খুঁজুন
, ,

আজ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 7 June, 2020, 12:00 am
আজ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস

আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।

এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১০ জন বাঙালি শহীদ হন।

এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপোষহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি।

প্রতিবছর বিভিন্ন কমূসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসলেও করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে জনসমাগম পরিহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এ বছর দিবসটি উদ্যাপন করা হবে
আওয়ামী লীগ ৭ জুন ‘ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস’- যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করে ।

তবে এবছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সৃষ্ট সংকটে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সব ধরনের জনসমাগমপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করে আসছে।

স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত পরিসরে দেশবাসীকে ঐতিহাসিক ৭ জুনের সকল বীর শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ এবং বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, মুক্তি, গণতন্ত্র ও প্রগতি প্রতিষ্ঠায় আত্মদানকারী শহীদ সন্তানদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে পরম করুণাময়ের নিকট এ দিনটিতে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি ।

আজ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র পক্ষ থেকে একটি অনলাইন আলোচনা সভা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশে অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইন আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬-দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬-দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়।

পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬-দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন।

৬-দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দু’টি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে।

সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপন।

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬-দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় উত্তর দেয়া হবে।

এদিকে ৬-দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ৬-দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। ফলে শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ অন্যান্য কয়েকটি স্থানে ৬ দফার পক্ষে প্রচারকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন।

পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬-দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়।

এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে।

অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাক শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. আ. ম. স আরেফীন সিদ্দিক বলেন, ৬ দফাই এনে দিয়েছে আমাদের তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূর দৃষ্টি, অন্তঃদৃষ্টি ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এতই প্রখর ছিল যে, তিনি ৬ দফাকে এক দফার দাবিতে পরিণত করে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের ডাক দেন।

অওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ছয় দফার সময়ে এটা কেবল স্বায়ত্তশাসনের দাবি, অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি না- এমন বিতর্ক ছিল। তিনি বলেন, ৭০-এর নির্বাচন ছিল ৬-দফার প্রশ্নে ম্যান্ডেট।

রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ও লেখক নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই স্বাধীন বাংলাদেশের বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর মাথায় ছিল। তাই ছয় দফা হঠাৎ কোন ব্যাপার ছিল না। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনীতির লক্ষ্যই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। ছয় দফার ভেতর দিয়েই প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা এসেছে।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ছয় দফা মুক্তির সনদ না হলেও এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের একটা মাইল ফলক, যা অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছিল।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 pm
ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ছুটির দিনে হাতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ নিতে শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আসে।

পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি চালু করেছে।

শুক্রবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে আসছে। নির্ধারিত স্থানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিয়ে তারা বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও।

চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ ইসলাম ও তার সহপাঠী সারোয়ার হোসেনও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরিফ বলে, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াবে।

আরিফ বলে, ‘এখন থেকে রাস্তায় কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দেখলে সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করব। বন্ধুদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’

দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে শিশুদের বিনোদন ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ যুক্ত করে জেলা প্রশাসন ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় আসেন। উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সব নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

ইকবাল বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হলে নাগরিকদের অভ্যাসেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এতে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। উদ্বোধনী দিনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্লাস্টিক কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা মুখ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য একটি বিনিয়োগ।’

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।