খুঁজুন
, ,

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা একাদশে নেই মেসি-রোনালদো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 25 August, 2020, 10:36 am
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা একাদশে নেই মেসি-রোনালদো

বিগত ১৫ বছরে এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল হয়েছে সময়ের দুই সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া। এবার প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা একাদশেও নেই দুই মহাতারকার একজনও।

দুই তারকার ক্লাবই আগেভাগে বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে। স্বাভাবিকভাবেই দুই তারকাও তাই চলে গেছেন সেরা একাদশের বাইরে।

নিজেদের ইতিহাসের ৬ষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথে একক আধিপত্য দেখিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে জিতে নিয়েছে এক আসরের সবগুলো ম্যাচই। সেরা একাদশেও দাপট হ্যান্সি ফ্লিক বাহিনীর।

ফুটবল ভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম গোলডটকমের বিচারে সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন ক্লাবটির ৮ জন ফুটবলার। টুর্নামেন্টে রানার আপ হলেও পিএসজি থেকে সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন কেবল নেইমার। এছাড়া বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লিপজিগের ১ জন করে জায়গা পেয়েছেন সেরা একাদশে।

দেখে আসা যাক গোল ডটকমের সেরা একাদশে জায়গা পাওয়া ফুটবলারদের আসরের পারফরম্যান্স।

গোলডটকমের সেরা গোলকিপার বায়ার্ন মিউনিখ অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার।

২০১৮ বিশ্বকাপে বাজে পারফর‌ম্যান্সের পর অনেকেই বলেছিলেন, ফুরিয়ে গেছেন ম্যানুয়েল নয়্যার। তবে সমালোচকদেরকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত এই গোলকিপার।

ফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুন্য দেখিয়েছেন নয়্যার। অনেকেই বলছেন, একা হাতেই তিনি হারিয়ে দিয়েছেন পিএসজিকে। কেবল ফাইনালেই নয়, পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন নয়্যার। আসরে ৬বার ক্লিনশিট পাইয়ে দিয়েছেন জার্মান ক্লাবটিকে। স্বাভাবিকভাবেই সেরা একাদশে গোলকিপার হিসেবে সেরা পছন্দও এই জার্মান গোলকিপার।

রাইটব্যাকে গোলডটকমের পছন্দ বায়ার্ন ডিফেন্ডার জসুয়া কিমিচ। কেবল ডিফেন্সেই নয়, মিডফিল্ডেও দুর্দান্ত ছিলেন ২৫ বছর বয়সী তারকা। আসরে সবচেয়ে বেশি ২৮টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন কিমিচ। শিরোপানির্ধারণী ফাইনালে কিংসলে কোম্যানের একমাত্র গোলটিরও যোগানদাতা কিমিচ। বলা হচ্ছে, বায়ার্নের আগামীর অধিনায়কও তিনি।

গোলডটকম সেন্ট্রাল ব্যাকে রেখেছে আরেক জার্মান ক্লাব লিপজিগের ডিফেন্ডার ডায়ট উপামেকানোকে। মাত্র ২১ বছর বয়সী এই তরুণ দেখিয়েছেন নিজের সামর্থ্য। দলকে সেমিফাইনালে টেনে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান ব্যাপক। বিশেষ করে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স তাকে ফুটবল বিশ্বে আলাদা পরিচিতি পাইয়ে দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, আগামী মৌসুমেই ইউরোপের শীর্ষ কোন ক্লাবে দেখা যাবে এই ডিফেন্ডারকে।

এছাড়া সেন্ট্রাল ব্যাকে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের আরেক তারকা ডেভিড আলাবা। লেফটব্যাক হিসেবে মৌসুম শুরু করলেও, সেন্ট্রালব্যাকেও নিজের প্রতিভা দেখিয়েছেন আলাবা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা একাদশের লেফটব্যাকে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের সাড়া জাগানো উইঙ্গার আলফোন্সো ডেভিস। কানাডার উদ্বাস্তু শিবির থেকে উঠে আসা এই উঠতি তারকার প্রতি এরইমধ্যে নজর পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের। মাত্র একবছরেই বায়ার্ন মিউনিখের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে আলফোন্সো। এছাড়া গোলের যোগান দিতে বেশ দক্ষ তিনি। বিশেষ করে বার্সেলোনার বিপক্ষে কিমিচকে তৈরি করে দেয়া বলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সেরা একাদশের রাইট উইংয়ে আছেন বায়ার্ন তারকা সার্জি গ্যানাব্রি। আর্সেনাল হয়তো আফসোসে পুড়ছে। কারণ দারুণ প্রতিভাবান এই উইঙ্গারকে ধরে রাখতে পারেনি ইংলিশ ক্লাবটি। তাদের ক্ষতিতে লাভবান বায়ার্ন। দুর্দান্ত একটা আসর কাটিয়েছেন গ্যানাব্রি। আসরে করেছেন ৯টি গোল।

সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে আছেন বায়ার্নেরই আরেকজন। তিনি থিয়াগো আলকান্তারা। খুব বেশি গোলের যোগান দিতে পারেননি তিনি। তবে পুরো আসরে বায়ার্নের মাঝমাঠের কান্ডারি হয়ে ছিলেন। আসরে ৮৩২টি পাস দিয়েছেন এই স্প্যানিশ। তারচেয়ে বেশি নেই আর কারো।

মিডফিল্ডের অন্যজনও বায়ার্ন মিউনিখের। তিনি থমাস মুলার। সেরা একাদশে তারা থাকাটা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। আসরে ৪ গোলের পাশাপাশি ২ গোলের অ্যাসিস্ট করেছেন।

গোলডটকম তাদের সেরা একাদশের লেফট উইংয়ে রেখেছে পিএসজি তারকা নেইমারকে। ফাইনালে হেরে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিলেও, বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলারের হাত ধরেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছিল ফরাসী ক্লাবটি। আসরে খুব বেশি গোল নেই তার। করেছেন মাত্র ৩টি গোল, যোগান দিয়েছেন ৪টিতে। তবে পিএসজির আক্রমণভাগের মূল দায়িত্বটা বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

স্ট্রাইকিং পজিশনে অবধারিতভাবেই আছেন বায়ার্ন তারকা রবার্ট লেওয়ানডস্কি। অসাধারণ একটা আসর কাটিয়েছেন পোলিশ তারকা। ১১ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল। অল্পের জন্য আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি, তবে দলকে ট্রফিটা জিতিয়েছেন ঠিকই। গোল তো করেছেনই, ৫টি গোলের যোগানও দিয়েছেন লেওয়ানডস্কি।

সেরা একাদশের অন্য স্ট্রাইকার বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের তারকা এর্লিং হ্যালান্ড। ক্লাব আগেভাগে বিদায় নিলেও, নিজের গোলক্ষুধার প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ। মাত্র ৮ ম্যাচে ১০ গোল করে তাই আসরের সেরা একাদশে আছেন হাল্যান্ডও।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 8:34 pm
চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা

চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অজস্র পরিবার।

এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মানবিক ও কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন তার নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা জানান।

মাহাদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।

একইসঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০ উদ্যোগ

১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গত মানুষদের কাছে দ্রুততম সময়ে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬. ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের প্লাবিত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান, দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানানো এবং ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মাহাদী আমিন।

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 8:22 pm
শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজ একটা ইন্টারভিউ আমরা দেখেছি, যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। আমাদের দাবি থাকবে, দেশ তো অলরেডি ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।’

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবে, তিনি কাদের নিয়ে আসবেন, তিনি সারেন্ডার করবেন কি করবেন না। এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাকে আনতে হবে।

বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরেও, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।
নাহিদ ইসলাম, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু পারমিট করা হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না? এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।

জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।’

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, না উদ্যোক্তাগণ বক্তব্য প্রদান করেন।

রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ পেলেন মেয়রের ত্রাণ সামগ্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 8:16 pm
রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ পেলেন মেয়রের ত্রাণ সামগ্রী

চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচলাইশ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়কের ওয়াজেদিয়া, বোর্ড অফিস, চালিতাতলী বাজার, হাজীপাড়া, বেলতলা, শহীদনগর সহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত হাজারো মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পর থেকে সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দশ হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা বসে থাকিনি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করেছি। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কোথায় পানি আটকে আছে, কীভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়, এসব বিষয়ে একযোগে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, খাল ও নালা সচল রাখা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মাসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের নির্দেশনা গ্রহণ করেন।

এসময় মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এর আগে তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে পানিবন্দী মানুষের খোঁজখবর নিতে চান্দগাঁও ওয়ার্ডের হাজীরপুল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক এবং শমসেরপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি প্রায় এক হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে তারা কোথায় কী কারণে পানি আটকে আছে, পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক জি এম আইয়ুব খান, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জসিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, পাঁচলাইশ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল আলম, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আবু, সদস্য সচিব সোলায়মান বাদশা, বিএনপি নেতা মোরশেদুল আলম, লিয়াকত আলী জসিম, মোহাম্মদ ইসমাইলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।