খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শাহাদাত বিপুল ভোটে জয়ী হবে:নোমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২০, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শাহাদাত বিপুল ভোটে জয়ী হবে:নোমান

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের প্রচারণার দ্বিতীয় দিন সকালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কবর জেয়ারত করেছেন বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) লালিয়ার হাটে মরহুমের কবর জেয়ারতে যান তারা। পরে ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলি ওয়ার্ডের লালিয়ার হাট, আমান বাজার, খোসাল শাহ সড়ক, বড়দিঘীর পাড়, ভাটিয়ারি রোড, ৩ নং বাজার, ফতেয়াবাদ, চৌধুরীহাট, চড়ারকূল, স্টেশন রোড, সন্দ্বীপ কলোনী, ২ নং জালালাবদ ওয়ার্ডের বালুছড়া বাজার, ইব্রাহীম কটন মিল, নতুন পাড়া, তুফানী রোড, খন্দকিয়া হাট, জমাদার পাড়া, কূলগাঁও, ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের অক্সিজেন মোড়, রউফাবাদ, মুরাদ নগর, কামরাবাদ, ছামাদপুর, হাজীপাড়া, খন্দকার পাড়া, চালিতাতলি সড়কে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন আবদুল্লাহ আল নোমান।

এ সময় নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের সাথে সালাম ও কুশল বিনিময় করেন। নেতা কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করে জনগণের কাছে মেয়র পদে ডাঃ শাহদাত হোসেনকে বিজয়ী করার জন্য ভোট চান।

এ সময় আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, চসিক নির্বাচনে জয় লাভের জন্য আমরা অংশ নিয়েছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ডাঃ শাহাদাত হোসেন বিপুল ভোটে জয়ী হবে। বুলেটের চেয়ে ব্যালট শক্তিশালী। ২৯ মার্চ চট্টগ্রামবাসী ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ৯০ এর গণ আন্দোলনের পর লালদিঘীর মাঠে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০০১ সালে এসে আমরা বাণিজ্যিক রাজধানী করার জন্য মন্ত্রী পরিষদে বিল পাস করি। শুধু নগরী নয় বৃহত্তর চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে সাজাতে আমাদের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তা বাস্তবায়ন করেনি। আজ পত্রিকায় দেখলাম আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধূরী চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে সাজাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আমার প্রশ্ন হলো, এটাতো অনেক আগেই বিএনপি বাস্তবায়িত করে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এটা করেনি কেন?

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা। সরকার আসছে সরকার যাচ্ছে কিন্তু জলাবদ্ধতার ব্যাপারে কিছুই হচ্ছেনা। আমাদের সুযোগ্য মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত হোসেন নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা ছাড়াও কর্পোরেশনের মাধ্যমে যে সব উন্নয়ন কাজ করা দরকার আমরা করবো। আমি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাজেটে আলাদা অর্থ বরাদ্ধ করার দাবী জানাচ্ছি।

এসময় বিএনপি মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, যে এলাকায় গণসংযোগ করছি এই এলাকাগুলো অবহেলিত। সিটি কর্পোরেশন একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। আমি সবার সাথে মতবিনিময় করে সব কিছু চিহ্নিত করে পরিকিল্পতভাবে উন্নয়নের জন্য এগিয়ে যাব।

তিনি বলেন, আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ধানের শিষে ভোট দিবেন। জনগণের দল বিএনপি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন দেশে উন্নতি হয়েছে। সেজন্য জনগণ আমাদেরকে চায়। কিন্তু দিনের ভোট রাতে নিয়ে ফেলার কারণে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। এবার আপনারা ভয়কে জয় করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশ নেত্রীকে মুক্ত করতে সহায়তা করবেন।

তিনি বলেন, চসিক নির্বাচনকে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর করার জন্য আমরা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছি। আমি জনগণের কাছে যেখানেই যাচ্ছি তারা আমাকে বিপুল সাড়া দিচ্ছে। এই চট্টগ্রাম শহরে আমার বেড়ে উঠা। ৩৪ বছর ধরে এই চট্টগ্রামের রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। বাকলিয়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের সব জায়গায় আমার পদচারণা। এই চট্টগ্রামকে সাজাতে কি দরকার কিভাবে সুন্দরভাবে সাজাতে হয় তা আমার জানা আছে। চট্টগ্রামকে সুন্দর ও নান্দনিক শহর করার একটা প্রয়াস আমার সব সময় ছিল। আমি এটা নিয়ে কাজ করছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সফিয়ান, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোঃ হেলাল উদ্দীন, সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, চাকসুর ভিপি নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোস্তাক আহাম্মদ খান, বিএনপি নেতা ইকবাল চৌধূরী, এস. এম. আবুল ফয়েজ, কাজী বেলাল, নুর মোহাম্মদ, শামসুল আলম, জিএম আইয়ুব খান, কামরুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ইয়াকুব চৌধুরী, ফাতেমা বাদশা, আব্দুল্লাহ আল হারুন, রফিকুল ইসলাম, জাকারিয়া সেলিম, মোঃ ইদ্রিস আলী, ডাঃ মোঃ ফরিদ, জেলী চৌধুরী, আব্দুল কাদের জসিম, মোঃ বেলাল, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম রাশেদ, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইলিয়াছ, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রোকসানা বেগম মাধু, বিএনপি নেতা সেলিম চেয়ারম্যান, মো: জাকের হোসেন, সোলাইমান মন্জু, এস. এম. আবুল কালাম আবু, মামুন আলম, গাজী ইউসুফ, মোহাম্মদ ইউসুফ, আবছার উদ্দীন, মোঃ ফোরকান, আজগর হোসেন আজু, মোঃ শাহজাহান, এম. ইলিয়াছ আলী, খোরশেদ আলম, শাহজাহান মঞ্জু, সরোয়ার জাহান পুতুল, আব্দুল করিম, সৈয়দ মহসিন, সৈয়দ ইকবাল, নাজিম উদ্দিন, এস. এম. আলী, নুরুল ইসলাম, ওয়াহিদুল আলম, শাহেদুল আজম, আবুল মনছুর, মোঃ জাবেদ, নাছির উদ্দীন, শাহজাহান খান প্রমুখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।