খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইতে ৬ হাজার পরিবহন শ্রমিকের দিন কাটছে আর্থিক অনটনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২০, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
মিরসরাইতে ৬ হাজার পরিবহন শ্রমিকের দিন কাটছে আর্থিক অনটনে

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার প্রায় ৬ হাজার পরিবহন শ্রমিক আর্থিক অনটনে দিন পার করছে। কর্মহারা উপজেলার পরিবহন শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরাও অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে।

করোনায় প্রাদূর্ভাবে যেসব শ্রমজীবিদের উপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো পরিবহন শ্রমিক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সব ধরণের গণপরিবহন এখন প্রায় বন্ধ রয়েছে।

আপাতত কোনো কাজ নেই তাদের। আরো কতদিন পরিবহন যোগাযোগ বন্ধ থাকতে পারে তার নিশ্চয়তা নেই। ফলে পরিবহন শ্রমিকরা এখন দিশেহারা। ব্যাক্তিগত পরিবহনের সাথে সম্পৃক্ত কিছু শ্রমিক মাসিক বেতনে কাজ করলেও অধিকাংশ শ্রমিক দিন মজুরের মতোই কাজ করেন।

কাজ করলে টাকা, আর কাজ না থাকলে টাকা নেই। ফলে কাজ না থাকলে ওই শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা না খেয়েই দিন কাটে এমনি আবস্থা বর্তমানে।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন রুটে, বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, হাইচ, মাইক্রো, সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করতো। কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অঘোষিত লকডাউনের কারণে গত দেড়মাস ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কষ্টে দিন পার করছে উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার পরিবহন শ্রমিক।

পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বারইয়ারহাট-চট্টগ্রাম রুটে চয়েস ও উত্তরা বাসে ৪শ ৪০জন শ্রমিক রয়েছেন। দারোগাহাট-বারইয়ারহাট-ফেনী রুটে চলাচল করা আনন্দ পরিবহনে ১শ ৩০জন, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রো, হাইচে রয়েছে ৫শ জন, বারইয়ারহাট-সীতাকুন্ড রুটে চলাচল করা হিউম্যান হলারে রয়েছে ২শ ও মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৫ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা চালক রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩শ অটোরিক্সা চলাচল করলেও বাকি চালকদের বেকার জীবন কাটছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দফায় দফায় বাড়ানো হয় সরকারি সাধারণ ছুটির মেয়াদ। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ৫ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে এ ছুটি। এই সংবাদ লিখা পর্যন্তা ৫ মে বিকাল ৫টার পরও গণপরিবহন চালু করার কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

ফলে এক প্রকার ঘরবন্দি হয়ে আছেন দেশের মানুষ। এতে সকল পর্যায়ের কর্মহীন মানুষ গুলোর দুর্ভোগও বাড়ছে। সরকার নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের খাদ্য সংকট নিরসনে শুরু থেকেই ত্রাণ কর্মসূচি চালু করলেও চাহিদার অনুপাতে ছিল অপ্রতুল। পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগ, প্রশাসন ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে পরিবহন শ্রমিকরা কোন ত্রাণ পাচ্ছেন না।

মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার মামুন নামে এক পরিবহন শ্রমিক সীতাকুন্ড-বারইয়ারহাট রুটে হিউম্যান হলার চালান। তিনি বলেন, গত দেড়মাস ধরে বেকার বসে আছি। সামান্য সহযোগীতা পেয়েছি, তা দিয়ে বড়জোর একসপ্তাহ গেছে। আরো কতদিন বেকার থাকতে হয় বুঝতেছিনা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মরার উপক্রম হয়েছে।

একাধিক পরিবহন শ্রমিক বলেন, অধিকাংশ শ্রমিকরা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। তাদের কোনো পুঁজি নেই। দিনে যা আয় করেন দিনেই তা শেষ হয়ে যায়। পরদিন খেতে হলে তাদের কাজে যেতে হয়। অন্যথায় উপোষ থাকতে হয় তাদের।

উপজেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইউসুফ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন রুটে প্রায় ৫ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করতো। গত দেড়মাস ধরে করোনা ভাইরাসের কারণে ২ থেকে ৩শ সিএনজি ছাড়া বাকি সব সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য সহযোগীতা সিএনজি চালকরা পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস হিউম্যান হলার শ্রমিক ইউনিয়ন বারইয়ারহাট শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন মাসুক জানান,অনেক কষ্টে দিন কাটছে পরিবহন শ্রমিকদের।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে ২শ শ্রমিককে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছে। জোরারগঞ্জ থানা থেকে ৫০জন শ্রমিককে চাল দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমার পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহযোগীতা করেছি। শ্রমিকদের সহযোগীতার জন্য চট্টগ্রাম শ্রম অধিদপ্তরে আবেদন করেছি।

বারইয়ারহাট-মাদারবাড়ি রুটে চলাচল করা উত্তরা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল কামাল মিটু বলেন, লকডাউনে শুধু শ্রমিকরা নয়, বাস মালিকদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রায় ৩শ পরিবহন শ্রমিককে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬শ পরিবহন শ্রমিককে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছি। তার মধ্যে বাস-ট্রাক হিউম্যান হলারের শ্রমিক ৫শ ৫০ জন ও সিএনজি অটোরিক্সা চালক ৫০জনকে সহযোগীতা করেছি।

২৪ ঘণ্টা/আর এস পি

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।