খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাবির হল থেকে অস্ত্রসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
ঢাবির হল থেকে অস্ত্রসহ আটক ২

.jpg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল থেকে ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতাকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম।

আটকরা হলেন- ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক উপ-ক্রীড়া সম্পাদক হাসিবুর রহমান তুষার ও সাবেক অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর আলী। এদের দুজনকেই ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে পরে হাসিবুর রহমান তুষারের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

ইয়াবা ও অস্ত্রসহ ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতাকে আটকের খবর বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। আটকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটক তুষার ছাত্রলীগের গ্রুপ রাজনীতির জেরে মুহসিন হলের ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদ রিয়াজ ফরাজির মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি জানতে পেরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মুহসীন হলে গিয়ে তুষার ও তার সহযোগীকে অস্ত্রসহ আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী তানভীর হাসান শান্ত জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অনন্য এক অভিজ্ঞতা- মুহসীন হলের ১২৭ নম্বর কক্ষ থেকে অস্ত্রসহ দুইজন গ্রেপ্তার! চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে তার হলে ঢুকতেই দেখি প্রক্টর গোলাম রব্বানী স্যার দৌড়ে হলে যাচ্ছেন। স্যারের সঙ্গে আমরাও গেলাম। এরপর দেখলাম অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসলেন! আমি সত্যিই অবাক!

অভিযোগ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আটক অস্ত্রধারীদের কয়েক বছর ধরে মদদ দিয়ে আসছেন। সাবেক এই নেতার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের অভিযোগ রয়েছে।

Feb2

চট্টগ্রামে মনোরেল বাস্তবায়নে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে মনোরেল বাস্তবায়নে সমন্বয় সভা

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এ সভায় নগরের ভৌগোলিক বাস্তবতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অংশ নেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট প্রজেক্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন, চট্টগ্রাম ট্রান্সপোর্ট ফিজিবিলিটি প্রজেক্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রাকিব, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত, নির্বাহী প্রকৌশলী শাফকাত, আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রধান প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলী এবং জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম একটি পুরোনো ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরী। এখানে পর্যাপ্ত প্রশস্ত সড়কের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়, খাল, বন্দর এলাকা এবং বিস্তৃত ইউটিলিটি লাইনের কারণে বড় আকারের জমি অধিগ্রহণ সামাজিকভাবে সংবেদনশীল ও বাস্তবায়ন জটিল। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের জন্য হালকা, নমনীয় এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য রেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক নগরী। এখানকার যানজট নগরবাসীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটি প্রারম্ভিক স্টাডি চলমান রয়েছে। এই স্টাডির মাধ্যমে মনোরেল ছাড়াও অন্য কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা চট্টগ্রামের জন্য অধিক উপযোগী কি না, তা যাচাই করা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ অনুমোদন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ অনুমোদন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হবে।

আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ সরকারের একটি ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সরকারের যে অঙ্গীকার ছিল, এই অধ্যাদেশ তারই প্রতিফলন। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যাবে না।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যাবলী থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট কোনো ফৌজদারি দায়-দায়িত্ব থেকে অংশগ্রহণকারীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা জানান, অধ্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডের কারণে যদি কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকে, সেগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে সরকার। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য নতুন করে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।

তবে রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

আইন উপদেষ্টা বলেন, লোভ, প্রতিশোধ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং সে ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোন হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়েছে এবং কোনটি ব্যক্তিগত ও সংকীর্ণ স্বার্থে করা হয়েছে—তা নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগীর পরিবার যদি মনে করে যে তাদের স্বজন ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং এর সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের কোনো সম্পর্ক ছিল না, তাহলে তারা মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। কমিশন তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দেবে, তা আদালতে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই গণ্য হবে।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, মানবাধিকার কমিশন যদি মনে করে কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হলেও ভুক্তভোগীর পরিবার আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য, সে ক্ষেত্রে সরকারকে সে বিষয়ে সুপারিশ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই নতুন কমিশন গঠিত হবে। এটি হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক হয়রানিমূলকভাবে দায়ের করা প্রায় ২০ হাজার মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি আলাদা সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইন উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবপরবর্তী সময়ে এ ধরনের দায়মুক্তির বিধান দেখা গেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদেও এ ধরনের আইন প্রণয়নের সুযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ হত্যাসহ যেকোনো সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। রাজনৈতিক প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো হত্যাকাণ্ড দায়মুক্তির আওতায় পড়বে না।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন: খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন: খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আজীবন আপোষহীন ভূমিকা পালন করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কোনদিন আপোষ করেননি। তিনি নিজের জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাইতো মৃত্যুর পর এদেশের মানুষ তাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো বিশাল জানাজা আর কখনো হয়েছে বলে আমাদের জানা নাই। এমনকি পৃথিবীর ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) দুপুরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের জমি বরাদ্দ দাতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্যোগে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে আয়োজিত শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে খতমে কোরআন ও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারী জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আমীর খসরু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অতিথিবৃন্দ তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য এসেছিলেন। তারা সকলেই বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের সমবেদনা জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বিরল সম্মান দিয়েছেন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর একজন সাধারণ গৃহবধূ হয়েও বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ইতিহাস গড়েছেন। ১৯৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়গুলোতেও গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেন।

আমীর খসরু বলেন, প্রতিটি দুর্যোগে বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির কথা ভেবেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য মানবিক ও গণতান্ত্রিক নেত্রী।

তিনি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহ দরবারে প্রার্থনা করেন আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে অধিষ্টিত করেন। তিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই শোক সভা আয়োজনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন অনন্য সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রামের প্রতি ছিল তাঁর অগ্রাধ ভালোবাসা। তাইতো বারবার ছুটে এসেছেন তিনি চট্টগ্রামে। সম্ভবত চট্টগ্রামেই তাঁর সর্বশেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ছাড়াও চট্টগ্রামের ইউএসটিসি, ডায়বেটিক হসপিটাল, শাহী কিডনি হাসপাতাল এসকল প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন, ক্যান্সার বিভাগে ওভাল মেশিন স্থাপন তাঁর আমলেই হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং এদেশের মানুষের মনের মনিকোঠায় তিনি আজীবন স্মরণিয় হয়ে থাকবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডোনার) ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর। বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জেনারেল সেক্রেটারী রেজাউল করিম আজাদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা.মো. আব্বাস উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটির ট্রেজারার অধ্যক্ষ লায়ন ড. মোহম্মদ সানাউল্লাহ, অর্গানাইজিং সেক্রেটারী মো. সাগির, স্পোর্টস এন্ড কালচারাল সেক্রেটারী ডা. ফজল করিম বাবুল, ডোনার মেম্বার মো. হারুন ইউসুফ ও ইঞ্জি. মো. জাবেদ আবছার চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল ইসলাম তানভীর, সাইফুল আলম, ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা.অসীম কুমার বড়ুয়া, হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক, অটিজম ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ডা.মাহমুদ আহমেদ চৌধুরী আরজু, পরিচালক (মেডিকেল এ্যাফেয়ার্স) ডা. এ. কে. এম. আশরাফুল করিম, পরিচলক (ফিন্যান্স) রফিকুল আলম, উপ পরিচালক (প্রশাসন) মোশাররফ হোসাইন, উপ পরিচালক (ফিন্যান্স) মনজুর আলম চৌধুরী, উপ পরিচালক (প্রশাসন, আইসিএইচ) ডা. মো. আবু সৈয়দ চৌধুরী, নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ মিসেস স্মৃতি রানী ঘোষ, নার্সিং ইনষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ মিসেস ঝিনু রানী দাশ সহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপকবৃন্দ, ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।