খুঁজুন
, ,

দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেটের নিকট জনগন জিম্মি হয়ে পড়েছে : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 April, 2020, 6:04 pm
দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেটের নিকট জনগন জিম্মি হয়ে পড়েছে : সুজন

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ ::: দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেটের নিকট জনগন জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল শনিবার (১৮ই এপ্রিল) রাত ৯টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষজন। এদের কথা মাথায় রেখে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্যও নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের এতোসব উদ্যোগের মধ্যেও সংকটাপন্ন এই মূহুর্তে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের এহেন অব্যসায়ীসুলভ আচরনের কারণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আসন্ন রমজানের চাহিদাকে পূরণ করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে প্রচুর পরিমাণে পণ্য এসেছে। ছোলা, পেঁয়াজ, তেল, চিনি, খেজুরসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী খালাস হচ্ছে। বিভিন্ন পণ্য বোঝাই আরো বেশ কয়েকটি জাহাজ কয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌছাবে। তারপরও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা অনৈতিকভাবে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগনের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের এহেন আচরনের ফলে জনগন এই দুঃসময়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন অপতৎপরতা রাষ্ট্রকে জিম্মি করার সমতুল্য। কতিপয় সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী দীর্ঘ দিন ধরে নানা অজুহাতে রাষ্ট্র ও জনগনকে জিম্মি করার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন যা প্রতিহত করতে হবে।

তিনি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনগনের হাতের নাগালে রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং করার উদাত্ত আহবান জানান।

লাইভে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীরা সুজনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। বিশেষ করে লাইভটি প্রবাসীদের সাথে মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে বলে মত প্রকাশ করেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের খবর জানতে প্রবাসীরা উদ্বিগ্ন হয়ে রয়েছে। লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন নাগরিক দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের নৈরাজ্য বন্ধ, বিদ্যুতের লোড শেডিং কমিয়ে আনা, ওয়াসার পানি সরবরাহ নিয়মিত করা এবং ডেঙ্গুর উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য সুজনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবসায়ীরা জনগনের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোন নির্দেশনাই মানছে না এসব ব্যবসায়ীরা। নিজেদের ব্যবসা বাচাতে তারা নানা ছলছাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। ইতিপূর্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটর সম্বলিত ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল নির্বাচন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। তারপরও আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগী ইতিমধ্যে মারা গেছেন। যা জনগনের স্বাস্থ্য সেবার সাথে চরম প্রতারণার সামিল। এসব সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের পিছনে কারা ইন্ধন জোগাচ্ছে চট্টগ্রামের মানুষ তা জানতে চায়। করোনা দূর্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্টান মানবতার ঢালি নিয়ে এগিয়ে এলেও এক্ষেত্রে পুরোপুরি উল্টো এসব স্বাস্থ্য সেবা ব্যবসায়ীরা। অথচ বছরের পর বছর তারা রোগীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আয় করেছে। তাদের এ আয়কে প্রলম্বিত করার জন্য তারা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকা হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছে। হাসপাতালটিতে গ্যাস, বিদ্যুত এবং পানির সংযোগও নেই। এমনকি এ হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য চাঁদা সংগ্রহের কাজও করছে ঐসব স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীরা। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকায় থাকা হাসপাতালগুলো এগিয়ে এলে তাদের হাসপাতালেরই আইসিইউ সুযোগ সুবিধা পেতো আক্রান্ত রোগীরা। কিন্তু কি কারণে তারা ওয়াদা দিয়েও পিছু হটেছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। যেখানে বিশ্বের নামী দামী হাসপাতালগুলো তাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে দিনরাত মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামে হলি ক্রিসেন্টের মতো একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালে কোনভাবেই করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা হতে পারে না বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি টিসিবি’র ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এর পরিধি আরো বিস্তৃতি করার আহবান জানান।

তাছাড়া টিসিবি’র চলমান পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুধু মূল সড়কেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে মত প্রকাশ করে টিসিবি’র পণ্য সামগ্রীর গাড়ীগুলো যদি মূল সড়ক বাদ দিয়ে নগরীর বিভিন্ন অলি গলি কিংবা পাড়া মহল্লায় অবস্থান করে তাতে করে প্রকৃত অর্থেই জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির সরকারী যে উদ্দেশ্য তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি সরকারের নানাপ্রকার উদ্যোগের মাঝেও ত্রাণ নিয়ে হঠাৎ করে অসন্তোষ সৃষ্টির পিছনে তৃতীয় কোন পক্ষের উস্কানি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখার জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানান।

তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিনা মোতাবেক ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে দল মত নির্বিশেষে প্রকৃত অসহায়দের নিকট ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিসহ সকলের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানান।

এছাড়া গার্মেন্টসসহ যে সকল শিল্প প্রতিষ্টান এখনো শ্রমিক কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন প্রদান করেন নাই তাদেরকে অতিসত্বর বেতন ভাতা পরিশোধ করারও উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

তাছাড়া বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত যে সব প্রবাসীরা বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে খাদ্য এবং আর্থিক সংকটে ভুগছেন তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানান জনাব সুজন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের সহযোগিতায় যে সকল ধণাঢ্য প্রবাসীরা এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এর পাশাপশি ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে সকল প্রবাসীরা এ রকম মানবেতর সমস্যায় আছে তাদের প্রতিও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার জন্য ধণাঢ্য প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি নগরবাসীকে একান্তই জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে বাহিরে না যাওয়ার করজোড়ে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে একমাত্র প্রতিষেধকই হচ্ছে ঘরে থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান এ যুদ্ধে আমাদের জয়লাভ করতে হবে এবং অবশ্যই আমরা জয়লাভ করবো যদি না আমরা একটু ধৈর্য্য ধরে সবাই ঘরে থাকতে পারি।

তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ঘরে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে নগরীর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বিদ্যুতের প্রধান প্রকৌশলী এবং ওয়াসার পানির সরবরাহ নিয়মিত রাখার জন্য ওয়াসার এমডি’র নিকট সবিনয় অনুরোধ জানান।

লাইভের শেষ পর্যায়ে দেশে ও প্রবাসে যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা অসুস্থ অবস্থায় আছেন তাদের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত কামনা করেন। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত হাজার হাজার শুভানুধ্যায়ী ফেসবুক লাইভে এ দোয়া মাহফিল ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন খোরশেদ আলম সুজন।

Feb2
Feb2

নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 12:33 pm
নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর উদ্বোধন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ পালনের শুভ সূচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও তার হৃদয়জুড়ে ছিল সমগ্র বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশের মানুষও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছে।

তিনি জানান, ১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে নজরুল প্রথমবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহ, প্রেম, বিরহ ও তারুণ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন জাতির ভাগ্যআকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা আজও তার সৃষ্টি থেকে পাওয়া যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও নজরুলের কবিতা ও গান ছিল অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অতীত নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও নজরুল সমান প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর ও নিবিড় করতে বছরব্যাপী নজরুল বর্ষ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। এর মেয়াদ চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত।

এর আগে, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই ঘোষণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ, অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 9:12 am
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ, অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী

সারা দেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সমমান পরীক্ষাও। এবার সব মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, যেখান থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তের পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও থাকবে বডি–ওর্ন ক্যামেরা।

সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি)-এর বাংলা–২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এবার মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কোর্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। রাজশাহী বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনের আওতায় এবার পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। নকল বা প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো পরীক্ষার্থী নকলের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি নগরবাসীকে যানজট এড়াতে সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের সামনে না নেমে নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে নেমে হেঁটে কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে। নকলের অভিযোগ থাকা কয়েকটি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হলেও দুর্গম এলাকা ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনায় কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেভেন্থ–ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা সূর্যাস্তের পর বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়া হবে।

১০ জন নিয়েই বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 9:02 am
১০ জন নিয়েই বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে গেল প্রথম নকআউট ম্যাচেই। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র সান ফ্রান্সিসকোতে ২-০ গোলে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কাটল। ১০ জন নিয়ে খেলেও তারা সাফল্যের দেখা পেল। বাংলাদেশ সময় আগামী ৭ জুলাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে লড়বে আমেরিকানরা।

শুরু থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিকরা। ২৪ মিনিট পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই সময় পর্যন্ত নেওয়া দুটি শটের কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকরা।

ক্রমাগত চাপের ফল পেতে অবশ্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি যুক্তরাষ্ট্রকে। প্রথমার্ধের ৪৫তম মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় তারা। মালিক টিলম্যানের পাস থেকে আক্রমণের সূচনা হয়। তার বাড়ানো বল বসনিয়ার দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গিয়ে পড়ে ফ্লোরিয়ান বালোগানের সামনে। সুযোগ বুঝে দ্রুত এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ভাসিলজের সামনে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই স্ট্রাইকার।

বালোগানের সেই গোলে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বিরতির পর পর ৫২ মিনিটে বসনিয়ার শীর্ষ গোলদাতা এডিন জেকো হালকা চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তবুও বলের দখল ধরে রেখে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রেখেছিল। ৬১ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র। দুই দলের খেলোয়াড় মুহারেমোভিচ ও বোলোগান বলের দখল নিতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান। রেফারি সম্ভাব্য লাল কার্ড দেখার জন্য ভিএআরের শরণাপন্ন হন। ৬৫ মিনিটে বোলোগানকে মার্চিং অর্ডারের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। বসনিয়া দারুণ সুযোগ পায় ঘুরে দাঁড়ানোর। দেমিরোভিচ ও বাজারাকতারেভিচের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ৭৯ মিনিটে আবার জাল কাঁপায়। ম্যাককেন্নির বাড়ানো বল ডেস্ট খুঁজে পান। তার পাস থেকে পুলিসিক বসনিয়ার জালে বল ঠেলে দেন। কিন্তু তার উদযাপনের আগেই লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা উঁচিয়ে ধরেন।

গোল বাতিলের তিন মিনিট পর যুক্তরাষ্ট্র স্কোর ২-০ করে। টিলম্যান অসাধারণ এক ফ্রি কিক থেকে গোল করেন। তিনি বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁতভাবে বলটি কার্ভ করে জালের ডান কোণ দিয়ে ভেতরে জড়ান। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল ডানদিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি।

অবিশ্বাস্য গোলের সাথে সাথেই পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। ১০ জন নিয়ে খেলার প্রতিকূলতা জয় করে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোল তাদের জয় নিশ্চিত করে ফেলে।

১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তারা সেরা সাফল্য পেয়েছিল ২০০২ সালে, ওইবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল তারা।