খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ হয়ে যাবে সীতাকুণ্ডের ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল,হাজারো শ্রমিকের মাঝে চরম অসন্তুোষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
বন্ধ হয়ে যাবে সীতাকুণ্ডের ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল,হাজারো শ্রমিকের মাঝে চরম অসন্তুোষ

কামরুল ইসলাম দুলু : বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন দেশের ২৫ টি পাটকল বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সেক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে পুনরায় চালু করা হবে পাটকলগুলো এমনটিই জানিয়েছে বিজেএমসি।

ক্রমাগত লোকসানের বোঝা থেকে মুক্ত হতে এ পরিকল্পনা করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে সরকারী এমন সিদ্ধান্তের পর সীতাকুণ্ডের ৫ টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক-কর্মমচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তুোষ। একদিকে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে চলছে চরম দূর্ভোগ আরেকদিকে মিল বন্ধের ফলে বেকার হয়ে যাবে ৫ জুট মিলের কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।

সীতাকুণ্ডের ৫ টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোর মধ্যে গালফ্রা হাবিব লিমিটেডে কর্মকর্তা-কর্মচারী-৬৮জন, শ্রমিক- ২৬৮জন। গুল আহম্মদ জুট মিলে শ্রমিক-কর্মচারী- ১০১জন, শ্রমিক-১৩৯৭জন। হাফিজ জুট মিলস এ কর্মকর্তা-কর্মচারী- ১১১জন, শ্রমিক-২০৯২জন। এম.এম জুট ‍মিলে কর্মকর্তা-কর্মচারী- ৪৩জন, শ্রমিক ১৫৬ জন এবং আর.আর জুট মিলে কর্মকর্তা-কর্মচারী- ৫৫জন, শ্রমিক- ৪৭৪জন।

মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে শ্রমিকদের চোখে মুখে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছে। একদিকে মহামারী করোনাভাইরাস অন্যদিকে অজানা আতঙ্ক এসব দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পাটকল শ্রমিকরা।

এদিকে কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সাথে সকল পাটকলের শ্রমিক নেতাদের বৈঠক সোমবার অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা এবং হাফিজজুট মিলস সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর হক।

তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী পহেলা জুলাই দরখাস্ত লাগানো হবে ৬০ দিনের। এর মধ্যে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে তিন চেকে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ আগামী আগষ্টের প্রথম সাপ্তাহ থেকে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ টি পাটকল বন্ধ হয়ে যাবে।

এব্যাপারে হাফিজ জুট মিলস শ্রমিক ফেডারেশন সাধারন সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, সরকারের মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত আমরা মন থেকে মেনে নিতে পারছিনা। এই পাটকল বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলছিল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে একজন করে চাকরী দিবে অথচ আজ তার উল্টো করছে। সরকার যে বলেছে পিপিপর মাধ্যমে মিলগুলো চালাবে একথা আমরা বিশ্বাস করিনা।

তিনি বলেন, জুটমিলগুলো বন্ধ না করে বরং কিভাবে চালালে লাভ হবে সেই চেষ্টা করা উচিত সরকারের।

শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক বলেন, মিল বন্ধের ফলে দেশে প্রায় এককোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। একদিকে করোনা ভাইরাসের মহামারী অন্যদিকে মিল বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতি। সরকার লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বসিয়ে বসিয়ে যদি খাওয়াতে পারে আমরা শ্রমিকরা কাজ করে কেন খেতে পারবো না। আমরা কি রোহিঙ্গাদের থেকেও খারাপ হয়ে গেছি? আমাদের সকল দেনা-পাওনা মিল বন্ধ হওয়ার আগেই বুঝিয়ে দিক সরকার।

শ্রমিক নেতা আবু তাহের বলেন, এই সরকার এতদিন বলে আসছে শ্রমিক বান্ধব সরকার। তার নির্বাচনের আগে বলেছিল নতুন নতুন কারখানা গড়ে তুলবে, ঘরে ঘরে চাকরী দেবে অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধ করে দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে বেকার করে দিচ্ছে। কার ষড়যন্ত্রে দেশের সোনালী আঁশ পাট কলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিৎ মিলগুলো বন্ধ না করে দূর্নিতী বন্ধ করে যেভাবে মিলগুলোকে লাভবান করা যায় সেই ব্যবস্থা করা।

এদিকে উপজেলার ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে স্রমিক অসন্তুোষ দেখা দেওয়ায় ব্যাপাক নিরাপাত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোন ধরণের অনাকান্খিত ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

এব্যাপারে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, যাতে আইনশৃংখলার অবনতি না ঘটে তার জন্য আমরা প্রস্তুুতি গ্রহণ করেছি। ৫ টি মিলে নিরাপাত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরাও চাই সরকার এবং শ্রমিকদের মধ্যে সুন্দর একটা সমঝোতা হোক, এবং কোন ধরণের যাতে বিশৃংখলা না ঘটে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।