জনবহুল এলাকায় ফোর এইচ গ্রুপের গার্মেন্টস খোলা রাখায় আতঙ্কে নন্দীরহাটের বাসিন্দারা!
২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। সুমন গোস্বামী, অতিথি প্রতিবেদক : লকডাউন মধ্যে জনবহুল এলাকায় ফোর এইচ গ্রুপের গার্মেন্টস কারাখানা খোলা রাখায় কমিউনিটি সংত্রুমণ ছড়ানো আতঙ্কে আছে নন্দীরহাটের এলাকাবাসী।
প্রথমদিকে নভেল করোনা ভাইরাস মৃত্যু ও সংত্রুমণের কম থাকলেও এখন প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এরমধ্যেই গার্মেন্টস কারখানা খোলা থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে আসছেন শ্রমিকরা। ফলে ছড়াতে শুরু করেছে সংত্রুমণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে এক দিনেই নতুন করে ৬৪১ জনের শরীরে করোনা সংত্রুমণ শনাক্ত হয়েছে বুধবার। গত ৮ মার্চ মহামারি নভেল করোনা ভাইরাস সংত্রুমণের শনাক্ত হওয়ার পর এটিই একদিনের আত্রুান্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এই নিয়ে করোনা আত্রুান্তের সংখ্যা ৭১০৩ জনে পৌঁছাল। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ১৬৩জন। সরকারি হিসেবে, করোনা আত্রুান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এরমধ্যেই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা নন্দীরহাটে জনবহুল এলাকায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পোশাক কারখানার কাজ শুরু হয়ে গেছে। ফোর এইচ গ্রুপ তাদের একটি গার্মেন্টস পুরোদমে চালু করে দিয়েছে।
গার্মেণ্টসটি খোলা রাখার কারণ বিভিন্ন এলাকা থেকে এর শ্রমিকরা আসছেন কাজ করতে। আসা-যাওয়ার সময় সামাজিক দূরত্ব রক্ষার কোন নিয়মকানুন মানছে না তারা। এতে করে এলাকা সাধারণ মানুষ খুব আতঙ্কের মধ্যে আছে।
জানা যায়, নন্দীরহাট এলাকায় ছয়টি প্রাইমারি স্কুল, একটি হাইস্কুল, কয়েকটি ধর্মীয় স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। একই সাথে প্রায় বিশ হাজার লোকের বসবাস এ এলাকায়। এরমধ্যে উপজেলার একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করোনা পজেটিভ হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আর বেশি ভয় কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে গার্মেন্টসটি বন্ধ রাখতে গতকাল মঙ্গলবার এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছে স্থানীয় বাজারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাটহাজারী উপজেলার ইউএনও রুহুল আমিন জানান, সারাদেশেই গার্মেন্টস খুলছে। এ অবস্থায় এখানেও খুলবে সেটাই স্বাভাবিক। আমি অভিযোগ পেলে চেষ্টা করবো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে। মূলত গার্মেন্টস কারখানা তদারকির দায়িত্ব বিজেএমইএ, বিকেএমইএ ও মন্ত্রণালয়ের।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তত ও রফতানিকারক সমিতি বিজিএমইএ’র চট্টগ্রাম অফিসে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান যাদের জরুরী রফতানি ত্রুয়াদেশ রয়েছে ও যেসব কারখানা করোনা সরঞ্জামাদি-মাস্ক, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পিপিই এবং করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনী সামগ্রী তৈরি করেছে এমন কারখানাগুলোকে তাদের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনে খোলা রাখতে পারবে।
২৪ ঘণ্টা/আর এস পি


আপনার মতামত লিখুন