খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হলে নতুন করে কাজ শুরু হবে:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হলে নতুন করে কাজ শুরু হবে:সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আনন্দিপুর সড়কে নিম্নমানের ইট পাথর সহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে সড়কের মেকাডম কাজ হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ বিকাল ৪ টায় তা আকষ্মিক পরিদর্শন করেন এবং ঢালাই কাজের ব্যবহৃত ইট পাথর ও নির্মাণ সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে তা যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সড়কের এই অংশটি থেকে সংস্কার করা কাজ আবার নতুন করে শুরু হবে বলে তিনি জানান।

তিনি এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সড়কের কাজের গুণগতমান ঠিক-ঠাকভাবে বজায় রাখা হচ্ছে কিনা তা দেখভালের দায়িত্ব চসিকের পাশাপাশি এলাকাবাসীরও। যেহেতু এই সড়ক আপনারাই ব্যবহার করবেন এবং আপনাদের প্রদেয় ট্যাক্সেই অর্থায়ন সেহেতু কাজ ষোলআনা বুঝে নিবেন। সড়ক সংস্কার ও নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম বা নয়-ছয় হচ্ছে কিনা তা অবগত হওয়ার সাথে সাথে আমাকে জানান দ্রুত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে-ইনশাল্লাহ্।

তিনি ধারাবাহিক তদারকির অংশ হিসেবে পোর্ট কানেকটিং রোডের উন্নয়ন কাজ দেখতে গিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সারা দেশের সড়ক পথে আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহণের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে এই সড়কটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় চট্টগ্রামের বন্দর রক্ষণা-বেক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট সড়ক অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও পরিচর্যার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা পূর্বের চেয়ে ৬ ধাপ এগিয়েছে। এতে গুরুত্বের সাথে ভূমিকা রেখে চলেছে পিসি রোড। তাই আমি দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে পিসি রোডের বিদ্যমান বেহাল অবস্থা নিরসনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকি থাকলে যে কোন কঠিন কাজ সু-সম্পন্ন করা সম্ভব। এর উদাহরণ হচ্ছে পোর্ট কানেকটিং রোড। প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন আজ বিকেলে সাগরিকা থেকে নিমতলা পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং রোড সরেজমিনে পরিদর্শন এবং নাগরিকদের সাথে বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে তিনি সড়কের দুইপাশে সকল অবৈধ স্থাপনা দোকান-পাট, ফুটপাতের উপর রাখা নির্মাণ সামগ্রী এবং এই সড়কের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান ট্রাক-লরি-কাভার্ডভ্যান -মুভার ও রিকশা ষ্ট্যান্ডগুলো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তা না হলে এসব উচ্ছেদে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হবে। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন যে কোন মূল্যে জন ও যান চলাচলের সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হবে।

এছাড়া পোর্ট কলোনী অংশ থেকে নিমতলা পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশ দখল করে লরি, ট্রাক, কাভারভ্যানগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। নচেৎ জরিমানার মাধ্যমে রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।

প্রশাসক পিসি রোডের দু’পাশের এলাকাবাসীকে ধৈর্য্য ধারণের আহবান জানিয়ে বলেন, পোর্ট কানেকটিং রোডের সংস্কার ও নির্মাণকাজ এখন অনেকটা দৃশ্যমান, আশা করা যায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

তিনি বড়পুল মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষ্কর্যটি রক্ষণা-বেক্ষণ এবং তার আশে পাশে কোন ধরনের পরিবহন স্ট্যান্ড বা অবৈধ স্থাপনা বসিয়ে এর সৌন্দর্য ও পবিত্রতাহানী না করার পরামর্শ দেন।

তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে আরো আবেদন জানান যে, সিটি কর্পোরেশনের যে সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান দ্বারা জবর-দখল হয়ে আছে সে সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হলে এই সম্পত্তিগুলো অবশ্যই অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কৃত করা হবে।

এ সময় তিনি আরো উল্লেখ করেন করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে করোনার স্থায়ী কোন প্রতিষেধক এখনো আবিস্কৃত না হওয়ায় বিপদের ঝুঁকি রয়েই গেছে। তাই সামাজিক সচেতনতা ও দূরত্ব রক্ষা করে জীবন-যাপণের ক্ষেত্রে কোন প্রকার ঢিলেমি দেয়া সমীচিন নয়।

তিনি সতর্ক করিয়ে দেন যে, ঘর থেকে বের হলে মুখে মাক্স পরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং হ্যান্ড সেনিটাইজারও সাথে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের শিথিলতা না করে পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

এ সময় তিনি পথচারী, পরিবহণ চালক ও যাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে মাক্স বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে মুক্তিযোদ্ধা হারেছ আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর এস. এম.এরশাদ উল্লাহ, হাজী মো. ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান, নিজাম উদ্দিনসহ চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।