খুঁজুন
, ,

করোনা সংক্রমণ উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ২ ইপিজেড/আইসোলেশন সেন্টার ও পরীক্ষাগার চালুর আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 9 June, 2020, 7:11 pm
করোনা সংক্রমণ উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ২ ইপিজেড/আইসোলেশন সেন্টার ও পরীক্ষাগার চালুর আহ্বান

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন দেশের অর্থনৈতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত চট্টগ্রামের ২টি ইপিজেড এখন করোনা সংক্রমণ উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের প্রাণ।

এসব ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকদের প্রাণ রক্ষার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার সকালে নিজ উদ্দ্যেগে সিইপিজেড এবং কেইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপকদ্বয়ের সাথে দীর্ঘক্ষণ টেলিফোনে আলোচনা করেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন।

এসময় ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করতে তিনি মহাব্যবস্থাপকদ্বয়ের কাছে বিনীত আহ্বান জানান। মঙ্গলবার বিকেলে খোরশেদ আলমের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণে অর্থনৈতিক আঘাত থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বাঁচাতে সর্বপ্রথম গার্মেন্টস সেক্টরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী এ সিদ্ধান্তে দেশের রপ্তানিমূখী শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট মালিক এবং শ্রমিকসহ সকলের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। পরবর্তীতে সরকার দেশের রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ইপিজেডসমূহ চালু করার নির্দেশনা প্রদান করেছে।

অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে বেশীরভাগ প্রতিষ্টানেই স্বাস্থ্য বিধি না মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক দূরত্বও পুরোপুরি উপেক্ষিত হচ্ছে প্রতিষ্টানসমূহে।

এতে করে দেশের অর্থনৈতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত ইপিজেডসমূহে করোনা সংক্রমণ উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া কোন প্রতিষ্টানের কর্মী অসুস্থ হলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে বাড়ীতে অবস্থানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

অথচ একজন গার্মেন্টস কর্মী যে পরিবেশে দিনাতিপাত করে সে পরিবেশে এ পরিস্থিতিতে বাড়ীতে অবস্থান করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তারপরও তাঁকে নিরূপায় হয়ে প্রতিষ্টানের নির্দেশনা মেনে বাড়ীতে অবস্থান করতে হচ্ছে।

ফলত দেখা যাচ্ছে যে ঐ গার্মেন্টস কর্মীর পরিবারসহ এলাকাবাসীরও সংক্রমিত হওয়ার আশংকা থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকাসমূহ যেমন ৩৭,৩৮,৩৯,৪০ এবং ৪১নং ওয়ার্ডের প্রায় বাসা বাড়ীতে জ্বর, সর্দি, কাঁশিসহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এতে করে ঐ সকল এলাকার অধিবাসীদের মাঝেও উদ্বেগ উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি আরো বলেন সরকার প্রণোদনার একটি বিরাট অংশ গার্মেন্টস শিল্পের জন্য ব্যয় করছে অথচ করোনা পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধানতম খাত গার্মেন্টস শিল্পের মালিকদের রহস্যজনক নীরবতা আমাদেরকে হতবাক করছে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্টান নানারকম সামাজিক দায়িত্ব পালন করলেও গার্মেন্টস মালিকরা কোন প্রকার সামাজিক দায়িত্ব পালন করেনাই। উপরন্তু যে শ্রমিকদের রক্ত, ঘামে তাদের এতো বিত্ত বৈভব, প্রতিপত্তি সে সকল শ্রমিকদের প্রতি মালিকদের এরকম নিষ্টুরতা আমাদেরকে ব্যথিত করেছে প্রতিনিয়ত।

তিনি অবিলম্বে গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার উদাত্ত আহবান জানান।এছাড়া কোন গার্মেন্টস কর্মী আইসোলেশন থাকা অবস্থায় কোম্পানী প্রদত্ত বেতন ভাতা থেকে যেন বঞ্চিত না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য সিইপিজেড এবং কেইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপকদ্বয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

তিনি কেইপিজেডে অবস্থিত নারী উন্নয়ন কেন্দ্রটি আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত করা যেতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন এবং মহাব্যবস্থাপকদ্বয়কে উপরোক্ত বিষয়ে দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান সুজন।

তিনি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন যদি কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সাথে উপরোক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হন তাহলে দেশের বৃহত্তম রপ্তানি কেন্দ্র সচল এবং নিরাপদ রাখার স্বার্থে নগরবাসীকে সাথে নিয়ে ইপিজেডসমূহে অবস্থান নিতে বাধ্য হবেন।

সিইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপক মোঃ খুরশিদ আলম এবং কেইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপক মসিউদ্দিন বিন মেজবাহ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সুজনের প্রস্তাবনার সাথে সহমত পোষন করেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনার জন্য সুজনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মহাব্যবস্থাপকগণ নিজেরাও এর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে সক্ষম হন এবং দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম গার্মেন্টস খাতকে নিরাপদ রাখতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন সেন্টার চালুর উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

মহাব্যবস্থাপকদ্বয় সুজনের উত্থাপিত প্রস্তাবনাসমূহ লিখিত আকারে বেপজা কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

২৪ ঘণ্টা/রাজীব সেন প্রিন্স

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।