খুঁজুন
, ,

“ক্যারাভান” কর্মসূচী কর্মযজ্ঞ উৎসবে পরিণত হয়েছে : চসিক প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 2 September, 2020, 7:41 pm
“ক্যারাভান” কর্মসূচী কর্মযজ্ঞ উৎসবে পরিণত হয়েছে : চসিক প্রশাসক

চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজনের গৃহিত “ক্যারাভান” কর্মসূচী কর্মযজ্ঞ উৎসবে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয় বারের মত আজকের ক্যারাভান কার্যক্রম ফিরিঙ্গীবাজার কবি কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, সদরঘাট রোড, মাঝিরঘাট হয়ে রশিদ বিল্ডিং মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এসময় শত শত উৎসুক জনতা প্রশাসককে অভ্যর্থনা জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় প্রশাসক দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে ষ্ট্যান্ড রোড উন্নয়নকাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

ষ্ট্যান্ড রোডের কাজটি ১৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় জাইকার অর্থায়নে সম্পাদন করা হচ্ছে। প্রশাসক আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কাজের গুনগতমান ঠিক রেখে জনদূর্ভোগ লাঘব করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘদিন যাবৎ ষ্ট্যান্ড রোডটি অবহেলিত ও জন দূর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। এসব অযাচিত দূর্দশার জন্য প্রশাসক নগরবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করেন এবং ধৈর্য্য ধারনের আহবান জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর যে-সকল সড়ক ও মহাসড়ক সরাসরি বন্দরের আমদানী রপ্তানী পণ্য পরিবহনের সাথে যুক্ত সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে বন্দর কর্তৃপক্ষের অংশীদারীত্ব ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, মহানগরীর সড়ক যোগাযোগ কাঠামোর বন্দরের সাথে যুক্ত সড়কগুলোতে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এগুলোর বেহাল অবস্থা ফুটে ওঠে। ফলে এ সময় রাস্তাগুলো যানবাহন চলাচল তো বটেই, সাধারণ মানুষের চলাফেরা করাটাও দুরুহ হয়ে পড়ে।

তিনি আজ অপরাহ্নে ফিরিঙ্গীবাজার থেকে স্ট্যান্ড রোড পর্যন্ত চসিকের প্রকৌশল বিভাগ ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টিম নিয়ে নগর সেবায় ক্যারাভান কর্মসূচী পরিদর্শন ও তদারকীকালে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে এ কথাগুলো বলেন।

তিনি আরো বলেন, কর্ণফুলীর নদী তীরবর্তী সদরঘাট থেকে বারেক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত স্ট্যান্ড রোডটি প্রাচীনতম। অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন টার্মিনাল, পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত পদ্মা’র প্রধান কার্যালয়, লবণ গুদাম, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ অসংখ্য বেসরকারী পণ্য পরিবহনের অনেকগুলো অফিস থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য ভারী যানবাহন এই ঘাটসড়ক দিয়ে বন্দর ও সারাদেশ পর্যন্ত চলাচল করে। এ ছাড়াও সাধারণ গণপরিবহন ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ছোট-মাঝারী-বড় আকারের গাড়ি নিত্য চলাচল এই সড়ক দিয়েই। মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের চাপ ধারণের মত ক্ষমতা না থাকায় সড়কটি প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যততত্র খানা-খন্দ গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে এবং এতে পানি জমছে, এছাড়াও আছে এখানে-সেখানে আবর্জনার ভাগাড়।

তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, এই সড়কটি প্রতিমুহুত্বই যানবাহন চলাচলে ঝুকিপূর্ণ এবং প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। চসিকের তত্ত্বাবধানে এই সড়কটির উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব জাইকার দুই স্তরে উন্নয়নের কাজ ভাগ করে কাজ শুরু হলেও ওয়াসা সহ অন্যান্য সংস্থার প্রকল্পের কাজ একই সাথে চলায় রাস্তার কাজের গতিতে ছন্দপতন ঘটছে। ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। তবে অবস্থা ও বর্তমান প্রেক্ষিত যা-ই হোক না কেন পরিস্থিতি আগে সামাল দিতে হবে। কারণ নগরবাসীদের কাছে জবাবদিহিতার দায় আছে বলেই চসিকের মাথা ব্যথাও বেশি।

তিনি আরো বলেন, রাস্তার দৃশ্যমান করুণাবস্থা, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক বাতি এবং অপরিচ্ছনাতা দূরীকরণ ও নিরসনে চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে- এ ক্ষেত্রে তিল পরিমাণ গাফিলতি, অসমতা ও দায়িত্বপালনে অনীহার অবকাশ নেই। প্রশাসক হিসেবে যে-সময়ের জন্য দায়িত্ব থাকিনা কেন লক্ষ্য একটাই-এই নগরীকে সকল সামর্থ্য উজার করে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা।

এসময় প্রশাসক স্থানীয় জনসাধারণের সাথে চলমান সমস্যা,সমাধান ও পরামর্শমূলক আলাপ করেন। স্থানীয়রা বর্জ পরিস্কার,অবৈধ পাকিং,ফুটপাত দখল ও রাস্তা সংস্কারের অনুরোধ জানালে প্রশাসক তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মাঝিরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত ষ্ট্যান্ড রোড উন্নয়ন কাজের উদ্ভোধন করে প্রশাসক কাজের গুনগত মান বজিয়ে রেখে দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করতে সকল কে সহযোগিতার আহবান জানান। কবি নজরুল ইসলাম সড়কটির ও সংস্কার কাজ গুরুত্ব সহকারে দ্রুততার সহিত সম্পাদন করারজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

এসময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের বন পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী,৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি স্বপন কুমার মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হোসেন বাচ্চু, আব্দুর রহমান, জহির আহমদ চৌধুরী, মাহবুবুল হক সুমন, ফরহান আহমেদ, কাউন্সিলর প্রার্থী পুলক খাস্তগীর, মাঈনুল হক লিমন, খলিলুর রহমান নাহিদ, কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সালাম মাসুম, শওকত হোসেন মুন্না, মো. আলমগীর, কাঞ্চন চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসাইন, এনামুল হক মিলন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর নীলু নাগ, চসিক প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরহাদুল আলম, সহকারী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম চৌধুরী,মিসবাহ উল আলম, উপসহকারী প্রকৌশলী তানজিম ভুঁইয়া, তসলিমা ইসলাম, বিপ্লব দাশ, মাসুদুর রহমান মাসুদ, কামরুল হক, জানে আলম, মো. নাছির উদ্দিন, ডা. সজীব তালুকদার, আজিজুর রহমান আজিজ, মো. সাইফুল্লাহ আনছারী, রকিবুল আলম সাজ্জী, রাজীব হাসান রাজন, আশিকুন্নবী চৌধুরী, মো. নোমান চৌধুরী, ইরফানুল আলম জিকু, উপস্থিত ছিলেন। যাত্রাপথে প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন নগরীর ফিরিঙ্গীবাজার, আলকরন এবং মাদারবাড়ী ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

চসিক প্রশাসকের সাথে এডোটকো বাংলাদেশ কোম্পানী লি. কর্মকর্তাদের সাক্ষাত
নগরীতে ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই স্থাপনের আহ্বান সুজনের

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, করোনা মহামারী কালে মোবাইল অপারেটর কোম্পানীগুলো নিম্পৃহ ভূমিকা আমাদের আহত করেছে। আপনারা এমন কিছু করেন যাতে নগরবাসী উপকৃত হয়।

তিনি নগরীতে স্মার্ট ল্যাম্প পোল, স্মার্ট বিন, ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবস্থার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে নগরবাসীর সেবায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

প্রশাসক বলেন, চসিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। এ ক্ষেত্রে আপনাদের সেবা ও ব্যবসায়ের সুযোগ করে দিতে চসিক আগ্রহী।

আজ বুধবার দুপুরে টাইগারপাসস্থ চসিক প্রশাসক দপ্তরে রবি আজিয়াটার সহযোগী প্রতিষ্ঠান এডোটকো বাংলাদেশ কোম্পানী লি. এর কর্মকর্তাবৃন্দ সাক্ষাত করতে এলে প্রশাসক এসব কথা বলেন।

স্মার্ট ল্যাম্প পোল ও ফ্রি ওয়াইফাই দ্বারা জনগণের স্বাস্থের কোন ক্ষতি হবে কিনা জানতে চাইলে এডোটকোর প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর জেনারেল ম্যানেজার রেভেন দেওয়ান বলেন, বিটিসিএল আনবিক শক্তি কমিশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছে। বলেছেন এতে জনস্বার্থের কোন ক্ষতি হবে না।

চট্টগ্রাম নগরীতে টাওয়ার, পাওয়ার এবং স্পেস এর বিষয়ে চসিকের অনুমতি চাইলে প্রশাসক তাদের লিখিতভাবে সকল ডকুমেন্ট সহ প্রস্তাব দেয়ার পরামর্শ দেন। জনস্বার্থে আঘাত আসে এ রকম কোন কার্যক্রমের পক্ষে আমি নই।

এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি এ কে এম রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ঝুলন কুমার দাশ, রবি’র রিজিয়নাল অপারেশন জেনারেল ম্যানেজার মো. নাজিবুল হক চৌধুরী, ম্যানেজার মো. তৈয়মুর ইসলাম ও স্টেইকহোল্ডার ম্যানেজার মো. খুরশিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 8:34 pm
চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা

চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অজস্র পরিবার।

এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মানবিক ও কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন তার নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা জানান।

মাহাদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।

একইসঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০ উদ্যোগ

১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গত মানুষদের কাছে দ্রুততম সময়ে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬. ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের প্লাবিত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান, দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানানো এবং ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মাহাদী আমিন।

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 8:22 pm
শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজ একটা ইন্টারভিউ আমরা দেখেছি, যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। আমাদের দাবি থাকবে, দেশ তো অলরেডি ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।’

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবে, তিনি কাদের নিয়ে আসবেন, তিনি সারেন্ডার করবেন কি করবেন না। এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাকে আনতে হবে।

বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরেও, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।
নাহিদ ইসলাম, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু পারমিট করা হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না? এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।

জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।’

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, না উদ্যোক্তাগণ বক্তব্য প্রদান করেন।

রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ পেলেন মেয়রের ত্রাণ সামগ্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 8:16 pm
রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ পেলেন মেয়রের ত্রাণ সামগ্রী

চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচলাইশ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়কের ওয়াজেদিয়া, বোর্ড অফিস, চালিতাতলী বাজার, হাজীপাড়া, বেলতলা, শহীদনগর সহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত হাজারো মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পর থেকে সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দশ হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা বসে থাকিনি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করেছি। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কোথায় পানি আটকে আছে, কীভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়, এসব বিষয়ে একযোগে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, খাল ও নালা সচল রাখা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মাসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের নির্দেশনা গ্রহণ করেন।

এসময় মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এর আগে তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে পানিবন্দী মানুষের খোঁজখবর নিতে চান্দগাঁও ওয়ার্ডের হাজীরপুল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক এবং শমসেরপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি প্রায় এক হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে তারা কোথায় কী কারণে পানি আটকে আছে, পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক জি এম আইয়ুব খান, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জসিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, পাঁচলাইশ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল আলম, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আবু, সদস্য সচিব সোলায়মান বাদশা, বিএনপি নেতা মোরশেদুল আলম, লিয়াকত আলী জসিম, মোহাম্মদ ইসমাইলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।