খুঁজুন
রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৈকতে ভেসে এল বিরল প্রজাতির মৃত তিমি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২০, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
সৈকতে ভেসে এল বিরল প্রজাতির মৃত তিমি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্র সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছে। সোমবার সকালে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর নামক সৈকতে এই তিমিটি দেখে লোকজন ভিড় করেন।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিরল প্রজাতির তিমি। এর নাম ব্রিডস হোয়েল (Bryde’s Whale)।

শাহপরীর দ্বীপের বেশ কয়েকজন জেলে জানান, গত দুইদিন আগে একটি তিমি জোয়ারের সময় সাগরতীরে ভাসতে দেখা গেছে। পরে তিমিটি সাগরের দিকে চলে যেতে জেলেরা সহযোগীতা করেছিল। সম্ভবত এই তিমি মাছটিই পরে মারা গেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. এহসানুল করিম বলেন, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক বোতল নাক (হাম্পব্যাক) তিমি নামে পরিচিত। এই প্রজাতি গুলো দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সন্ধানে দলছুট হয়ে তিমিটি টেকনাফের কাছাকাছি এসেছে এবং আঘাত পেয়ে মারা গেছে।

তিনি বলেন, ৯-১০ ফুট উচ্চতার এই মাছটির ওজন ১৬০ কেজি হতে পারে। মূলত এই মাছগুলো ভারত এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রান্তীয় জলে পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ সাধারণ বোতলজাতীয় তিমি ,এই তিমিগুলো অগভীর, উপকূলীয় জল পছন্দ করে। ফলে এ মাছ আশপাশের অঞ্চলে দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

স্থানীয় সাংবাদিক জসিম মাহমুদ বলেন, সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রসৈকতে একটি মৃত তিমি দেখা যায়। এ সময় সেটি দেখতে লোকজন ভিড় করে। বিকেল ৫ টা পর্যন্ত তিমিটি সেখানে পড়ে ছিল। তবে কেউ তিমিটি সেখান থেকে সরিয়ে না নেওয়ায় দূর্গন্ধ বের হচ্ছে। এ অবস্থায় থাকলে পঁচে পরিবেশ দূষনের আশঙ্কা রয়েছে।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য নুরুল আমিন বলেন, তার এলাকায় সৈকতে একটি বিশাল প্রজাতির মৃত তিমি ভেসে এসেছে।এই সময়ে সাগরে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ। কিন্তু কিভাবে মাছটি মারা গেছে বলা যাচ্ছেনা। তবে মাছের শরীরে তেমন দৃশ্যমান আঘানের চিহ্ন নেই।

টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, একটি বড় প্রজাতির মাছের মৃতদেহ ভেসে আসার বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ দিপক বিশ্বাস বলেন, সোমবার সকালে মৃত একটি বিশাল প্রজাতির মাছ ভেসে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি : ইরান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
এক বৈঠকে চুক্তি হবে, কেউ আশা করেনি : ইরান

বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে দ্বন্দ্ব চলছে, তা এক বৈঠকেই শেষ হয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে—এমনটা কেউই-ই আশা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই।

ইসলমাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল আআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসমাইল। সাক্ষৎেকারে বাকাই বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, শুরু থেকেই একটি বৈঠকে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের করা উচিত ছিল না এবং শুধু আমরাই নই— কেউই এমনটা আশা করেনি। তবে আমাদের বিশ্বাস, পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত।

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, ফিরে যাচ্ছেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব দেওয়ার পর আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাচ্ছেন তারা।

বক্তব্যের শুরুতেই জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানকে ‘অসাধারণ স্বাগতিক’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার এই ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আলোচনার কোনো ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়; বরং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি চুক্তিতে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে।

টানা ২১ ঘণ্টার এই আলোচনাকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট একে ইরানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। তবে আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি ক্ষতির। আমরা আমাদের সীমারেখা (রেড লাইন) এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া সম্ভব, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে ভ্যান্স জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী তারা অত্যন্ত নমনীয় ও সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে। আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো অগ্রগতি করা সম্ভব হয়নি।

নিউক্লিয়ার বা পারমাণবিক ইস্যুটিকে এই আলোচনার মূল বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে এই মর্মে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চায় যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এছাড়া দ্রুত অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম এমন কোনো প্রযুক্তি বা সরঞ্জামও তারা অর্জন করতে পারবে না।

ভ্যান্স আরও যোগ করেন, ইরানের আগের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের মধ্যে সেই সদিচ্ছা আছে কি না? আমরা এখন পর্যন্ত সেই সদিচ্ছার প্রমাণ পাইনি। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না আসায় মার্কিন প্রতিনিধি দলটি এখন ওয়াশিংটনের পথে রওনা দিচ্ছে।

পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, বাংলাদেশি হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, বাংলাদেশি হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার

পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে পাহাড়ি-সমতলের সব মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষা ও সুরক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে নজির রয়েছে, তা বিশ্বদরবারে দেশের মর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দেশের বিভিন্ন ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়সহ সব নাগরিকের সমান অগ্রগতি, বিকাশ, নিরাপত্তা ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের সমান অধিকার।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) বনানীতে এক অনুষ্ঠানে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জনসাধারণকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, চাংক্রান, বিষু ও চাংলান উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চল এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলান উপলক্ষ্যে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে জানাই বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা।”

তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং পাহাড় ও সমতলে বসবাসকারী সবার ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব আমাদের জাতীয় উৎসবেরই অংশ। এসব উৎসব জাতীয় জীবনে শান্তি ও আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা আমাদের ঐতিহ্যকে গৌরবময়, প্রাচুর্যময় ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি ও মিলনের অমিয় বাণী মিশে আছে আমাদের লোকজ ঐতিহ্যে।

বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব এবং বাংলা নববর্ষ সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে বলেও শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।