খুঁজুন
, ,

ছিন্ন দ্বীপের বিচ্ছিন্নতা!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 30 March, 2020, 9:22 pm
ছিন্ন দ্বীপের বিচ্ছিন্নতা!

প্রানঘাতি করোনা ভাইরাস যখন বিশ্বের ১৯৯ টি দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরেছে তার বিপরীতে মূল ভূখণ্ড থেকে বিছিন্ন চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সাড়ে চার লক্ষ মানুষ গৃহবন্দী হয়ে চরম আতঙ্ক আর উঠকন্ঠায় দিন পার করছে।
এ যেন ছিন্ন দ্বীপের বিচ্ছিন্নাতার গল্প!

সন্দ্বীপের ৪ লাখ মানুষের জন্য রয়েছে ৩১ শয্যা বিশিষ্টি একটি হাসপাতাল। সেখানে হাসপাতালটি নিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খায় সেখানে করোনার মত প্রাণঘাতি রোগের চিকিৎসা কিভাবে দিবে তানিয়ে জনমনে সংশয় আছে!
করোনা পরীক্ষার কিট নেই। চিকিৎসকের জন্য নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুরক্ষা পোশাক পিপিই। রোগীর জন্য নেই আইসিইউ। গত ১ মাসে প্রবাসী এসেছে ১০ হাজার।

উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের তথ্যমতে, হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে মাত্র ৭৭ জন। এদিকে নৌ পথের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ২ দিনে ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপে এসেছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ।

সরকারি নিষেধাজ্ঞায় নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়ায় চিন্তার বাঁঝ পরেছে সন্দ্বীপের মানুষের। সন্দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোটা চট্টগ্রাম শহর নির্ভর। প্রসূতি রোগীদের নিয়ে টেনশন সবচেয়ে বেশি। রোগীর অবস্থা একটু খারাপ হলে চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে হয়।

ইতোমধ্যে সরকারের নির্দেশে উপকূলীয় অঞ্চলে সেনাবাহিনীর সাথে মাঠ প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য মাঠে নেমেছে নৌ বাহিনী।তারা সন্দ্বীপের রাস্তায় টহল দিয়ে করোনা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজ করছে

নৌযান শহরের সাথে যোগাযোগের প্রধান তম বাহন হওয়াই মানুষের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। জরুরী কোন স্বাস্থ্যসেবা নিতে হলে কি করবেন সে উপায় খোঁচ্ছে মানুষ কারণ সরকারের নির্দেশে নৌযান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ।

এ বিষয়ে সাউথ সন্দ্বীপ কলেজের প্রভাষক অনিক কর পাপ্পু তার ফেইসবুকে লিখেছেন, ইমার্জেন্সি চিকিৎসার জন্যে চট্টগ্রামে যারা যাবে তাদের জন্যে যেন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি। বেশিরভাগের জন্যেই সম্ভব নয় একটা স্পীড বোটের পুরো ভাড়া দিয়ে শহরে যাওয়া।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে বিবেচনার অনুরোধ করছি।

সন্দ্বীপ বাসী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে শহরের উপর নির্ভরশীল– এটা আমাদের মৌলিক অধিকার।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম বলেন, সন্দ্বীপে করোনা পরীক্ষার কীট নেই। আমরা কাউকে সন্দেহ করলে ফৌজদারহাটে রেফার করবো। বিশেষ প্রয়োজনে রোগীকে চট্টগ্রাম নেয়ার জন্য নৌপথে প্রশাসন সহযোগীতা করবে। ৭৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। গত ২ দিনে ঢাকা – চট্টগ্রাম থেকে যারা এসেছে তাদেরও হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক। আমরা হারামিয়া ২০ শয্যা হাসপাতালে ৫ টি আইসোলেশান বেড রেখেছি।

সম্মিলিত সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি বলেন, সন্দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে সন্দ্বীপে করোনা সনাক্তের কীট আনা দরকার ছিল। এ বিষয়ে প্রশাসন একটু চেষ্টা করলে সম্ভব বলে মনে করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বোধি চাকমা বলেন, প্রসূতি রোগীকে চট্টগ্রাম নেয়ার প্রয়োজন হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা করে দিব।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।