খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জন-দূর্ভোগ লাঘবে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
জন-দূর্ভোগ লাঘবে চসিকের পাশাপাশি নগরবাসীরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে:সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগরীতে যেখানে নাগরিক দুর্ভোগ ও বেসামাল অবস্থা দৃশ্যমান সেগুলোর যথাসম্ভব তাৎক্ষণিক সমাধানে চলমান এ্যাকশন বিরতিহীনভাবে চলবে। চসিক যেখানে সড়ক মেরামত, খানাখন্দ ভরাট, পরিচ্ছন্নতা ও সড়কবাতির কাজগুলো করেছে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন ও পরিচর্যায় সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জনবলের পাশাপাশি নগরবাসীরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি পরিদর্শনকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এখনো দেখছি বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে আছে। যে খানা-খন্দগুলো মেরামত করা হয়েছে সেগুলোও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে এবং সড়কে ও ফুটপাতে বেঁধে দেয়া টাইমফ্রেম ও নিয়ম-নীতি কিছুই যথাযথভাবে মানছে না।

তিনি হকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষের চলাচলের পথে কাঁটা হবেন না। মানুষের চলাচলের পথ সুগম করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি কোনভাবেই পূনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের পক্ষে নই। তবে মানুষের চলাচলের পথে কোন প্রতিবন্ধকতা সহ্য করা হবে না।

তিনি আজ মাঝিরঘাট স্ট্যান্ড রোড, নিউমার্কেট মোড়,ষ্টেশনরোড, রেলওয়ে কভারস্টোর ফলমুন্ডি বাজার, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন জায়গায় হকার,ফুটপাত,বাজার,রাস্তা,অলস পার্কিং সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, অনেক সড়কে নিষেধ সত্বেও হকাররা চৌকি বসিয়ে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী স্থাপনা ও ছাউনী বানিয়ে রেখেছে। রাস্তার যানবাহন ও পথচারী চলাচলের অংশেও তারা ব্যবসা-পাতির পসরা সাজিয়েছেন। ফুটপাতের জায়গায় চলাচলের পথে বড় বড় চৌকি বসিয়েছে- এ আচরণ সহ্যের সীমানা অতিক্রম করেছে। হকারদেরকে আরো স্পষ্ট করে বলেন রাস্তার উপর তাদের নির্মাণ করা স্থাপনা ও চকিগুলো সরিয়ে না ফেললে ওগুলোকে জব্দ করে নিলামে তোলা হবে। কারণ হকার নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আমি যে ছাড়গুলো দিয়েছি তা কেউ যদি দুর্বলতা মনে করেন তাহলে তাদের জন্য কঠোর দণ্ড অপেক্ষা করছে। ষ্টেশন রোডের নুপুর মার্কেটের সামনে দৃষ্টিকটু ও শহরের সৌন্দর্যহানিকর পাবলিক টয়লেটটির নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা এবং চসিক প্রদত্ত নকশানুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা তা অফিসে এসে দেখানোর নির্দেশ দেন প্রশাসক।

তিনি ফলমুন্ডি বাজারের দোকান-পাটের মালিক ও মালামাল বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলতে পারবেন না। এ জন্য প্রতি দোকানকে ৪টি করে পলি ব্যাগ দেয়া হবে। এই ব্যাগে আবর্জনা ভর্তি করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে আসতে হবে। সেখান থেকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা গাড়িতে তুলে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ডাম্পারে নিয়ে ফেলবে। প্রশাসক ফল বিক্রেতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে নর্দমায় ময়লা ও পঁচা ফলের ভাগাড় দেখতে পেয়ে তা অপসানের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এহেন কাজের জন্য আগামীকাল থেকে চসিকের হেলথ্ ইন্সপেক্টর দ্বারা তদারকি ও জরিমানা করা হবে। প্রশাসক মাঝিরঘাট স্ট্যান্ড রোডে দায়িত্বরত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে ওয়ার্কপ্লান অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আগামী সপ্তাহে কি কাজ করবেন এবং পরবর্তী ১৫ দিনে কি কাজ করবেন তার কর্মপরিকল্পনা পূর্বথেকে নির্ধারণ করে ডিসি ফুডের সাথে সমন্বয় পূর্বক কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, রাস্তার কোন অংশেই কোন ধরণের নির্মাণ সামগ্রী রাখা যাবে না। ফুটপাত বা নালা-নর্দমার ওপর স্ল্যাব বসিয়ে দোকান-পাটের আয়তন বাড়ানো চলবে না। যে সমস্ত এলাকা ধুলিময় হয়ে উঠেছে সে সমস্ত রাস্তার দু’পাশে দুই বেলা পানি ছিটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সদরঘাট রোডে অবস্থিত রাস্তার পাশে কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারটিকে নিয়মনীতি অনুসরণের তাগাদা দিয়ে বলেন মূল রাস্তায় বাজার বসানো যাবে না।

এবিষয়ে বাজার সংশ্লিস্টদেরকে আগামীকাল প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করে এর দিক নির্দেশনা গ্রহণের পরামর্শ দেন। চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় মার্কেটের মুখে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে জনসাধারনের চলাচলের পথ সংকুচিত করার দৃশ্য দেখে প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামীকালের মধ্যে হাটাচলার পথ থেকে সমস্ত পণ্য সরিয়ে ফেলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মার্কেটটি একসময় সিডিএ’র গোডাউন ছিলো। পরে সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলে নির্মিত শপিং মলটিতে চলাফেরার রাস্তা,মাঝখানে পার্কিংপ্লেস ও আলো-বাতাস চলাচলের জন্য উম্মুক্ত জায়গা রাখলেও এখন সেখানে দোকান তৈরী করা হয়েছে। ফলে শপিং মলটি ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে। এসব কাঠামো ভেঙ্গে ফেলতে হবে।

পরিদর্শনকালে প্রশাসকের এমন যুগোপযোগি পদক্ষেপ ও মাঠে সরব থাকার বিষয়টিকে উপস্থিত জনসাধারণ সাধুবাদ জানান এবং এই কার্যক্রম চলমান রাখার অনুরোধ জানান। প্রশাসক তাঁর কর্মকাল মানুষের সেবা প্রদান ও দু:খ দুর্দশা লাঘবে উৎসর্গ করবেন বলে মত প্রকাশ করেন।

চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ফলমুন্ডি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, হোসেন শহীদ সরওয়ারদী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, সহকারী প্রকৌশলী আশিক উল ইসলাম, মজিবুল হায়দার, উপসহকারী প্রকৌশলী নুর সোলায়মান, চন্দন দাশ উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতকালে প্রশাসক সুজন
নগরীর সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নে
বিজিএমইএ-কে এগিয়ে আসতে হবে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, করোনাকালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের শীর্ষতম উৎস তৈরী পোষাক রফতানী শিল্পখাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থবিরতা প্রকটতর হওয়ার আশঙ্কা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই খাতে সর্বাধিক প্রণোদনা প্রদান ও ঋণ সহায়তা বরাদ্দ দেন বিধায় এই খাতটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে রফতানী আয়ের সূচকে গতিশীলতা বিদ্যমান রয়েছে। তাই মনে রাখতে হবে যে-কোন প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মত শক্তি- সামর্থ্য ক্ষমতা ও কর্মপরিকল্পনা সরকারের আছে। রফতানীমুখী শিল্পের সমস্যা আছে আবার সমাধানও আছে। শ্রমিক-কর্মচারী-মালিক ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টাই যে-কোন সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়।

তিনি আজ দুপুরে টাইগারপাসস্থ চসিক ভবনে বিজিএমইএ’র এক প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতকালে একথা গুলো বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দর নগরী। সারাদেশের তৈরী পোষাক রফতানী শিল্পের পণ্য পরিবহনগুলো চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তা-ঘাট ও সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোর উপর আসা-যাওয়া করে। এ কারণে চট্টগ্রামের রাস্তা-ঘাট ও সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নে আবশ্যিক অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় বিজিএমইএ-কে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, অনেক সময় দেখা যায় বেতন-ভাতা-বোনাসের দাবীতে গার্মেন্টেস শ্রমিকেরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হন। তারা সড়ক অবরোধ করেন এবং এতে দুঃসহ নাগরিক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তাই শ্রমিক-কর্মচারীরা যাতে রাস্তায় নামতে বাধ্য না হন সেদিকে মালিক কর্র্তপক্ষকে অবশ্যই দৃষ্টি রাখতে হবে।

তিনি বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দকে পোষাক শিল্পখাতে প্রসার ও উন্নয়ন চসিকের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, বিজিএমইএ চট্টগ্রাম এর প্রথম সহ সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন, অঞ্জন শেখর দাশ, এনামুল আজিজ চৌধুরী, মোহাম্মদ আতিক, আব্দুল আজিজ চৌধুরী প্রমূখ।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন অফিসে প্রণব মূখার্জির শোক বহিতে চসিক প্রশাসকের স্বাক্ষর

আজ সকালে চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার কার্যালয়ে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রাগ্য রাজনীতিক সদ্য প্রয়াত প্রণব মুখার্জীর শোক বইতে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

এ সময় তিনি স্থাপিত প্রয়াত প্রণব মুখার্জীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও দাঁড়িয়ে প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।

স্বাক্ষর শেষে আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে পরস্পর কুশল বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ভারতের সাথে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সম্পর্কে দু’দেশের জনগণের জন্য মঙ্গল আনবে বলে মন্তব্য করে বলেন, এই মৈত্রির বন্ধনকে সুদৃঢ় করে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ককে অধিকতর গতিশীল করার কুটনৈতিক প্রয়াস অব্যাহত থাকাটা আজ সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রণিধানযোগ্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ট্রানজিস্ট সুবিধায় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং নেপাল ও ভুটানে নৌ,সড়ক ও রেলপথে আমদানি রপ্তানি পণ্য পরিবহনে যে সময় ও আর্থিক সাশ্রয় হবে এতে বাংলাদেশ-ভারত -নেপাল-ভুটানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চসিক প্রশাসকের নিকট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করলেন চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া গৃহকর বাবদ চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের নিকট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ পরিচালক ডাঃ আফতাবুল ইসলাম।

এসময় সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চমেক হিবাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান, চসিক এস্টেট অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী, উপ-কর কর্মকর্তা আবদুল মজিদ উপস্থিত ছিলেন।

চেক হস্তান্তরকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বলেন, করোনাকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনেক অবদান রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে এই হাসপাতালটি সাধারণ ও মূমুর্ষ রোগীদের যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তা অতুলনীয়।

তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সেবার মান আরো উন্নত করার এবং দালালদের দৌরাত্ব বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রশাসক চট্টগ্রামে আরো কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন।

চসিক প্রশাসকের সাথে সোলায়মান শেঠের সাক্ষাৎ
৩০টি পাবলিক স্পেসে সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে বিশিষ্ট রাজনীতিক, ব্যবাসায়ী শেঠ প্রপাটিসের সত্ত্বাধিকারী সোলায়মান শেঠ এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

আজ দুপুরে নগরীর টাইগাপাসস্থ চসিক ভবনে প্রশাসকের দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতকালে জনাব সোলায়মান শেঠ নগরীর ৩০টি পাবলিক স্পেসে নিজ উদ্যোগে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার আগ্রহ প্রকাশ করে জানান যে, নাগরিকদের নিত্য চলাফেরায় স্বাস্থ্য সম্মত সুপেয় পানির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পাবলিক স্পেসে তৃষ্ণা নিবারণে পথচারী, হকার, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কোন সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানবিক সেবা প্রদানের আমি আগ্রহী।

প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন সোলায়মান শেঠের এই আগ্রহে সাড়া দিয়ে বলেন, নগরীর পথচলাচলরত ব্যস্ত মানুষের পানির তৃষ্ণা মেটাতে এই উদ্যোগ একটি শুভ প্রয়াস। সমাজের সচল ও সামর্থ্যবান মানুষেরা এই ধরণের মানবিক কর্তব্য পালনে এগিয়ে এলে নগরবাসী উপকৃত হবেন এবং নাগরিক জীবন-যাপনও স্বস্থিদায়ক হবে।

তিনি সোলায়মান শেঠকে এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’