খুঁজুন
, ,

মিরসরাইয়ের আলমগীর রোটারি ক্লাব অব চিটাগং হিলটাউনের সভাপতি নির্বাচিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 6 June, 2020, 2:21 pm
মিরসরাইয়ের আলমগীর রোটারি ক্লাব অব চিটাগং হিলটাউনের সভাপতি নির্বাচিত

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:মিরসরাইয়ের কৃতি সন্তান ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প অপকা’র ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো: আলমগীর আগামী এক বছরের জন্য রোটারি ক্লাব অব হিলটাউনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত রোটারি ক্লাব অব চিটাগং হিলটাউনের বোর্ডসভায় ক্লাব ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলমগীরকে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী রোটাবর্ষের(২০২০-২০২১)সভাপতি নির্বাচন করা হয়।

তিনি আগামী ১ জুলাই থেকে ৩০জুন পর্যন্ত (একবছর) এ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি, জেলা গভর্নর, ক্লাব সভাপতি-সেক্রেটারিসহ সকল পদের মেয়াদ একবছর।

সমাজউন্নয়ন সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর দ্য পুওর কমিউনিটি অ্যাডভান্সমেন্ট(অপকা)’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক রোটারিয়ান মোহাম্মদ আলমগীর আমজনতার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

চাকরি-বাকরি ছাড়াও জীবনে প্রতিষ্ঠালাভের নানান পথ রয়েছে। আত্মপ্রত্যয় ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে শুধু নিজেকে প্রতিষ্ঠা নয়, সমাজউন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নে যে অবদান রাখা যায় মাতৃভূমির সীমানা ডিঙ্গিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নিজেকে তোলে ধরা যায়-তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অপকা’র স্বপ্নদ্রষ্টা রোটারিয়ান মোহাম্মদ আলমগীর।

দীর্ঘসময় ধরে সমাজউন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে একজন সফল এনজিও ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছেন। দারিদ্র্য বিমোচন, নিরক্ষরতা দূরিকরণ, বনায়ন, বেকারসমস্যার সমাধান,প্রতিবন্ধী ও উপজাতি লোকজনের অবস্থার উন্নয়ন, ধূমপান ও মাদকতাবিরোধী অভিযান, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন সমাজউন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলমগীরের হাতেগড়া সংগঠন অপকা এ দেশে বিশেষকরে মীরসরাইসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের আপামর জনগণের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থান করে নিয়েছে।

বহু দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত সহায়হীন মানুষ আলমগীরের স্বপ্নের কাছে নানানভাবে ঋণী।

অপকা এখন শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, সামাজিক বিপ্লবের সমার্থক শব্দ হিসেবে জনমনে ঠাঁই করে নিয়েছে।

কালক্রমে অপকা আর আলমগীর এখন একাকার ; আলমগীর এখন শুধু ব্যক্তিবিশেষ নন, প্রতিষ্ঠান।

এদিকে রোটারিয়ান আলমগীর তাঁর জন্মস্থান মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গা ঘেঁষে কয়েককোটি টাকা ব্যয়ে মীরসরাই অটিজম সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। মানবতাবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এ মহতি উদ্যোগকে সক্রিয় সমর্থন জানিয়েছে। এ বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্যে রোটারিয়ান মোহাম্মদ আলমগীর নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

রোটারিয়ান আলমগীর ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ হাজ্বীস্বরাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।বাবা মরহুম সফিউল্যাহ মা জরিনা বেগম। ৩ ভাই ও ১বোনের মধ্যে আলমগীর দ্বিতীয়। তিনি স্থানীয় উত্তর হাজীস্বরাই নিরদাসুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি (১৯৮৬) বিজ্ঞানে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।নিজামপুর কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৮৮) ও বিএসএস (১৯৯০) ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এমএসএস (১৯৯৫) ডিগ্রি লাভ করেন।

রোটারিয়ান আলমগীর মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটি’র উপদেষ্টা, মিরসরাই কবিতা পরিষদের পৃষ্টপোষক, মিরসরাই উপজেলা সৌহার্দ্য সমন্বয় কমিটির সদস্য-সচিব, চট্টগ্রাম পিইইআর এর টীমলিডার, সিএএইচডি নেটওয়ার্কএর মহাসচিব, উত্তর হাজিস্বরাই জামে মসসিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য, মিরসরাই সড়ক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা কমিটি, উপজলা জন্মনিবন্ধন টাক্সফোর্স, মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম, উপজেলা প্রতিবন্ধী ও এসিডদগ্ধ কমিটি উপকূলীয় বনায়ন কমিটির সদস্য।

এছাড়া তিনি বারইয়াহাট জন্মনিবন্ধন টাক্সফোর্স, মিরসরাই উপজেলা স্যানিটেশন কমিটি, দুর্নীতি দমন কমিটি ও বারইয়াহাট ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য।অন্যদিকে তিনি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক ম্যাগাজিন ‘উন্নয়ন’ এর সম্পাদক ও মিরসরাই বার্তা’র ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগতজীবনে আলমগীর এককন্যা ও একপুত্র সন্তানের জনক। সহধর্মিনীর নাম নুরসাত জাহান কলি। তাদের মেয়ে ইসরাত জাহান আকিকা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ফার্স্ট সেমিস্টার-এ আর ছেলে মুহাম্মদ আহনাফ আবরার ইস্পাহানি স্কুল এন্ড কলেজে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

রোটারিয়ান আলমগীর ভারত, নেপাল, জাপান, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, জার্মানী, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।