খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনাকালে নিজের সুস্থতা সামাজিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পূর্বশর্ত:চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
করোনাকালে নিজের সুস্থতা সামাজিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পূর্বশর্ত:চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন,করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাব পূর্ববর্তী বাংলাদেশে দারিদ্রের নিম্নমূখি হার ৭ শতাংশে নেমে এলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়ায় দারিদ্রের হার উর্দ্ধমুখি হয়ে ৩০ শতাংশে উন্নিত হওয়ার আশংখা দেয়া দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ হিসেবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জীবন-জীবিকার সমন্বয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা। তাই নিজের সুস্থতাই হলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুন:রুদ্ধারের পূর্বশর্ত।

আজ সকালে টাইগারপাসস্থ নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে ইউএনডিপি ও ইউকে এইড’র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ড এলাকায় দ্বিতীয় দফা সাবান বিতরণ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন একথা বলেন।

তিনি জানান নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের মাঝে করোনা সচেতনতা বাড়াতে “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৭৪টি সিডিসি’র মাধ্যমে নগর জুড়ে উঠান বৈঠকের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্পের সিডিসি ক্লাস্টার নেত্রীরা স্ব স্ব সিডিসি-তে বসবাসকারী জনগণকে উঠান বৈঠক আয়োজন করে করোনা প্রতিরোধে নানামুখী সচেতনতা জ্ঞান প্রদান করবেন।

তিনি সিডিসি নেত্রীবৃন্দদের স্ব স্ব ওয়ার্ডে সিডিসি-তে উঠান বৈঠক করে নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে সাবানের গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাস্থ্যবিধি জানা সবার জন্য যেমন জরুরী তেমনি তা মেনে চলাও অত্যাবশ্যক। ঘরে এবং বাইরে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির সতর্কতাগুলো আমাদের অবশ্যই অনুসরণ ও মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্টির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র বসতি এলাকার মানুষকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সচেতন করার জন্য লিফলেট, পোস্টার, স্টিকার, ক্যাবল নেটওয়ার্কিং ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরের ৩৭৪ টি হাত ধোয়ার পয়েন্টের প্রতিটিতে ৫৬ টি করে মোট ২১ হাজার সাবান বিতরণ করা হয়েছে। গত এপ্রিলে প্রথম দফায় ৪৫ হাজার সাবান বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১ লাখ নগরবাসী হাত ধোয়ার সুবিধা ভোগ করবে।

অনুষ্ঠানে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার মো. সারোয়ার হোসেন খান,আউটপুটপ্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান চৌধুরী, টাউন ফেডারেশন চেয়ারম্যান কোহিনূর আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি মেয়রের নিকট প্রয়োজনীয় ওষুধ দিল হাজারী লেইন ঔষধ ব্যবসায়ী সিমিতির নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, কোভিড ১৯ ভাইরাসটি দেশ এবং পরিবেশ অনুযায়ী তার চরিত্র বদলাচ্ছে। ফলে এর কোনও একক, ও বিশেষায়িত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া সম্ভব নয়। এক দেশে, এক ধরনের পরিবেশে যে ওষুধ, যে চিকিৎসা পদ্ধতি কাজ করবে, আরেক দেশে তা কাজ নাও করতে পারে।কারণ ভাইরাসটি তার চরিত্র বদলাচ্ছে। কাজেই করোনার চিকিৎসায় সাফল্য পেতে গেলে, কোভিড ১৯ ভাইরাসের তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী যে জিনটি নিজেকে বদলে নিয়ে আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠছে, সেটা শনাক্ত করা জরুরি।

আজ সকালে চসিক মেয়র দপ্তরে হাজারী লেইন ঔষধ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হাজারী লেইন ঔষধ ব্যবসায়ী সিমিতির নেতৃবৃন্দ সিটি মেয়রের কাছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রদানকালে মেয়র একথাগুলো বলেন।

মেয়র এই ক্রান্তিলগ্নে ওষুধ ব্যবসায়ীরা মানবতার কল্যাণে ওষুধ-পত্র নিয়ে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিয়মকানুন মেনে সতর্ক থাকা ও অনুমান নির্ভর পথ্য ছাড়া এখনও পর্যনÍ এই ভাইরাসের চিকিৎসা সঠিক প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। তবে বিজ্ঞানীরা এর ভ্যাকসিনের জন্যে চেষ্টা করছেন। আমরা আশাবাদী অতি শীঘ্রই এর ভ্যাকসিন আমরা পাবো।

ওষুধ প্রদানকালে সমিতির সভাপতি সফিউল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, সহ-সভাপতি বিকাশ কান্তি সিংহ, আশীষ কুমার চৌধুরী, বিপ্লব কান্তি ঘোষ, সুরেশ বড়ুয়া, শ্যামল চৌধুরী, মোহাম্মদ লেয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

ছালেহ আহমদ খুরশিদা ফাউন্ডেশন : ছালেহ আহমদ খুরশিদা ফাউন্ডেশন পক্ষথেকে ৩শ পিস হাইফো অক্সিজেন ক্যানোলা প্রদান করেছেন।

আজ মেয়র দপ্তরে সিটি মেয়র আ জ.ম নাছির উদ্দীন এই পিছ হাইফো অক্সিজেন ক্যানোলা গ্রহণ করে বলেন, জরুরী এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে যারা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করছেন তারা আমাদের সকলের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ অন্যতম সহায়ক শক্তি।

এসময় মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হুমায়ুন মোর্শেদ সিদ্দিকী শাকিল, ওয়াসিফ, ছাত্রনেতা অনিন্দ্যদেব উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ বাকলিয়া জাতীয় শ্রমিকলীগ: দক্ষিণ বাকলিয়া জাতীয় শ্রমিকলীগের উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ভোগ্যপন্য উপহার সামগ্রী ও রান্নাকরা খাবার বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।

গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণ বাকলিয়ায় মনোহর আলী মাস্টার বাড়ীতে এই উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।

এসময় মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, বাকলিয়া থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাজী ছিদ্দিক আলম, বিপনী বিতান কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শফিউল আলম, গোলাম রাব্বানী, আ খ ম আরিফ, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আলম জাহেদ, এড.জি এম জাহেদ, হাজী বেলাল আহমদ, এস এম মামুনুর রশিদ, আনিসুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্ম জুয়েল, মোহাম্মদ রুবেল, জামশেদ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।