খুঁজুন
, ,

জন-দূর্ভোগ লাঘবে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 6 September, 2020, 6:46 pm
জন-দূর্ভোগ লাঘবে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে:সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগরীতে যেখানে নাগরিক দুর্ভোগ ও বেসামাল অবস্থা দৃশ্যমান সেগুলোর যথাসম্ভব তাৎক্ষণিক সমাধানে চলমান এ্যাকশন বিরতিহীনভাবে চলবে। চসিক যেখানে সড়ক মেরামত, খানাখন্দ ভরাট, পরিচ্ছন্নতা ও সড়কবাতির কাজগুলো করেছে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন ও পরিচর্যায় সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জনবলের পাশাপাশি নগরবাসীরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি পরিদর্শনকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এখনো দেখছি বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে আছে। যে খানা-খন্দগুলো মেরামত করা হয়েছে সেগুলোও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে এবং সড়কে ও ফুটপাতে বেঁধে দেয়া টাইমফ্রেম ও নিয়ম-নীতি কিছুই যথাযথভাবে মানছে না।

তিনি হকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষের চলাচলের পথে কাঁটা হবেন না। মানুষের চলাচলের পথ সুগম করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি কোনভাবেই পূনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের পক্ষে নই। তবে মানুষের চলাচলের পথে কোন প্রতিবন্ধকতা সহ্য করা হবে না।

তিনি আজ মাঝিরঘাট স্ট্যান্ড রোড, নিউমার্কেট মোড়,ষ্টেশনরোড, রেলওয়ে কভারস্টোর ফলমুন্ডি বাজার, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন জায়গায় হকার,ফুটপাত,বাজার,রাস্তা,অলস পার্কিং সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, অনেক সড়কে নিষেধ সত্বেও হকাররা চৌকি বসিয়ে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী স্থাপনা ও ছাউনী বানিয়ে রেখেছে। রাস্তার যানবাহন ও পথচারী চলাচলের অংশেও তারা ব্যবসা-পাতির পসরা সাজিয়েছেন। ফুটপাতের জায়গায় চলাচলের পথে বড় বড় চৌকি বসিয়েছে- এ আচরণ সহ্যের সীমানা অতিক্রম করেছে। হকারদেরকে আরো স্পষ্ট করে বলেন রাস্তার উপর তাদের নির্মাণ করা স্থাপনা ও চকিগুলো সরিয়ে না ফেললে ওগুলোকে জব্দ করে নিলামে তোলা হবে। কারণ হকার নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আমি যে ছাড়গুলো দিয়েছি তা কেউ যদি দুর্বলতা মনে করেন তাহলে তাদের জন্য কঠোর দণ্ড অপেক্ষা করছে। ষ্টেশন রোডের নুপুর মার্কেটের সামনে দৃষ্টিকটু ও শহরের সৌন্দর্যহানিকর পাবলিক টয়লেটটির নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা এবং চসিক প্রদত্ত নকশানুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা তা অফিসে এসে দেখানোর নির্দেশ দেন প্রশাসক।

তিনি ফলমুন্ডি বাজারের দোকান-পাটের মালিক ও মালামাল বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলতে পারবেন না। এ জন্য প্রতি দোকানকে ৪টি করে পলি ব্যাগ দেয়া হবে। এই ব্যাগে আবর্জনা ভর্তি করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে আসতে হবে। সেখান থেকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা গাড়িতে তুলে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ডাম্পারে নিয়ে ফেলবে। প্রশাসক ফল বিক্রেতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে নর্দমায় ময়লা ও পঁচা ফলের ভাগাড় দেখতে পেয়ে তা অপসানের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এহেন কাজের জন্য আগামীকাল থেকে চসিকের হেলথ্ ইন্সপেক্টর দ্বারা তদারকি ও জরিমানা করা হবে। প্রশাসক মাঝিরঘাট স্ট্যান্ড রোডে দায়িত্বরত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে ওয়ার্কপ্লান অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আগামী সপ্তাহে কি কাজ করবেন এবং পরবর্তী ১৫ দিনে কি কাজ করবেন তার কর্মপরিকল্পনা পূর্বথেকে নির্ধারণ করে ডিসি ফুডের সাথে সমন্বয় পূর্বক কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, রাস্তার কোন অংশেই কোন ধরণের নির্মাণ সামগ্রী রাখা যাবে না। ফুটপাত বা নালা-নর্দমার ওপর স্ল্যাব বসিয়ে দোকান-পাটের আয়তন বাড়ানো চলবে না। যে সমস্ত এলাকা ধুলিময় হয়ে উঠেছে সে সমস্ত রাস্তার দু’পাশে দুই বেলা পানি ছিটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সদরঘাট রোডে অবস্থিত রাস্তার পাশে কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারটিকে নিয়মনীতি অনুসরণের তাগাদা দিয়ে বলেন মূল রাস্তায় বাজার বসানো যাবে না।

এবিষয়ে বাজার সংশ্লিস্টদেরকে আগামীকাল প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করে এর দিক নির্দেশনা গ্রহণের পরামর্শ দেন। চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় মার্কেটের মুখে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে জনসাধারনের চলাচলের পথ সংকুচিত করার দৃশ্য দেখে প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামীকালের মধ্যে হাটাচলার পথ থেকে সমস্ত পণ্য সরিয়ে ফেলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মার্কেটটি একসময় সিডিএ’র গোডাউন ছিলো। পরে সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলে নির্মিত শপিং মলটিতে চলাফেরার রাস্তা,মাঝখানে পার্কিংপ্লেস ও আলো-বাতাস চলাচলের জন্য উম্মুক্ত জায়গা রাখলেও এখন সেখানে দোকান তৈরী করা হয়েছে। ফলে শপিং মলটি ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে। এসব কাঠামো ভেঙ্গে ফেলতে হবে।

পরিদর্শনকালে প্রশাসকের এমন যুগোপযোগি পদক্ষেপ ও মাঠে সরব থাকার বিষয়টিকে উপস্থিত জনসাধারণ সাধুবাদ জানান এবং এই কার্যক্রম চলমান রাখার অনুরোধ জানান। প্রশাসক তাঁর কর্মকাল মানুষের সেবা প্রদান ও দু:খ দুর্দশা লাঘবে উৎসর্গ করবেন বলে মত প্রকাশ করেন।

চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ফলমুন্ডি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, হোসেন শহীদ সরওয়ারদী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, সহকারী প্রকৌশলী আশিক উল ইসলাম, মজিবুল হায়দার, উপসহকারী প্রকৌশলী নুর সোলায়মান, চন্দন দাশ উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতকালে প্রশাসক সুজন
নগরীর সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নে
বিজিএমইএ-কে এগিয়ে আসতে হবে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, করোনাকালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের শীর্ষতম উৎস তৈরী পোষাক রফতানী শিল্পখাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থবিরতা প্রকটতর হওয়ার আশঙ্কা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই খাতে সর্বাধিক প্রণোদনা প্রদান ও ঋণ সহায়তা বরাদ্দ দেন বিধায় এই খাতটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে রফতানী আয়ের সূচকে গতিশীলতা বিদ্যমান রয়েছে। তাই মনে রাখতে হবে যে-কোন প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মত শক্তি- সামর্থ্য ক্ষমতা ও কর্মপরিকল্পনা সরকারের আছে। রফতানীমুখী শিল্পের সমস্যা আছে আবার সমাধানও আছে। শ্রমিক-কর্মচারী-মালিক ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টাই যে-কোন সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়।

তিনি আজ দুপুরে টাইগারপাসস্থ চসিক ভবনে বিজিএমইএ’র এক প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতকালে একথা গুলো বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দর নগরী। সারাদেশের তৈরী পোষাক রফতানী শিল্পের পণ্য পরিবহনগুলো চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তা-ঘাট ও সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোর উপর আসা-যাওয়া করে। এ কারণে চট্টগ্রামের রাস্তা-ঘাট ও সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নে আবশ্যিক অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় বিজিএমইএ-কে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, অনেক সময় দেখা যায় বেতন-ভাতা-বোনাসের দাবীতে গার্মেন্টেস শ্রমিকেরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হন। তারা সড়ক অবরোধ করেন এবং এতে দুঃসহ নাগরিক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তাই শ্রমিক-কর্মচারীরা যাতে রাস্তায় নামতে বাধ্য না হন সেদিকে মালিক কর্র্তপক্ষকে অবশ্যই দৃষ্টি রাখতে হবে।

তিনি বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দকে পোষাক শিল্পখাতে প্রসার ও উন্নয়ন চসিকের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, বিজিএমইএ চট্টগ্রাম এর প্রথম সহ সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন, অঞ্জন শেখর দাশ, এনামুল আজিজ চৌধুরী, মোহাম্মদ আতিক, আব্দুল আজিজ চৌধুরী প্রমূখ।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন অফিসে প্রণব মূখার্জির শোক বহিতে চসিক প্রশাসকের স্বাক্ষর

আজ সকালে চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার কার্যালয়ে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রাগ্য রাজনীতিক সদ্য প্রয়াত প্রণব মুখার্জীর শোক বইতে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

এ সময় তিনি স্থাপিত প্রয়াত প্রণব মুখার্জীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও দাঁড়িয়ে প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।

স্বাক্ষর শেষে আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে পরস্পর কুশল বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ভারতের সাথে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সম্পর্কে দু’দেশের জনগণের জন্য মঙ্গল আনবে বলে মন্তব্য করে বলেন, এই মৈত্রির বন্ধনকে সুদৃঢ় করে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ককে অধিকতর গতিশীল করার কুটনৈতিক প্রয়াস অব্যাহত থাকাটা আজ সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রণিধানযোগ্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ট্রানজিস্ট সুবিধায় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং নেপাল ও ভুটানে নৌ,সড়ক ও রেলপথে আমদানি রপ্তানি পণ্য পরিবহনে যে সময় ও আর্থিক সাশ্রয় হবে এতে বাংলাদেশ-ভারত -নেপাল-ভুটানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চসিক প্রশাসকের নিকট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করলেন চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া গৃহকর বাবদ চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের নিকট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ পরিচালক ডাঃ আফতাবুল ইসলাম।

এসময় সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চমেক হিবাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান, চসিক এস্টেট অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী, উপ-কর কর্মকর্তা আবদুল মজিদ উপস্থিত ছিলেন।

চেক হস্তান্তরকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, করোনাকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনেক অবদান রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে এই হাসপাতালটি সাধারণ ও মূমুর্ষ রোগীদের যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তা অতুলনীয়।

তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সেবার মান আরো উন্নত করার এবং দালালদের দৌরাত্ব বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রশাসক চট্টগ্রামে আরো কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন।

চসিক প্রশাসকের সাথে সোলায়মান শেঠের সাক্ষাৎ
৩০টি পাবলিক স্পেসে সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে বিশিষ্ট রাজনীতিক, ব্যবাসায়ী শেঠ প্রপাটিসের সত্ত্বাধিকারী সোলায়মান শেঠ এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

আজ দুপুরে নগরীর টাইগাপাসস্থ চসিক ভবনে প্রশাসকের দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতকালে জনাব সোলায়মান শেঠ নগরীর ৩০টি পাবলিক স্পেসে নিজ উদ্যোগে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার আগ্রহ প্রকাশ করে জানান যে, নাগরিকদের নিত্য চলাফেরায় স্বাস্থ্য সম্মত সুপেয় পানির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পাবলিক স্পেসে তৃষ্ণা নিবারণে পথচারী, হকার, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কোন সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানবিক সেবা প্রদানের আমি আগ্রহী।

প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন সোলায়মান শেঠের এই আগ্রহে সাড়া দিয়ে বলেন, নগরীর পথচলাচলরত ব্যস্ত মানুষের পানির তৃষ্ণা মেটাতে এই উদ্যোগ একটি শুভ প্রয়াস। সমাজের সচল ও সামর্থ্যবান মানুষেরা এই ধরণের মানবিক কর্তব্য পালনে এগিয়ে এলে নগরবাসী উপকৃত হবেন এবং নাগরিক জীবন-যাপনও স্বস্থিদায়ক হবে।

তিনি সোলায়মান শেঠকে এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 12:11 am
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এটি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ঘটনার বিষয়ে আলোচনা হয়। দলের সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:19 pm
অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতাল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটিকে দেশের একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে হাসপাতাল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট ও জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে হাসপাতালটি আবারও কার্যক্রমে গতি পেয়েছে। এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উন্নত সেবার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটিকে দেশের অন্যতম মডেল মাতৃসদন হাসপাতালে পরিণত করা হবে। এ জন্য পরিচালনা কমিটি, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, কোনো চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর অবহেলার কারণে যেন কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি না হয়। মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। তাই রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন নার্সের আন্তরিক সেবাও অনেক সময় রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মীর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে শামীম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় তারা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলস কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই ধরনের নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে হাসপাতালের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার একটি বড় অর্জন। এর ফলে হাসপাতালের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির ঘোষণা দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হাসপাতালের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালকে কীভাবে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হবে। সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালকে দেশের একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।

জেমিসন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন মো.আছিফ চৌধুরী সভাপতিত্বে ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো.জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির জাহাঙ্গীর আলম বাবর, রায়হানুল আনোয়ার রাহী, ডা: তাসলিম চৌধুরী, জেমিসন হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নাজ সোহানী সুলতানা, নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মর্জিনা আক্তার, ডা. মিছবাহ উদ্দিন ও ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়াসহ প্রমুখ

এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:02 pm
এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

একজন নারী কথা বলতে বলতে বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন তাঁর স্বামী। তিনি জানেন না, স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। ঘরে অপেক্ষায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত। চিকিৎসা ও সন্তানদের খাবারের খরচ জোগাতে তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে।

তাঁর কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁদের কাঁচা বসতঘর ভেঙে গেছে, নষ্ট হয়েছে ফসল। স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম বাবা এখন অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আরেক পাশে অপেক্ষা করছিলেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা এক বিধবা মা। কারও প্রয়োজন কিডনির চিকিৎসা, কারও জরুরি অস্ত্রোপচার। এক কলেজছাত্রী বই ও কলেজ ড্রেস কিনতে না পেরে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কায়; আরেকজনের কাছে দিনাজপুরে ফিরে যাওয়ার গাড়িভাড়াটুকুও নেই।

জীবনের এমন ভিন্ন ভিন্ন সংকট নিয়ে বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়েছিলেন অসহায় মানুষেরা। তাঁদের কথা ধৈর্য ও মনোযোগের সঙ্গে শোনেন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৮ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের আবেদন, অভাব-অনটন ও অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি বিষয় শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। কয়েকটি আবেদন ও অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফলাফল আবেদনকারীদের জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে সাতজন অসহায় ব্যক্তি ও একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২১ জনকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়াগুঁড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।

মোসাম্মৎ মাইনা খাতুনের স্বামী আজাদ ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করতেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর দুই ছোট সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন মাইনা। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর।

জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি সন্তানদের খাবার, ভরণ-পোষণ ও নিজের চিকিৎসার জন্য সহায়তার পাশাপাশি নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে প্রশাসনিক সহযোগিতা চান। তাঁর দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বাঁশখালীর ইলশা গ্রামের রেয়াজুল জান্নাত রাহাতের বাড়িতে সাম্প্রতিক বন্যায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানি ওঠে। এতে তাঁদের কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়।

রাহাতের বাবা রেয়াজ আহামদ দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম। ঘর হারিয়ে পরিবারটি অস্থায়ীভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাবার জন্য বসতঘর নির্মাণ ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার আবেদন করেন রাহাত। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বোয়ালখালীর পশ্চিম শাকপুরার মো. শাহাজাহান কিডনি জটিলতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তাঁর আবেদন মানবিক বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

বাঁশখালীর মিনজিরিতলার মিফতাহুল জান্নাত রিয়া সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। তাঁর এক ভাই ফাজিল প্রথম বর্ষে এবং এক বোন দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

২০১৬ সালের ১৯ জুলাই বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। বসতভিটার চার শতক জমি ছাড়া তাঁদের কোনো স্থায়ী সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই। সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে বই, কলেজ ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ কিনতে না পারায় রিয়ার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরএম শাখার অফিস সহায়ক নিলুফার ইয়াসমিন কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন কন্যা ও এক পুত্রের দায়িত্ব তাঁর ওপর।

তিনি চট্টগ্রামের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. বাসকর চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও ব্যয়বহুল ওষুধের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় গিয়ে পিইটি স্ক্যান করাতে হবে। চিকিৎসা সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। তাঁর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ আবু কাউছারের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়। চিকিৎসায় সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে কোনো কাজ পাননি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে দৈনন্দিন খরচ কিংবা বাড়ি ফেরার অর্থও ছিল না। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তাঁকে দিনাজপুরে ফেরার প্রয়োজনীয় গাড়িভাড়া দেওয়া হয়।

একই দিন জেলা প্রশাসক প্রবাসীদের অভিযোগ নিয়ে অনলাইন গণশুনানিও করেন। এতে এক প্রবাসী পারিবারিক জমিজমার বিরোধ ও সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ তুলে ধরেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি এখন শুধু আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নেই। সমস্যা সরাসরি শোনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি অসহায় মানুষের নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

কেউ ফিরেছেন চিকিৎসার অর্থ নিয়ে, কেউ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস নিয়ে, কেউ ঘর পুনর্নির্মাণের আশা নিয়ে, আবার কেউ বাড়ি ফেরার ভাড়া হাতে নিয়ে। সহায়তার অঙ্ক হয়তো তাঁদের সব সংকট দূর করবে না; তবে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাঁদের মনে এই বিশ্বাস ফিরিয়েছে—রাষ্ট্রের দরজা এখনো তাঁদের জন্য খোলা।