খুঁজুন
, ,

মেয়াদকালীন সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবো: চসিক প্রশাসক সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 6 August, 2020, 5:28 pm
মেয়াদকালীন সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবো: চসিক প্রশাসক সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নিযুক্ত প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। টাইগারপাসস্থ চসিকের অস্থায়ী নগরভবনে এক আনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের কাছ থেকে এ-দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণ শেষে পরম করুণাময় আল্লাহ তা’য়ালার নিকট শুকরিয়া আদায় এবং নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুরুতেই তিনি বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আত্নার মাগফেরাত কামনা সহ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের আত্নার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ২২জুন ১৮৮৩ সন থেকে চট্টগ্রাম পৌরসভা থেকে বিগত সময়ে যারা পৌরসভা,মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং সিটি কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান, প্রশাসক ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁদের মধ্যে যারা প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের আত্নার মাগফেরাত এবং জীবিত জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘায়ু ও সু-স্বাস্থ্য কামনা করেন। তিনি ১৯৯৪ সন থেকে ২০২০ সালের ০৫ আগস্ট পর্যন্ত যে তিন জন নির্বাচিত মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সেবা দিয়ে গেছেন তিনি তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তাদের সেবাধর্মী সকল কর্মকাণ্ড ও নিরলস পরিশ্রম চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে করে গেছেন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমি আশা করি অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দায়বদ্ধতা থেকে সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবে এবং চট্টগ্রাম নগরীকে স্বপ্নের মেগাসিটিতে উন্নিত করতে স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তিযোগে পরিপূর্ণ করতে সকল সামর্থ ও সক্ষমতা উজাড় করে দিতে সচেষ্ট হব। এছাড়াও আমি সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ বিশেষ করে দেশপ্রেমিক নগর বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারিত করবো এবং সকলের প্রত্যাশা পূরণে আমি ১৮০ দিন প্রশাসক হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থাকবো।

তিনি গণমাধ্যমের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, সংগঠক, কর্মী, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অন-লাইন ও পোর্টালসহ সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন।

এর পূর্বে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন হযরত আমানত শাহ (র.) মাজার শরীফ জেয়ারতের পর প্রয়াত জননেতা এম.এ আজিজ,জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ মান্নান ও সাবেক মেয়র এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কবর জেয়ারত ও মুনাজাত শেষে নগর ভবনে আসেন।

তিনি নগরবাসী ও চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নগরভবনে উপস্থিত হন।

পরে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভাগীয় প্রধানদের সাথে তাঁর দপ্তরে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি তাঁর ভিশন ও পরিকল্পনা গুলো তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম শহরের যে রাস্তাগুলো রাস্তাগুলো খারাপ সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল হতে হবে। দূর্গন্ধ বা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, কাজ যতই কঠিন হউক না কেন কঠিনকে জয় করতে হবে। জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান যে, এ বর্ষা মৌসুমেই জলাবদ্ধতার কারনগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ প্লান কিভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা যায় তার উপায় অন্বেষন করা করা হবে। তিনি জাইকার চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে তিনি ৪১টি ওয়ার্ডের ড্রেইন নালা-নর্দমা ও কাঁচা রাস্তাগুলোসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে উন্নয়নের আওতায় এনে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের ৮টি বিভাগীয় এলাকার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েবলেন, নগরবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে গৃহীত কর্মপরিকল্পনাগুলো কথায় ও কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

বৈঠকে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সাবেক মেয়রের মেয়াদকালীন সময়ে অসম্পূর্ন উন্নয়নকাজগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা, স্বচ্ছতা-কর্তব্যনিষ্ঠা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম-দূর্নীতি পরিহার করা ও কাজের গতিকে সক্রিয় ও সচল রাখার উপর জোর দেন।

বৈঠকে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, স্পেশাল ম্যাজেস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী,একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা সাহেদা বেগম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ.কে.এম রেজাউল করিম, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

পোর্ট কানেকটিং রোড পরিদর্শনকালে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন
আগামী ৫দিনের মধ্যে যান
চলাচলের উপযোগী করতে হবে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নিযুক্ত প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে পোর্ট কানেকটিং সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসুত্রিতায় নিমজ্জিত হয়ে বছরের পর বছর এই সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়নি। যা অত্যন্ত দু:খ জনক। এ-নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি ও চট্টগ্রামের সৌন্দর্য ও সুনামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন বিগত দিনে যে সময় গড়িয়েছে এখন আর সময় ক্ষেপনের কোন সুযোগ নেই। এই সড়কে আগামী ৫ দিনের মধ্যে রাস্তায় যত গর্ত রয়েছে তা ভরাট করে যান চলাচলের উপযোগী ও আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে অবশ্যই কাজ সম্পাদনের কড়া নির্দেশনা দেন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সর্বোচ্চ সততার মাধ্যমে পালন করতে চাই। আপনারাও আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবেন। যারা দুর্নীতি করেছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। আমি যার কাছে অনিয়ম দেখবো, দুই নাম্বারি দেখবো, নগরবাসীর সঙ্গে যারা বেইমানি করবেন তাদের আমি কোনোভাবেই ছাড় দেব না। নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিতরা যারা মানুষকে কষ্ট দেয় তাদের আমি ছাড় দেব না। এসব অন্যায়ের সঙ্গে আমি আপস করবো না। ভুল করা অপরাধ না। কিন্তু ইচ্ছা করে ভুল করা অপরাধ।’ ‘এই শহর আমাদের শহর। পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের একটি চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতা এই শহরের প্রধান সমস্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করাচ্ছেন। উনারা রাতদিন পরিশ্রম করছেন। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আমরা পৌঁছতে পারবো।’ আজ অপরাহ্নে পোর্ট কানেকটিং সড়কের সাগরিকা হতে নয়াবাজার মোড় পর্যন্ত উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, ঠিকাদার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী, ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক মো: আসলাম, নুরুল আমিন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরিদ, এসি ট্রাফিক পশ্চিম কীর্তিমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ : এমডি 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:09 pm
চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ : এমডি 

চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (চট্টগ্রাম ওয়াসা) গ্রাহকসেবা আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ উদ্যোগে ‘বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ভবনের ৩য় তলার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় ৩৬ জন মিটার পরিদর্শক, চট্টগ্রাম ওয়াসার ১২ জন কর্মকর্তা উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক(অর্থ) মিজ্ শারমিন আক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বিদ্যমান বিলিং প্রক্রিয়া, বর্তমানে ম্যানুয়ালি পরিচালিত বিভিন্ন সেবা এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের এসব পরামর্শ চট্টগ্রাম ওয়াসার সেবাদানের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে ডিজিটাল সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে হবে এবং এ লক্ষ্যে ওয়াটারএইডের প্রস্তাবটি ইতিবাচক।
আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে চাই এবং ডিজিটালাইজেশন ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবার মান উন্নত করতে চাই। বিলিং সিস্টেম উন্নত হলে গ্রাহক সেবার মানও উন্নত হবে এটা নিশ্চিত।

তিনি ডিজিটাল ব্যবস্থাটি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মতামত প্রদানের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর রাজস্ব সংগ্রহে ওয়াটারএইডের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালাটি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার মধ্যকার সহযোগিতা আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ‘মাদককে না বলুন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 7:49 pm
চট্টগ্রামে ‘মাদককে না বলুন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আজ ২২ জুলাই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

“মাদককে না বলুন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন”-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ (কর্ণফুলী এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) এবং স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সিডিসি, সংশপ্তক, অপরাজেয় বাংলাদেশ, ঘাসফুল, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা এবং ঊষা নারী উন্নয়ন সংস্থা।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর কর্ণফুলী এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনি রোজারিও-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), চট্টগ্রামের প্রসিকিউটর নেজাম উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই সামাজিক মহামারী থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; বরং খেলাধুলা, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ইতিবাচক বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। বক্তারা সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সভায় চট্টগ্রাম এলাকার প্রায় ২৫০ জন যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেন, যাদেরকে মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।

আলোচনা পর্ব শেষে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যুব ফোরামের সদস্যবৃন্দ এবং দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পলি শারমিন-এর মনোজ্ঞ পরিবেশনায় এক মাদকবিরোধী কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও মাদকমুক্ত জীবন গড়ার অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন সিডিসি-র নির্বাহী পরিচালক লুৎফুন্নেছা রূপসা,ঘাসফুলের উপ-পরিচালক মারুফুল করিম চৌধুরী, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো: আলী সিকদার, সংশপ্তকের প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভিন, অপরাজেয় বাংলাদেশের ইনচার্জ জিন্নাত আরা বেগম, এবং ঊষা নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার পিযুষ দাশ গুপ্ত।

এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পক্ষে ডেনিস তপ্ন, রীতা দোলন রোজারিও, শারমিন আক্তার, রিপা চাকমা, পায়েলে খ্রীস্টিনা দাশ ও স্মীতা দে ও ঘাসফুলের প্রকল্প সমন্বয়কারী সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সার্বিক সমন্বয় করেন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 7:24 pm
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

গত ১৯ জুলাই রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্মারক নং-৪৫.০০.০০০০.০০০.১৬০.০৬.০০০৭.২৬(অংশ-১).৭৫৮ মূলে সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিরও সহ-সভাপতি।

মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় চট্টগ্রামবাসী অনেক খুশী।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নবাগত সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি’কে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-৯ আসন মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সুনজর দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ডায়ালাইসিস সেবা চালু হয়েছে। শূন্যপদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগের পর হাসপাতালে আগত রোগী সাধারণ ইনডোর ও আউটডোরে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রায় সকল ধরণের ওষুধ হাসপাতাল থেকেই পাচ্ছে। রোগী সাধারণ তাদের অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বল্পমূল্যে করাতে পারছে। জেনারেল হাসপাতাল একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে পরিণত হচ্ছে।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নবাগত সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি’র নেতৃত্বে এ হাসপাতালের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে এবং রোগীরা তাদের কাক্সিক্ষত সেবা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ একরাম হোসেন।