খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়াদকালীন সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবো: চসিক প্রশাসক সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
মেয়াদকালীন সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবো: চসিক প্রশাসক সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নিযুক্ত প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। টাইগারপাসস্থ চসিকের অস্থায়ী নগরভবনে এক আনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের কাছ থেকে এ-দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণ শেষে পরম করুণাময় আল্লাহ তা’য়ালার নিকট শুকরিয়া আদায় এবং নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুরুতেই তিনি বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আত্নার মাগফেরাত কামনা সহ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের আত্নার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ২২জুন ১৮৮৩ সন থেকে চট্টগ্রাম পৌরসভা থেকে বিগত সময়ে যারা পৌরসভা,মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং সিটি কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান, প্রশাসক ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁদের মধ্যে যারা প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের আত্নার মাগফেরাত এবং জীবিত জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘায়ু ও সু-স্বাস্থ্য কামনা করেন। তিনি ১৯৯৪ সন থেকে ২০২০ সালের ০৫ আগস্ট পর্যন্ত যে তিন জন নির্বাচিত মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সেবা দিয়ে গেছেন তিনি তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তাদের সেবাধর্মী সকল কর্মকাণ্ড ও নিরলস পরিশ্রম চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে করে গেছেন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমি আশা করি অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দায়বদ্ধতা থেকে সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবে এবং চট্টগ্রাম নগরীকে স্বপ্নের মেগাসিটিতে উন্নিত করতে স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তিযোগে পরিপূর্ণ করতে সকল সামর্থ ও সক্ষমতা উজাড় করে দিতে সচেষ্ট হব। এছাড়াও আমি সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ বিশেষ করে দেশপ্রেমিক নগর বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারিত করবো এবং সকলের প্রত্যাশা পূরণে আমি ১৮০ দিন প্রশাসক হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থাকবো।

তিনি গণমাধ্যমের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, সংগঠক, কর্মী, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অন-লাইন ও পোর্টালসহ সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন।

এর পূর্বে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন হযরত আমানত শাহ (র.) মাজার শরীফ জেয়ারতের পর প্রয়াত জননেতা এম.এ আজিজ,জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ মান্নান ও সাবেক মেয়র এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কবর জেয়ারত ও মুনাজাত শেষে নগর ভবনে আসেন।

তিনি নগরবাসী ও চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নগরভবনে উপস্থিত হন।

পরে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভাগীয় প্রধানদের সাথে তাঁর দপ্তরে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি তাঁর ভিশন ও পরিকল্পনা গুলো তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম শহরের যে রাস্তাগুলো রাস্তাগুলো খারাপ সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল হতে হবে। দূর্গন্ধ বা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, কাজ যতই কঠিন হউক না কেন কঠিনকে জয় করতে হবে। জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান যে, এ বর্ষা মৌসুমেই জলাবদ্ধতার কারনগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ প্লান কিভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা যায় তার উপায় অন্বেষন করা করা হবে। তিনি জাইকার চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে তিনি ৪১টি ওয়ার্ডের ড্রেইন নালা-নর্দমা ও কাঁচা রাস্তাগুলোসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে উন্নয়নের আওতায় এনে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের ৮টি বিভাগীয় এলাকার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েবলেন, নগরবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে গৃহীত কর্মপরিকল্পনাগুলো কথায় ও কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

বৈঠকে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সাবেক মেয়রের মেয়াদকালীন সময়ে অসম্পূর্ন উন্নয়নকাজগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা, স্বচ্ছতা-কর্তব্যনিষ্ঠা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম-দূর্নীতি পরিহার করা ও কাজের গতিকে সক্রিয় ও সচল রাখার উপর জোর দেন।

বৈঠকে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, স্পেশাল ম্যাজেস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী,একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা সাহেদা বেগম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ.কে.এম রেজাউল করিম, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

পোর্ট কানেকটিং রোড পরিদর্শনকালে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন
আগামী ৫দিনের মধ্যে যান
চলাচলের উপযোগী করতে হবে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নিযুক্ত প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে পোর্ট কানেকটিং সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসুত্রিতায় নিমজ্জিত হয়ে বছরের পর বছর এই সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়নি। যা অত্যন্ত দু:খ জনক। এ-নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি ও চট্টগ্রামের সৌন্দর্য ও সুনামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন বিগত দিনে যে সময় গড়িয়েছে এখন আর সময় ক্ষেপনের কোন সুযোগ নেই। এই সড়কে আগামী ৫ দিনের মধ্যে রাস্তায় যত গর্ত রয়েছে তা ভরাট করে যান চলাচলের উপযোগী ও আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে অবশ্যই কাজ সম্পাদনের কড়া নির্দেশনা দেন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সর্বোচ্চ সততার মাধ্যমে পালন করতে চাই। আপনারাও আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবেন। যারা দুর্নীতি করেছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। আমি যার কাছে অনিয়ম দেখবো, দুই নাম্বারি দেখবো, নগরবাসীর সঙ্গে যারা বেইমানি করবেন তাদের আমি কোনোভাবেই ছাড় দেব না। নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিতরা যারা মানুষকে কষ্ট দেয় তাদের আমি ছাড় দেব না। এসব অন্যায়ের সঙ্গে আমি আপস করবো না। ভুল করা অপরাধ না। কিন্তু ইচ্ছা করে ভুল করা অপরাধ।’ ‘এই শহর আমাদের শহর। পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের একটি চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতা এই শহরের প্রধান সমস্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করাচ্ছেন। উনারা রাতদিন পরিশ্রম করছেন। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আমরা পৌঁছতে পারবো।’ আজ অপরাহ্নে পোর্ট কানেকটিং সড়কের সাগরিকা হতে নয়াবাজার মোড় পর্যন্ত উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, ঠিকাদার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী, ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক মো: আসলাম, নুরুল আমিন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরিদ, এসি ট্রাফিক পশ্চিম কীর্তিমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।