খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের দু’টি হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত করায় প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠিতে সুজনের অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২০, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের দু’টি হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত করায় প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠিতে সুজনের অভিনন্দন

চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য দুইটি প্রাইভেট হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘোষণা করেছে সরকার।

এছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তারই আলোকে আজ শনিবার (৩০ মে) প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ফ্যাক্স ও ইমেইল বার্তা প্রেরণ করেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

নিম্নে সুজনের বার্তাটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

তাং- ৩০/০৫/২০২০ইং

বরাবর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বিষয়ঃ- চট্টগ্রাম’র দু’টি প্রাইভেট হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত করায় অভিনন্দন।

আসসালামু আলাইকুম,

ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘোষণা করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই চট্টগ্রাম শহরের সাথে আপনার এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিবিড় আবেগ এবং অনুভূতি জড়িত। আপনি ক্ষমতায় এসেই এই শহরের উন্নয়নের দায়িত্বভার কাঁধে নিয়েছিলেন। আজ করোনাকালে যখন সারাদেশের মানুষ জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে লড়ে যাচ্ছে এই দুঃসময়ে আপনি চট্টগ্রামের মানুষের কথা ভোলেননি তাই আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

দেখা যাচ্ছে, বরাবরই আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যেসকল নির্দেশনা দেওয়া হয় চট্টগ্রামে কেন যেন কে বা কারা পেছন থেকে কলকাটি নেড়ে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হতে দেয় না। ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, ডিজি (হেলথ) এর সাথে ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের চুক্তি হয়েছিল যে তারা প্রত্যেকটি হাসপাতালে ১০টি করে করোনা বেড এবং ৩টি আইসিইউ করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ দিবেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি যার কারণে অনেক রোগী শুধুমাত্র আইসিইউ সুবিধার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশে রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী এরা কারা? করোনা সংক্রমন শুরু হওয়ার পর বৃতত্তর চট্টগ্রামের জন্য ফৌজদারহাট বি আই টি ডিতে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল আর জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করা হয়। পরবর্তীতে জেনারেল হাসপাতালে ১০টি ভেন্টিলেশন সহ আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্টি চালু হওয়ার পর হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রোগীর সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল হয়ে পড়ে। এবং দিন যাওয়ার সাথে সাথে ক্রিটিকাল রোগীর সংখ্যা এত বেড়ে গেলো যে কোন রোগী মারা গেলে তাকে কবর দেওয়ার পর বেড খালি হলে তবেই বেডে অন্য রোগী ঢুকানো হচ্ছে। এর আগে প্রয়োজন হলেও ঢুকানো সম্ভব হয়নি ভেন্টিলেশনের অপ্রতুলতার কারনে। চট্টগ্রামের অনেক মানুষ শুধুমাত্র ভেন্টিলেশনের অভাবে মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষের এই সংকটকে উপলব্ধি করে আরো দুইটি বিশেষায়িত হাসপাতালের অনুমোদন দিয়েছেন সেজন্য আপনার প্রতি চট্টগ্রামবাসী আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

বর্তমানে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা। এই সংকট দ্রুত সমাধান করতে না পারলে চট্টগ্রামকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে। অতি জরুরি ভিত্তিতে এই সংকট সমাধান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সংকট সমাধানে আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। এছাড়াও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের একটি সেকশন ১০০টি বেড ও পর্যাপ্ত আইসিইউ বেডসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত করে রাখলেও ডাক্তারদের একাংশের অসহযোগিতার দরুণ তারা এটা কোনভাবেই চালু করতে পারছেন না। চট্টগ্রামে পুলিশ ও র‌্যাবের অনেক ভাইয়েরা করোনা সংক্রমিত হয়েছে এবং অনেকে মৃত্যুবরণও করেছেন। ঢাকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য যেমন আলাদা পাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে ঠিক তেমনি মা ও শিশু হাসপাতালকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাইদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, কেননা এটা করোনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একটা রেডি হাসপাতাল শুধু দরকার আমাদের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের সহযোগীতা।
এছাড়াও আমাদের রেলওয়ে হাসপাতাল অনেক বড় একটা হাসপাতাল। এই হাসপাতালটিও করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বন্দরেও বিশাল হাসপাতাল স্থাপনা পড়ে রয়েছে, সেখানে কোন লোককে তারা চিকিৎসা দেয় না। অথচ চট্টগ্রামের মানুষের পৈতৃক ভিটা-মাটির উপর এই চট্টগ্রাম বন্দর অবস্থিত। যদি এই দুর্দিনে মানুষের সেবায় তারা এগিয়ে না আসে তাহলে মানুষের মনে কষ্ট থেকে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি যদি আপনার পরামর্শক্রমে এবং নির্দেশক্রমে এই হাসপাতালগুলোকে করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করে দেন তাহলে আমরা আপনার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।
এছাড়াও ভাটিয়ারীতে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের বিশাল হাসপাতাল স্থাপনা আছে। তাদের প্রচুর ফান্ড ও আছে। জেনারেল হাসপাতাল ও ফৌজদারহাট বি আই টি আই ডি এর যেসব রোগী অপেক্ষাকৃত ভাল অবস্থায় আছেন তাদেরকে সেখানে স্থানান্তর করা যেতে পারে। সুতরাং এই হাসপাতালটিকেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সেদিন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমাদের জীবনও চালাতে হবে, সাথে সাথে আমাদের সংক্রমিত রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থাও করতে হবে’। এই দুর্যোগকালীন সময়ে আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং নির্দেশনা আমরা প্রত্যাশা করি। মহান আল্লাহ তা’লা আপনাকে দীর্ঘ হায়াত দিক, সুস্থতা দিক, এই জাতির আরো বেশি খেদমত করার সুযোগ আল্লাহ আপনাকে করে দিক। বীর চট্টলার লাখো-কোটি মানুষের দু’আ আপনার এবং আপনার সরকারের সাথে আছে।
আমি আবারো বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা বাস্তবায়নে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাদের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে চট্টলাবাসীর পক্ষ থেকে জানাই হৃদয় নিংড়ানো শুভেচ্ছা।

ধন্যবাদ
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

বিনীত
আপনারই একান্ত অনুগত

(খোরশেদ আলম সুজন)
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর।
১০নং ওয়ার্ড, উত্তর কাট্টলী, থানা-পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।
মোবাইল নং- ০১৭১৩ – ১১০ ৮৪৬

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ( ১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার চাদগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দুই মাসে এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে আলোচনায় আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা দেশে আজ থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র গ্রহ। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণেই পরিবেশ বিপর্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে একটি সোনালু গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের চাদগাঁও এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৫০ একর জমিতে ১৯ প্রজাতির ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। রোপিত চারার মধ্যে রয়েছে সোনালু, চালতা, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, পলাশ, মহুয়া, কাঞ্চন, আমলকি, অর্জুন, জলপাই, কাঠবাদাম, ঝাউ, হিজল, বহেরা, চিকরাশি ও মেহগনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বন বিভাগের আওতায় প্রায় ১৮ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে ৭ লাখ ৫০ হাজার, দক্ষিণ বন বিভাগে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০, উপকূলীয় বন বিভাগে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১৫ হাজার ২৮৯টি চারা রোপণ করা হবে।

এ ছাড়া সিডিএ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কর্ণফুলী বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৬ হাজার গাছ লাগানো হবে।

গাছের সুরক্ষার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিক সচেতনতা। এই গাছ আমাদের পরিবেশ, জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাকালে আমরা অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজের গাছ মনে করে এসব চারার পরিচর্যা করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারের এই বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি চট্টগ্রামে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা ভাগ্যবান যে এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও তো পদ্মলোচন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমার কষ্ট হয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আশেপাশে কাদেরকে বসিয়েছেন? ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। তিনি দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে তিনি বলেন বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে—এগুলো মিথ্যা, আর ভুয়া।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। আমার করুনা লাগে। প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত এসমস্ত ভুলভাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চষবে না।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।