খুঁজুন
, ,

মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 April, 2020, 4:19 pm
মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না : সুজন

মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে জুয়া খেলতে দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য সেবা জনগনের সাংবিধানিক অধিকার। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে বাংলাদেশেও। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে দেশবাসীকে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিদিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

আমরা জানতে পেরেছি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেড ও ভেন্টিলেটর সম্বলিত ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ।

কিন্তু গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকায় থাকা পার্কভিউ হাসপাতালটি একজন রোগীকে চিকিৎসা সুবিধা না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে কোনো আইসিইউ নেই।

ফলতঃ এ ভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগী আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে মারা গেছেন। আমরা জানি যে পার্কভিউ হাসপাতালটি স্বাধীনতা বিরোধী তথা জামাত শিবির পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠন। চট্টগ্রামে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয় তার মধ্যে এ হাসপাতাল অন্যতম। সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা সত্বেও হাসপাতালটি রোগী ভর্তি না করে রোগীকে মৃত্যুর মুখোমুখি ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া হাসপাতালটি কোন অশুভ শক্তির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে কি-না তাও গভীর ভাবে খতিয়ে দেখার আহবান জানান সুজন।

পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গোয়ার্তুমির কারণে একজন রোগী মৃত্যুযন্ত্রণায় মারা যাবে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে মানুষের প্রয়োজনে যদি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া না হয় তাহলে মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে এবং জনমনে ক্ষোভের সঞ্চারও সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।

তাছাড়া নির্বাচিত বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা তাদের নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে বিকল্প হিসেবে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকা হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছে। অথচ হাসপাতালটির গ্যাস, বিদ্যুত ও পানির সংযোগও নেই। এটা জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে এতোদিন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঐসব নামী দামী বেসরকারি হাসপাতালগুলো যারা রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছে দেশের এ দূর্যোগে তাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? তারা কিভাবে একজন রোগীর সাথে এরকম মনুষ্যত্বহীন আচরণ করে?

তিনি বলেন, ঢাকার পরেই চট্টগ্রামের অবস্থান। দেশের মোট আয়ের সিংহভাগের যোগান হয় চট্টগ্রাম থেকেই। কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার অভাবে রেখে কোন উদ্যোগই সফল হবে না বলে অভিমত দেন তিনি।

এছাড়া চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করে অতিসত্বর তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া করোনা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, কিট এবং ঔষধপত্রসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও বৃদ্ধি করার আহবান জানান।

তিনি জনগনের নিকট কোন ভূল তথ্য না দেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের নিকট আহবান জানান এবং চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালক স্বাস্থ্য’র নিকট বিশেষ অনুরোধ জানান।

পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত মুত্যুর কারণে সংশ্লিষ্ট রোগীর আত্নীয় স্বজন যদি কোন ধরণের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতা চায় সেক্ষেত্রে নাগরিক উদ্যোগ সর্বাত্নক সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সুজন আজ বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান বিপিএম, পিপিএম এর সাথে তার কার্যালয়ে স্বাক্ষাত করেন।

স্বাক্ষাতকালে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে করোনা আক্রান্ত রোগী ছাড়াও অসুস্থতাজনিত কারণে এ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটাও ভীষন কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। এ অবস্থায় জনগনের প্রয়োজনে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে কিছু সংখ্যক জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা করার জন্য নগর পুলিশ কমিশনারের সুদৃষ্টি কামনা করেন। নগরবাসীর ঘরে থাকা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যারা অপ্রয়োজনে বাহিরে ঘোরাফেরা করছে তাদেরকে শাস্তি হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রমে করোনা ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা করতে পাঠানোর আহবান জানান তিনি।

নগর পুলিশ কমিশনার নাগরিক উদ্যোগের প্রেরিত প্রস্তাবনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি এভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য সকলের নিকট আহবান জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে করেনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রশাসন সাহসিকতার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পুলিশের অনেক সদস্য কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। তারপরও জনগনের প্রয়োজনে পুলিশ যে কোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি নাগরিক উদ্যোগের দাবীকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ডিসি ট্রাফিকের অধীনে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করার আশ্বাস প্রদান করেন। নগরবাসীকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যও নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে আহবান জানান তিনি।

বর্তমানে যে সব নতুন রোগী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তারা সবাই একে অন্যজনের সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছেন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

তাই নগরবাসীকে ঘরে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের জনগনের সহযোগিতা কামনা করেন নগর পুলিশ কমিশনার।

 

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।