খুঁজুন
, ,

কাঠ পাচারের নিরাপদ রোড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 10 March, 2020, 9:00 pm
কাঠ পাচারের নিরাপদ রোড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। কামরুল ইসলাম দুলু, সীতাকুণ্ড : সরকারী বিভিন্ন জাতের কাঠ পাচারের নিরাপদ রোড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ। প্রতিদিন কোটি টাকার বিভিন্ন জাতের সরকারী কাঠ চট্টগ্রাম থেকে কাভার্ডভ্যানে করে পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

চট্টগ্রামের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফটিকছড়ি, রাঙ্গামাটি ও রাঙ্গুনিয়া থেকে কাঠ পাচার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ দিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। গত ৬ মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ দিয়ে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে ৪০ লক্ষ টাকার সেগুন ও গামারী কাট। সেই কাঠের পরিমাণ হচ্ছে দুই হাজার আটশত ঘনফুট। গোপন সংবাদের সূত্রে বন কর্মকর্তারা যেগুলো পান শুধুমাত্র সেগুলোই আটক করতে সক্রম হয়।

সীতাকুণ্ড অংশে গত ৬ মাসে আটক হওয়া সেগুন ও গামারী কাঠের মধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর ২৪.৫৩ ঘনফুট, ২৫ সেপ্টেম্বর ২৪.৮২ ঘনফুট, ২৭ সেপ্টেম্বর ৬.৬৮.৫৮ ঘনফুট, ১০ অক্টোবর দরজা পাল্লা ১৪ পিস, ৬ নভেম্বর চৌকাট ৪৮ পিস, ১ডিসেম্বর ফার্নিচার ৮ আইটেম, ১০ ডিসেম্বর ফার্নিচার ৪ আইটেম, ২২ ডিসেম্বর ৫৯১.২৬ ঘনফুট, ৮ জানুয়ারী ২২.৫১ ঘনফুট, ১২ জানুয়ারী ১০৪.৬৯ ঘনফুট, ১৬ জানুয়ারী ১৭২.৭৮ ঘনফুট, ২২ জানুয়ারী ১৪৭.০৯ ঘনফুট, ৮ফেব্রুয়ারি ২২০.৯৫ ঘনফুট, এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি ৫৮২.৭৯ ঘনফুট সেগুন ও গামারী কাঠ আটক করা হয়।

এছাড়া আটক করা হয় ১১ টি কাভার্ডভ্যান গাড়ী। মামলা দায়ের করা হয় ১৪ টি। কাঠ পাচারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছে কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতিসহ দলীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে স্থানীয় নানা সুত্র জানা যায়।

এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার সরকারী কাঠ পচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গাতে। ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যাচ্ছে এসব পাচারকারীরা।

এ ব্যাপারে ফৌজদারহাট বিট-কাম-চেক ষ্টেশনের ষ্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহমেদ ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, গত ৬ মাসে গোপন সংবাদের সূত্রে আমরা দুই হাজার ৮শত ঘনফুট সেগুন ও গামারী কাঠ কাভার্ডভ্যানসহ আটক করতে সক্রম হয়। এতে বন আইনে ১৪ টি মামলা দায়ের হয়।

Feb2
Feb2

গোল-অ্যাসিস্ট না করেও রদ্রির ‘গোল্ডেন বল’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:55 am
গোল-অ্যাসিস্ট না করেও রদ্রির ‘গোল্ডেন বল’

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের জমকালো মঞ্চে যখন আতশবাজির আলো আর সব ক্যামেরা লিওনেল মেসি কিংবা লামিন ইয়ামালকে খুঁজছিল, তখন ডাগআউটের এক কোণে দাঁড়িয়ে শান্ত মুখে হাসছিলেন একজন। তিনি রদ্রিগো হার্নান্দেজ কাসকান্তে—ফুটবলবিশ্ব যাঁকে চেনে কেবল ‘রদ্রি’ নামে।

বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ উঠেছে তাঁরই হাতে। ফুটবল যেখানে কেবলই গতি আর চটকদার ড্রিবলিংয়ের প্রদর্শনী, সেখানে রদ্রি প্রমাণ করলেন—মাঠের আসল নিয়ন্ত্রণ থাকে নীরব মস্তিষ্কের আর নিখুঁত টেকনিকের হাতে।

পুরো বিশ্বকাপে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও গোল্ডেন বল পুরস্কার হাতে তুলেছেন রদ্রি। মাঝমাঠে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রধান ইঞ্জিন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের নিউক্লিয়াস ছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র ১টি। মিডফিল্ডের পাশাপাশি ডিফেন্স সহায়তায়ও রদ্রি ছিলেন দারুণ কার্যকর।

টুর্নামেন্ট জুড়ে রক্ষণ আর আক্রমণের মাঝে এক অদৃশ্য সুতোর মতো কাজ করেছেন রদ্রি। গোল হয়তো তিনি প্রতি ম্যাচে করেন না, অ্যাসিস্টের খাতায়ও হয়তো স্ট্রাইকারদের মতো বড় বড় সংখ্যা থাকে না; কিন্তু স্পেনের প্রতিটি পাস, প্রতিটি আক্রমণ আর প্রতিটি মাঝমাঠের প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে তাঁর পা ছুঁয়েই।

রদ্রি ৮টি ম্যাচ খেলেছেন, টুর্নামেন্টের রেকর্ড গড়ে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়েছেন এবং যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাই-ইনটেনসিটি রান সম্পন্ন করেছেন। আর তাই, বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্যে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুটটি তাঁর হাতেই উঠেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল্ডেন বল সাধারণত ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গারদের দখলে যায়, যাঁরা গোল করে গ্যালারিতে উদযাপনের রোল তোলেন। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে মেসির জাদুর পর, ২০২৬-এর এই উত্তর আমেরিকান মঞ্চ দেখল এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের মস্তিষ্কের লড়াই।

ফাইনাল শেষে পুরস্কার হাতে রদ্রির সেই চেনা লাজুক হাসিই বলে দিচ্ছিল, তিনি স্পটলাইটের চেয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতেই বেশি ভালোবাসেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পাসিং অ্যাকুরেসির গ্রাফ আর মাঠের প্রতিটি ইঞ্চিতে তাঁর উপস্থিতি বাধ্য করেছে বিচারকদের তাঁর হাতেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি তুলে দিতে। তিনি ৮টি ম্যাচ খেলেছেন, টুর্নামেন্টের রেকর্ড গড়ে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়েছেন এবং যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাই-ইনটেনসিটি রান (তীব্র গতির দৌড়) সম্পন্ন করেছেন।”

লিওনেল মেসি ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের দাবিদার ছিলেন। তবে বিচারকদের ভোটে রদ্রি জিতলেন পুরস্কার।

গুরু লুইস দে লা ফুয়েন্তের ফুটবল দর্শনের আদর্শ প্রতিচ্ছবি হয়ে রদ্রিরা আজ স্পেনের জার্সিতে যোগ করলেন দ্বিতীয় তারকা। বিশ্বজয়ের ট্রফি আর গোল্ডেন বল বগলদাবা করে রদ্রি বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবলে রাজত্ব করতে হলে সবসময় উচ্চস্বরে চিৎকার করতে হয় না, মাঝমাঠে শান্ত থেকে নিখুঁত একটা পাস দিয়েই পুরো বিশ্বকে পায়ের মুঠোয় আনা যায়।

স্পেনকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস জিতলেন উনাই সিমন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:41 am
স্পেনকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস জিতলেন উনাই সিমন

পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। এতেই বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার তথা গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন তিনি।

পুরো বিশ্বকাপে আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন ২৯ বছর বয়সী উনাই সিমন। সাতটি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের শার্ল দে কেতেলারের গোলই ছিল টুর্নামেন্টে তার বিপক্ষে একমাত্র গোল।

আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে পেছনে ফেলে স্পেনের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে আস্থা অর্জন করেছিলেন উনাই সিমন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না পেলেও এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের গোলে জয় পেয়েছে স্প্যানিশরা।

টানা দুই গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:31 am
টানা দুই গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জিতে টানা দুই আসরে এই কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলার হয়েছেন ফরাসি তারকা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১০ গোল করে আবারও সবার ওপরে থেকে পুরস্কারটি নিজের করে নেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মেসির। তবে ১-০ গোলে হেরে শিরোপাও হারায় আর্জেন্টিনা, আর গোলশূন্য থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেন ৮ গোল নিয়ে।

এমবাপ্পে চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। শেষ ষোলোতে সুইডেনের বিপক্ষে আরও দুটি গোল যোগ করেন। এরপর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে জয়সূচক পেনাল্টি, কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে একটি গোল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান।

এই কীর্তির মাধ্যমে ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক আসরে ১০ বা তার বেশি গোল করার নজিরও গড়লেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের এক আসরে তার চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছেন কেবল ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন (১৩ গোল, ১৯৫৮ সাল) এবং হাঙ্গেরির শানদর কচিশ (১১ গোল, ১৯৫৪ সাল)।

এছাড়া ২২ গোল নিয়ে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন এমবাপ্পে। তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেছেন। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর এমবাপ্পে বলেন, ‘বিশ্বকাপে এত গোল করলে অবশ্যই সেটা আপনাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। কিন্তু আমি গোল্ডেন বুটের বদলে ফাইনালে খেলতে চাইতাম। অবসর নেয়ার পর হয়তো এই অর্জন আমার উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করবে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেটাই আমার ভাবনার বিষয় নয়।’

এদিকে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন ব্যক্তিগত পুরস্কারেও দাপট দেখিয়েছে। দলের অধিনায়ক রদ্রি টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন। অন্যদিকে গোল্ডেন বুটের তালিকায় এমবাপ্পের (১০) পর রয়েছেন মেসি (৮), জুড বেলিংহ্যাম ও আর্লিং হলান্ড (৭), আর ছয় গোল করে তালিকায় আছেন উসমান দেম্বেলে ও হ্যারি কেইন।