খুঁজুন
, ,

রামগড়ের পৌর মেয়র রিপনের বিরুদ্ধে মসজিদের কোটি টাকা কুক্ষিগত করার অভিযোগ দুই সহোদরের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 7 October, 2020, 11:58 pm
রামগড়ের পৌর মেয়র রিপনের বিরুদ্ধে মসজিদের কোটি টাকা কুক্ষিগত করার অভিযোগ দুই সহোদরের

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি : রামগড় পৌরসভার মেয়র কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান রিপনের বিরুদ্ধে সোনাইপুল মসজিদের কমিটি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই আপন দুই সহোদর।

গত মঙ্গলবার মসজিদের সাধারণ সভায় এসব অভিযোগ করেন মসজিদের ভূমিদাতা (মেয়র ও অভিযোগকারীদের পিতা) সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী রুহুল আমিনের ছেলে কাজী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইসলাম শাহেদ এবং কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুল।

আছরের নামাজের পর এলাকার সকল মুসল্লী,গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী শাহাজান রিপন, সাধারণ সম্পাদক রবি মজুমদার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাহার উল্লাহ মজুমদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহ, জসীম চৌধুরী এবং সোনাইপুল বাজার কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম সাহেদ।

সাধারণ সভায় দীর্ঘদিন ধরে কমিটি আটকিয়ে রেখে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন কমিটির সভাপতি পৌর মেয়র ও মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহাজাহান রিপন বলেন, তাঁর সময়েই মসজিদের জায়গা বৃদ্ধির জন্য দশ শতক জায়গা কেনা হয়েছে এবং মসজিদে আধুনিক শীততাপ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। রামগড় স্থল বন্দরের ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।

মসজিদ কমিটির সভাপতির বক্তব্যের বিরোধীতা করে তাঁর ভাই কাজী শাহরিয়ার ইসলাম শাহেদ বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কমিটি আটকিয়ে রেখে উন্নয়ন মূলক কাজের নামে নানা রকম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে কমিটির সভাপতি। এই ১৪ বছরে একবারের জন্যও মসজিদের আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব দেননি। স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে মসজিদের জায়গা ক্রয় এবং শীততাপ যন্ত্র লাগানোর নাম করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন কমিটির নির্বাচন না হওয়ায় মসজিদের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে গেছে বলে জানান।

তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, স্থল বন্দরের জন্য মসজিদের জায়গার ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই কোটি বাষট্টি লক্ষ টাকা বর্তমান সভাপতির অধীনে নিয়ে আসলে সেটি তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর (মেয়র) পৌর নির্বাচনের খরচের জন্য ব্যবহার করবেন বলে অভিযোগ করেন কাজী শাহরিয়ার।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত অভিযোগে কাজী শাহরিয়ার ইসলাম শাহেদ ও কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুল উল্লেখ করেন, মসজিদের জন্য তাঁদের পিতার দানকৃত জায়গার পঁয়ত্রিশ শতক ভূমি রামগড় উপজেলা এক্সেস লোড স্টেশন কন্ট্রোলার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পড়েছে। জায়গা বাবদ তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যে ক্ষতিপূরণ পাবেন তা বর্তমান সভাপতির হাতে তুলে না দিয়ে সমাজের গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে মসজিদ ফান্ডে দান করবেন।

লিখিত অভিযোগে শাহেদ তাঁর বড় ভাই পৌর মেয়র ও মসজিদ কমিটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শাহাজাহান রিপন ও তাঁর অপর ভাই জিয়াউল হক শিপনের বিরুদ্ধে তাঁর পিতার জায়গা বাবদ ক্ষতিপূরণের ০.০৬ ন(ছয় শতক) ভূমির ৪২৬৭০০০(বেয়াল্লিশ লক্ষ সাতষট্টি হাজার) টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাহার উল্লাহ মজুমদার মসজিদ কমিটি নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদন ধরে এই কমিটির কোন মিটিং হয়না। মসজিদ কমিটির বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করায় তাঁর উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। প্রাণের ভয়ে তিনি রামগড় থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন।

রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস- চেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক তার বক্তব্যে বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। কোন বিশৃঙ্খলা না করে সকলকে ধৈর্য্য ধরে সুন্দর সমাধানের আহবান জানান।
দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় এমন অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

তিনি উপস্থিত সমাজের সকলকে অনুরোধ করে বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করতে। মসজিদ কমিটির অনেকেই বেঁচে নেয়। এই অবস্থায় নতুন করে মসজিদ কমিটি গঠন ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

এদিকে মসজিদ কমিটির সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা গুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদারে মসজিদের বাইরে পুলিশ এবং বিজিবির সমন্বয়ে যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে মুসল্লীদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মসজিদ কমিটির বিরোধকে কেন্দ্র করে যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি না হয় এজন্য বাড়তি নিরপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম/প্রদীপ

Feb2
Feb2

পানিবন্দী মানুষের দুর্দশা লাঘবে খাবার নিয়ে দুয়ারে ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 11:07 pm
পানিবন্দী মানুষের দুর্দশা লাঘবে খাবার নিয়ে দুয়ারে ডিসি জাহিদ

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া উপজেলায়। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে কার্যালয়ে বসে নির্দেশনা দেওয়ার বদলে দুর্গত মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সঙ্গে ছিল জরুরি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী।

শুক্রবার তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক জানান, দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামছে। কোন উপজেলায় কতটি স্পিডবোট প্রয়োজন এবং কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, টানা প্রায় পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। উদ্ধার হওয়া মানুষের জন্য জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বর্তমানে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে মজুত রয়েছে।

সাতকানিয়ার জন্য ইতিমধ্যে ৯ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একই কার্যক্রম চলছে। সাতকানিয়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও সবাইকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু খাল দখল নয়, খালে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণেও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে ফ্রিজ, জাজিমসহ নানা ধরনের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনিবার সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইস গেট ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে কাজ চলছে।

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:14 pm
চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) আগামীকাল শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:38 pm
দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক দায়িত্ব। জনগণের দুঃসময়ে পাশে থাকা জামায়াতে ইসলামীর নৈতিক অঙ্গীকার এবং সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও আমরা অসহায় মানুষের কল্যাণে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করবে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেক বাজার এলাকায় অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের জন্য সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের আরও বেশি মানুষের সেবা করার তাওফিক দান করেন। আপনারা সে জন্য দোয়া করবেন। জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মানবসেবা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও চান্দগাঁও থানা আমির মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, পাঁচলাইশ থানা আমির রুমি, চকবাজার থানা আমির আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, চান্দগাঁও থানা সেক্রেটারি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জসিম উদ্দিন সরকার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী রইছুর রহমান চৌধুরী তিতু, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল হোসাইন, ওমর গণি, আজাদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছালে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমির আমিরুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতারা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।