খুঁজুন
, ,

ওয়াসায় বৈঠক:সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে সমন্বিত উদ্যোগের কোন বিকল্প নেই-সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2020, 5:47 pm
ওয়াসায় বৈঠক:সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে সমন্বিত উদ্যোগের কোন বিকল্প নেই-সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগরীতে ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নে রোড কাটিংয়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন না হওয়ায় নাগরিক দূর্ভোগ বাড়ছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের সাথে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আজ দামপাড়াস্থ ওয়াসা ভবনে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম ফজলুল্লাহ’র সাথে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, যেখানে সড়ক উন্নয়নকাজ চলমান সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পের রোড কাটিং কাজ করে সড়কগুলোকে যান চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। যেসকল সড়কে চসিকের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে সেখানে রাস্তা কর্তন বিষয়ে আগেভাগে দুই কর্র্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সমন্বিত কর্মপন্থা প্রণয়ন করতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে এ ধরনের উদ্যোগের কোন বিকল্প নেই।

এসময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক(প্রশাসন) তাহেরা ফেরদৌস, সচিব শারমিন আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, উপ সচিব নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

চসিক প্রশাসকের বিবৃতি
শুন্য কাউন্সিলর পদে সমন্বয়ক বা প্রতিনিধি হিসেবে কাউকেই নিয়োগ দেয়া হয়নি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১ ওয়ার্ডে শুন্য কাউন্সিলর পদে সমন্বয়ক বা প্রতিনিধি হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেয়া না হলেও এ-নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহেতুক বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানোয় প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমে প্রদত্ত বক্তব্যে বলেছেন, কোন ওয়ার্ডে সমন্বয়ক বা প্রতিনিধি হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত পরিষদ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার এ্যাক্ট (সিটি কর্পোরেশন-২০০৯) অনুযায়ী কাউন্সিলর পদটি এখন শুন্য। এই পদে থেকে মেয়াদকালীন সময়ে কাউন্সিলর যে কাজগুলো বিশেষ করে ওয়ারিশান, জাতীয়তা সনদপত্র,জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদপত্র প্রদান করতেন তা প্রাপ্তিতে ওয়ার্ড সচিবদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই কাজে তাঁদেরকে স্থানীয় অভিজ্ঞ ও মুরুব্বীদের সহায়তা গ্রহণেরও পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

সর্বোপরি চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলমকে ১ থেকে ১৪ নং ওয়ার্ড, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়াকে ১৫ থেকে ২৮ নং ওয়ার্ড ও সচিব আবু শাহেদ চৌধুরীকে ২৯ থেকে ৪১ নং ওয়ার্ডের কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ওয়ারিশ সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক ওয়ারিশ চিহ্নিতকরণে কয়েকজন মুরব্বী, শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা গ্রহণের জন্য ওয়ার্ড সচিবগণকে বলা হয়েছে। তাদের কোনভাবেই ওয়ার্ড অফিসে এসে কোন ধরণের কার্যক্রমে সংযুক্ত হতে বলা হয়নি। এ ধরণের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ অসত্য ও কল্পনাপ্রসূত।

যারা এসব করছেন তাদের এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, নগরবাসী যাতে এধরনের কোন গুজবে কান দেয়া থেকে বিরত থাকেন। ওয়ার্ড অফিসের কোন কার্যক্রমে সরাসরি ওয়ার্ড সচিবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এতে কোন প্রকার জনভোগান্তি কিংবা অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমার ফেইজবুক পেজ কিংবা দাপ্তরিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ রইল। স্ব-প্রণোদিত হয়ে যারা এসব গুজব রটাচ্ছেন তারা যেন এহেন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকেন নচেৎ তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

নগরবাসীর গণসাক্ষাতকার গ্রহণকালে প্রশাসক সুজন
জবাবদিহিতা প্রদানের বাধ্যবাধকতা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানটি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে এবং যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হয় তার প্রতিটি কানাকড়ির হিসাব জনগণের কাছে জবাবদিহিতা প্রদানে শতভাগ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই জবাবদিহিতা প্রদানের দায়বদ্ধতা থেকে নাগরিকদের অভাবÑঅভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে আজ (সোমবার) থেকে গণ সাক্ষাতকার গ্রহণের ধারাবাহিক কার্যক্রম শুরু হলো। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে হলো নগরবাসীর অভিযোগ ও সমস্যাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি,স্বচ্ছতা আনায়ন এবং নগরবাসীর মাঝে আস্থা ও নির্ভরতার ভিত্তিতে প্রোথিত করা।

তিনি আজ সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চসিক পুরাতন নগর ভবনে অনুষ্ঠিত গণসাক্ষাতকার গ্রহণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথাগুলো বলেছেন।

তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন এবং বলেন, চট্টল দরদী এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পথ ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। নির্দ্দিষ্ট বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে যতটুকু সম্ভব নগরবসীর দূর্ভোগ লাঘবে আমি প্রতিদিন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথাগুলো শুনে তার দ্রুত সমাধানের জন্য আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। আমার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি নগরবাসীর হৃদয়মনের কাছাকাছি পৌঁছে তাদের চাওয়া পাওয়া এবং অপূর্ণ আকাঙ্খাগুলো জানা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোন কোন ক্ষেত্রে অনিয়ম অস্বচ্ছতা গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনাগত শৃংখলার অভাব রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে সেবাখাতগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

তাই আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে, নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকা আমাদের বেতন-ভাতা গ্রহণ এবং সকল ব্যয় নির্বাহের প্রধান উৎস। তাই প্রতিটি কানাকড়ি হিসেব-নিকেশের জবাবদিহিতা নগরবাসীর কাছে প্রদানের নৈতিকতাকে অবশ্যই অন্তরে ধারন করতে হবে। কোন ক্ষেত্রেই যেন তিল পরিমাণ নয়-ছয় না হয়। স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও তিল পরিমান বিভ্রম ও বিচ্যুতিকে ছাড় দেয়া যাবে না।

তিনি আজকের গণস্বাক্ষাতকারে যারা বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথাগুলো জানিয়েছেন সেগুলোকে আমলে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করে বলেন, আপনাদের অভাব-অভিযোগুলো যাচাই-বাছাই করে এবং এগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ-কেউ এও বলেছেন যে, চাকুরী দেয়ার নাম করে নিকট অতীতে কোন কোন ব্যক্তি টাকা-পয়সা নিয়েছেন। এতে তারা প্রতারিত হয়েছেন। এ অভিযোগটি দু:খজনক। আমি এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল আর্থিক লেনদেন, মোট জনবলের বেতন-ভাতা প্রদানসহ আর্থিক আদান প্রদানের অনলাইন ওয়ান ব্যাংকের সাথে অনলাইন ব্যবস্থাপনার যে চুক্তিটি হয়েছে তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় যেসকল সমস্যা আছে তা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরো জানান যে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যেসকল ঠিকাদার এবং অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের পাওনার অংক এখনে অদেয় আছে সেগুলো পরিশোধে সরকারের সাথে দেন-দরবার করে পরিশোধ করা হবে বলে প্রশাসক আশ্বস্থ করেন। আজকের গণস্বাক্ষাতকারে প্রায় ২০টি অভিযোগ আমলে নেয়া হয়।

এসময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম সহ সংশ্লিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

 

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:28 pm
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।