বে থাকা লোকজনের অবহেলার কারণে অনেক সময় মন্দিরটির ভিতরে মাঝে মধ্যে গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত মেলার সময় কদর বাড়ে মন্দিরটির।

এবছরে ১৯ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন জেলার মানুষের ঢল নেমেছিল।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুরে নেকমরদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গোরকই গ্রামে অবস্থিত এ প্রাচীন মন্দিরটি। মন্দিরটির নির্মাণ কবে হয়েছিল এবং মন্দিরটির আসল মালিকানা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা নেই কারোই।

তবে মন্দিরের গেটে লেখা বর্ণনায় দেখা গেছে,”গুপ্ত যুগ থেকে সেন যুগের মধ্যেই কুপ ও মন্দির নির্মিত হয়েছিল এবং নাথ সহজিয়া মতের গুরু গোরাক্ষ নাথের নামানুসারে কুপ ও স্থানের নাম হয়েছে গোরকই।”

গরকই ফকিরি স্লান বা বারুনীর মেলা হিসেবে আজও সমান ভাবে সমাদৃত। এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি একটি তীর্থ স্থান।

ফাল্গুনের শিব চতুর্দশী তিথীতে পূণ্য স্নানের জন্য আগমন ঘটে অসংখ্য পূণ্যার্থীর।

স্থানীয়দের সাথে বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আসা গোরক্ষনাথ নামে এক ঠাকুর এই এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার নামানুসারে গ্রামের ও মন্দিরের নামকরণ হয় গোরকই। তবে মন্দিরের দেখাশুনা গোরক্ষনাথ ঠাকুর করলেও মন্দির তিনিই নির্মাণ করেন নি, রাতারাতি দেবতারা পাথর দিয়ে মন্দিরটি নির্মাণ করেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। যদিও এ তথ্যগুলোর সঠিক দলিলাদি নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরটি ছাড়াও এখানে রয়েছে নাথআশ্রম। ৩টি শিবমন্দির, ১টি কালি মন্দির। গোরক্ষনাথ মন্দির চত্বরের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। তার পিছনেই সেই আকর্ষনীয় কুপ। পাথরের তৈরী একটি চৌবাচ্চার মাঝে ওই কুপের অবস্থান। কুপটি বড় বড় কালো পাথরের খন্ড দ্বারা নির্মিত। কুপের একেবারে তলা পর্যন্ত ওই পাথর দিয়ে বাধানো। কুপের পূর্ব দিকে একটি দরজা এবং পশ্চিম দিকে একটি দরজা। এ দুটো দরজা দিয়ে স্নানের জন্য প্রবেশ করে পুর্ণার্থীরা। এছাড়াও মন্দিরের দক্ষিণ পার্শ্বে দুজন পুজারীর সমাধি রয়েছে। ঠাকুর গৌরক্ষনাথের মৃত্যুর পর ওই দুজন পূজারী মন্দিরের দেখাশুনা করাকালীন তাদের মৃত্যুহলে মন্দিরের পার্শ্বেই তাদের সমাধি স্থাপন করা হয়। এ দুজন পূজারীর নামও সঠিক জানা নেই কারো।

মেলা পরিচালনা কমিটি জানায়, প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের আমাবশ্যায় এই মন্দিরে ৭ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও মন্দির পরিচালনা কমিটি। মেলার সময় এ কুপের পানিতে স্নান করতে আসে দেশের বিভিন্ন জেলার ভক্তরা। বিভিন্ন মানত করে পরিবার পরিজনসহ আসেন এই মন্দিরে। পূজা ও স্নান শেষে আবার পুনরায় ফিরে যান বাড়ীতে। তবে অনেকের আশা পুরণ হলে মন্দিরে এসে পুনরায় পূজা এবং মানত করা ছাগল, হাস, মুরগিসহ নানা জিনিসপত্র দিয়ে যান।

এই এলাকার জিসকেল টুডু জানান, হাজার হাজার নারী পুরুষ স্নান করার পরও এ কুপের পানি এক ইঞ্চিও কমে না। যা কুপের বৈশিষ্ট্য মনে করে পূর্ণাথীরা। মন্দিরটিতে গ্রানাইট পাথরের ব্যবহার করা হয়েছে। যে পাথর বর্তমানে দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। কথিত আছে, গৌরক্ষনাথ ছিলেন নাথপন্থীদের ধর্মীয় নেতা খীননাথের শিষ্য।

মন্দিরটির সামনের দোকানদার সত্যজিত রায় জানায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মন্দির দর্শনার্থীরা এসে মন্দিরের বেহাল দশা দেখে চলে যান। বসার,খাওয়ার স্থান নেই, এমনকি নেই যাতায়াতের ভাল একটি রাস্তা। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় আসতেই মানুষ ভয় পাই।

মন্দিরের পার্শ্বের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ দশ বছরে এলাকার দুই সাংসদ যাতায়াতের জন্য রাস্তা পাকা করণের অঙ্গীকার করে গেলেও এ পর্যন্ত একটি ইটও বরাদ্দ দেননি তারা। তাছাড়া প্রাচীন এই মন্দিরটিতে এখন পর্যন্ত নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছর একটি সৌর বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেয়। কিছুদিন পরই তা চুরি হয়ে যায়।

মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পসিন চন্দ্র জানান, মন্দিরটি ২৪ ঘন্টা দেখাশুনা করার জন্য একজন পুজারী ছিল। তিনি কয়েকদিন আগে চলে গেছেন। খুব শীঘ্রই মন্দির পরিস্কার পরিছন্ন এবং দেখাশুনা করার জন্য একজন পূজারী নিয়োগ দেয়া হবে। তবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মন্দির দর্শনে আসা মানুষ এবং ভক্তদের জন্য বসার স্থান, খাওয়ার জন্য ভালো হোটেল এবং আবাসিক ভবন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ মন্দিরের নিজস্ব মালিকানায় প্রায় ২৪ বিঘা জমি, একটি আম ও জাম বাগান এবং একটি বড় পুকুর রয়েছে। যা প্রায় দেড় লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। মেলায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় আসে। দুটো আয় দিয়ে চলতি বছরই সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ মন্দিরে নানা উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তবে মন্দিরের সম্পত্তি অনেকেই অবৈধ ভাবে দখল করে আত্মসাত করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মন্দির পরিচালনা কমিটি কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবগত করলেও সেদিকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের।
নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক মন্দির সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি আফরিদা বলেন, মেলা পরিচালনা কমিটি যাবতীয় দেখাশুনার দায়িত্বে রয়েছে মন্দিরের। তাছাড়া তাদের দেয়া চাহিদা অনুযায়ী মন্দিরের উন্নয়নের জন্য একটি পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে প্রেরণ করা হয়েছে।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।