খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে সাড়া ফেলেছেন ডা: শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে সাড়া ফেলেছেন ডা: শাহাদাত

ডা: শাহাদাত হোসেন

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ :::: সারা বিশ্বে মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কঠিন মুহুর্তে দেশের অনেক ডাক্তার যখন চিকিৎসা সেবা প্রদানে অনিহা দেখাচ্ছেন আবার অনেক ডাক্তার সেবা দিতে গিয়ে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন। এই অচলাবস্থায় যাতে কোনো রোগী চিকিৎসা বঞ্চিত না হয় সেজন্য এমন সময়ে মোবাইলে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ও চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা: শাহাদাত হোসেন।

দিনভর প্রিয় শহরের প্রাণপ্রিয় নগরবাসির সেবায় নেতা হিসেবে অসহায় দুঃস্থ দিনমজুরের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত দু ঘন্টা ফিরছে চিকিৎসকের পেশায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পেইজে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা লাইভে থেকে জরুরি চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন ডা: শাহাদাত হোসেন।

স্বাস্থ্যগত যেকোন সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ তার ফেসবুক লাইভে যুক্ত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরামর্শ গ্রহণ করছে। চট্টগ্রামের গন্ডি পেরিয়ে দেশ এবং দেশের বাইরে অবস্থান করা প্রবাসীরাও এই টেলি মেডিসিনের সেবা নিচ্ছেন। দেশের বাইরে দুবাই, সৌদি আরব, ওমান,কাতার,সিঙ্গাপুর,যুক্তরাজ্য,যুক্তরাষ্ট্র,স্পেন,মালয়েশিয়া, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাড থেকে প্রবাসীরা ফোনে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।

প্রতিদিন ডা: শাহাদাতের ফেসবুক লাইভের ভিউ ছাড়িয়ে যায় লাখ থেকে কয়েক লাখ।

জানা গেছে গত ৪ এপ্রিল ফেসবুক ভেরিফাইড পেইজে তিনি চিকিৎসা সেবার ঘোষণা দিয়ে তিনি নগরবাসীর উদ্দ্যেশে একটি পোস্ট করেন।

নিচে তার পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো:

প্রিয় নগরবাসী সালাম/আদাব নিবেন।

লকডাউনের এই সময়ে অনেকে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যাই ভুগছেন কিন্তু সব কিছু বন্ধ থাকায় ডাক্তারের কাছেও যেতে পারছেন না বা পরার্মশ নিতে পারছেন না, আমারও অনেক রোগী আছে যারা আমাকে নিয়মিত ফোন দিচ্ছে।

“সেবাই পরম ধর্ম”
অন্যসব সময়ের মতো এই দুঃসময়েও আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই, আপনাদের সেবাই নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।

আমি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭.৩০-৯.৩০ পর্যন্ত লাইভে থাকবো, আপনারা আপনাদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা আমার সাথে শেয়ার করতে পারেন, আমি সর্বাত্নক চেষ্টা করবো আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে।

সবাই সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন, ধন্যবাদ।

তাছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে গৃহবন্দি সাধারণ নগরবাসীকে ঘরে ঘরে চিকিৎসা সেবা ও জরুরি পরামর্শ দিতে ডা. শাহাদাতের উদ্যোগে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠন করা হয় একটি মেডিকেল টিম।

যেখানে সিনিয়র জুনিয়র মিলে ৭ জন চিকিৎসক অনলাইনে বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

ফেসবুক পেইজে মেসেজ পাঠালে ডাক্তাররা তার উত্তর দিচ্ছেন। সব ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আলোচনা করা যাবে এই প্লাটফর্মে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে। গুরুতর কোন কিছু হলে ফোন করে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ডা. শাহাদাত ছাড়াও তার মেডিকেল টিমের সকল সকল চিকিৎসকের ফোন নাম্বার দেওয়া হয়েছে।

করোনা হেল্প সেন্টারের ডাক্তারদের তালিকা:

ডা: শাকির উর রহমান ০১৬১৬-৪৯১৬১৩

ডা: হাসানুল বান্না ০১৭৪০-৫০৮১৪৪

ডা: আরফান খান নিবীর ০১৬৭৬-৩১৯২২০

ডা: সাগর আজাদ ০১৭৬৩-৭৫৮৭৫৮

ডা: মীর কাশেম মজুমদার ০১৬৮৩-৪১৬৪২৬

ডা: তৌকিরুল ইসলাম ০১৬৭৩-৭০৪৩৭২

ডা: তানভীর হাবিব তন্মা ০১৭৬০-৮৮৮৭৭৭

এ বিষয়ে চিকিৎসক ও বিএনপির নগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জানান, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দুঃস্ত দিনমজুর ও অসহায় ছাড়াও মধ্যবিত্ত জনগণের মাঝে আমার সাধ্যমত সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছি।

তাছাড়া যেহেতু পেশায় আমি চিকিৎসক তাই নগরবাসীর দুঃসময়ে ঘরবন্দি মানুষের স্বাস্থ্য সেবাটাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।অনলাইনে ফেসবুক লাইভে স্বাস্থ্য সেবা প্রার্থীদের সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ৫০০ এর অধিক মানুষকে অনলাইনে ফ্রি সেবা প্রদান করছে তার টিমের চিকিৎসকরা।

বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ কে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রামবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ডা: শাহাদাত। তিনি বলেন, এই দুর্যোগকালীন সময়ে আপনারা নিজ ঘরে অবস্থান করে পরিবার পরিজন নিয়ে নববর্ষ পালন করুন। বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হতে তিনি নগরবাসীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেছেন।

পরিশেষে চসিক নির্বাচনে বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী বলেন,প্রিয় নগরবাসী আপনার ঘরে থাকুন,ঘরে থাকুন এবং ঘরে থাকুন।

ইতিমধ্যে ডা: শাহাদাতের একটি নির্বাচনী বার্তা চট্টগ্রামবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি সেটি হলো-নগর পিতা নই,নগর সেবক হতে চাই।

যে কেউ যেকোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার জরুরি সমাধান পেতে হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে ০১৭১৫-১৯৮৬১২  অথবা ফেসবুক পেইজ https://www.facebook.com/DrShahadat7/

ইতোমধ্যে ডা: শাহাদাতের এই স্বাস্থ্য সেবা সকলের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। লাইভে শুধু স্বাস্থ্য সেবাতে তিনি থেমে থাকেননি। এর পাশাপাশি তিনি এই দূর্যোগকালীন সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের পাশে ত্রাণ নিয়েও দাঁড়িয়েছেন। প্রতিদিন তার পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিম্মবিত্ত,মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী।

এছাড়াও জনসাধারণের মাঝে প্রতিনিয়ত মাস্ক,গ্লোভস,হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও করোনা সচেতনামূলক লিফলেট প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

২৪ ঘণ্টা /মোরশেদ রনী

 

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।