খুঁজুন
, ,

আমি মফস্বল সংবাদকর্মী,আমার জন্য কি?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 April, 2020, 4:02 pm
আমি মফস্বল সংবাদকর্মী,আমার জন্য কি?

নিজের কষ্টকে আকরে ধরার পর,যখন
তেল মাখতে পারিনা বলে মূল্যায়নের কদর পাই না তাই আমার জন্য কোন কিছু নেই। এ জন্য আজ এ কঠিন মূহুর্তে আমার জন্য নেই কোন প্রটেকশন ব্যবস্থা, না আছে বেতন ভাতা। না কোন কর্মের মূল্যায়ন। কারণ আমি তো মফস্বল সাংবাদকর্মী।

চাপাবাজ, ধান্ধাবাজা, চাদাবাজ আর হলুদরাঙা সাংবাদিক নই। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, দূর্যোগের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করি। নিরেট সত্য বের করে আনতে কখনো নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কাকে পিছনে ফেলে দায়িত্ব পালন করি। ভুলে যাই খাওয়া-দাওয়া। মানুষের কথা বলি, মানবতার কথা বলি। ক্ষুধার্ত নিপীড়িত, অন্যায়, অবিচার, অপরাধের কথা তুলে ধরি। আবার সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরি।

হয়তো মফস্বলে থাকি বলে আমার কোন মুল্যায়ন হয় না। প্রমোশন ও পেনশন হয় না। তারপরেও দুর্নাম আছে, সাংবাদিকের জায়গায় সাংঘাতিক শুনি। এটা হয় হলুদরাঙা এক ধরণের অপসাংবাদিকদের কারণে। তারপরেও অপবাদের লাঞ্চনা মাথায় নিয়েই মহা দূর্যোগের সময় সবার পাশে, সবার কাজে নিলর্জ্জের মতো মাঠে কাজ করি। মানুষের পাশে দাঁড়াই। দুর্ভোগের কথা তুলে ধরি। দেশের মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে খাওয়া ও বিশ্রাম ছাড়াই পরিশ্রম করি। কখনো সামনে রাখা খাবার রেখেই কর্ম দায়িত্বে দৌড়াই। তবুও ভালো থাকুক সবাই। মানবতার জয় হোক। ভালো থাকুক আমার প্রিয় জন্মভূমি প্রিয় বাংলাদেশ। কারণ দেশ ভালো থাকলে যে, দেশের মানুষ ভালো থাকবে।

কারণ আমি যে, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমের অতি সামান্য হলেও একজন দায়িত্বশীল সচেতন নাগরিক। আমি ঘুমালে যে, একটি স্তম্ভ দূর্বল হয়ে পড়বে। তাই যতোই দূর্যোগ আসুক না কেন, আমাকে যে মহা দূর্যোগে থেকেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। মুক্তির সন্ধান খুঁজে দিতে হবে। সমাধান দেখিয়ে দিতে হবে। ওই যে সাংবাদিকরা জাতির জাগ্রত বিবেক। জানি আমার জন্য কিছু নেই। তবুও কাজ করে যাব। ঘরের পরিবারের স্বজনদের অনেক সময় খোঁজ নেয়া হয়না।

সারাদিন খবরের পিছনে পিছনে ছুটি। নানান উৎকুন্ঠায় থাকে আমার পরিবার। কী না কী হয়। কত উৎকুন্ঠা। সঙ্গ পায় না, একা একা খাওয়া খায়। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকে, কখন বাড়িতে ফিরি। আমার তো নিরাপত্তা নেই। পরিবারের আপত্তি,কেন সাংবাদিকতা করি। মাঝে মাঝে জীবননাশের হুমকিও আসে। হামলাও হয়, মামলাও হয়। তবুও ভয় না করে কাজ করি। এ পেশায় যে ভয় পেতে নেই। এ পেশায় পদে পদে ঝুঁকি। তবুও নির্ভীক থাকি।

সংবাদমাধ্যমে সমাজের দর্পন। সে দর্পন সবার কাজে, সবার পাশে থাকার। মানুষের পাশে, রাষ্ট্রের কাজে নিবেদিত করেছি নিজেকে। কিছু না হোক, দেশের জন্য, মানুষের জন্য তো কাজ করতে পারছি। আমার কলম, আমার ক্যামেরা, আমার রিপোর্টে তো কতজনেরই না ভাগ্যের দ্বার খোলে। মানবতার অধিকার খুঁজে পায়। নির্যাতিত, নিপীড়িতরা বিচার পায়। এটাই আমরা সার্থকতা। এটা নিয়ে মনের শান্তি খুঁজি। কখনো ক্লান্তি শরীরে ঘাম ঝরে, তবুও সেই ঘামঝরা ক্লান্তি সময়ে খুঁজি মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর প্রচেষ্টার নতুন কোন রিপোর্ট সৃষ্টির। মহামারী করোনা ভাইরাসের থাবায় অচল হয়ে পড়েছে আজ গোটা বিশ্ব।এ মরণ থাবা থেকে বাদ যায়নি আমার দেশ বাংলাদেশও।

চারদিকে করোনা আতঙ্ক। এরকম একটা ভাইরাস। যা আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে তৈরি হয় আরেক আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক। মারা গেলে লাশ নিয়ে আতঙ্ক। লাশের সৎ কাজ পর্যন্ত হচ্ছে না আক্রান্ত হবার ভয়ে। যদি লাশ থেকে ছড়িয়ে পড়ে এ ভাইরাস। এজন্য লাশকে জীবাণুনাশক স্প্রে করে মাত্র তিন চারজনে মাটি দিচ্ছেন। চীনে তো পুড়ে ফেলার ঘটনার খবর পড়েছে মানুষ।তারপরেও মাঠে, খবরের পাশে, খবর জানাতে সবাইকে ঘরে থাকতে বলছি নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে। আহা কী ভয়ঙ্কর সংক্রামক ভাইরাস। এ সংক্রমনে ইতিমধ্যে দেশে ৪৮২ জন শনাক্ত। ৩০ জনের প্রাণহানি।

মহামারী এ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার নিয়েছেন জোর পদক্ষেপ। ভাইরাস সংক্রামক রূখতে চালানো হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। সচেতনতামূলক প্রচার মাইকিং। সকল প্রকার গণমাধ্যমে জানানো হচ্ছে ভাইরাসের উপসর্গ। সংক্রামক রোগ হিসেবে গণজমায়েত বন্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় করা হয়েছে লকডাউন। ভয়ে আতঙ্কে পুরো দেশ।

তবুও এ ভয়ের মাঠকে শঙ্কামুক্ত করতে নির্ভীকভাবে কাজ করছে প্রশাসন, ডাক্তার-নার্স, পুলিশ, সশস্ত্রবাহিনী আর সাংবাদকর্মী। এ যোদ্ধাদের মধ্যে আমিও মফস্বলের সংবাদকর্মী। সরকার সবাইকে বাড়িতে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য নিয়েছেন ঘরে ফেরা কর্মসূচি। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছেন। দিবেন বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবাও। স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় দিবেন পর্যাপ্ত সামগ্রী।

কিন্তু আমরা? আমাদের জন্য তো কোন কিছু নেই। মফস্বল সাংবাদকর্মী বলে কথা। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পালন করলেও আমাদের জন্য ভাবা হয়না। ভাবা হয় না আমাদের পরিবারের কথা। আমাদের অনেকেই অতি কষ্টে সংসার চালান। ক্ষুধার অনলে পুড়লেও পাথর চাপা দিয়ে সয়ে হাসিমুখে কাজ করে যান ঠিক। কষ্ট যতোই হোক না কেন, প্রকাশ করি না লজ্জার খাতিরেই। কাকে বলবেন? বলার তো জায়গা নেই। নিজের কষ্টকে চেপে রেখে মানুষের কষ্ট তুলে ধরাই যেন আমাদের ধর্ম। জাতির বিবেক বলে কথা। করিও তাই। আমাদের গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানও সামান্য কিছু ভাতা ও একটি আইডি কার্ড প্রদান করে বলেছেন কাজ করে যাও। সবাই আবার সম্মানী ভাতাও পায় না। কিন্তু কষ্টের তো শেষ নাই। ঘটনার পিছনে ছুটোছুটি। সময়ের পর সময়। ঘন্টার পর ঘন্টা। সময়, পরিশ্রম আর বিনা বেতনে কি সুন্দর জীবন আমার। না বলার কষ্ট নিয়েই এভাবেই চলে যায় বছরের পর বছর। তবুও দিন শেষে বলি ভালো থাকুক সবাই। ভালো থাকুক আমার স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আমার প্রিয় বাংলাদেশ। ভাগ্য না বদলালেও বিরতিহীন কাজ।

গৌতম চন্দ্র বর্মন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।