খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগড়ে দিনে-দুপুরে পাহাড় ও টপসয়েল কাটছে প্রভাবশালীরা, প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
রামগড়ে দিনে-দুপুরে পাহাড় ও টপসয়েল কাটছে প্রভাবশালীরা, প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : প্রশাসনের পূর্বানুমতি ব্যতিত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে অবাদে পাহাড় ও কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। দিনে-দুপুরে পাহাড় কেটে ও কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে বাড়ি নির্মাণ, রাস্তা সংষ্কার এবং ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করলেও উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। দিনের আলোয় পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও প্রশাসন কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ কর্মীরাও।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষিজমি ও টিলার মাটি কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১২–এর ৬ ধারায়) অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষিজমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদন্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই কাজ দ্বিতীয়বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদন্ড হবে। এ ক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে প্রাণহানী ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি। বিনা বাধায় পাহাড় খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পরিবেশ সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘন করে খাগড়াছড়ির রামগড়েউপজেলার সোনাইআগা, কালাডেবা, খাগড়াবিল, বলিপাড়া, সদুকার্বারী পাড়া, বল্টুরাম টিলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে স্কেভেটর ব্যবহার করে অবাদে পাহাড় ও কৃষি জমির টপসয়েল কেটে ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে পাহাড় খেকোরা। কাটার আগে এসব পাহাড় ও কৃষি জমি স্বল্প দামে ক্রয় করে মাটি কেটে তা চড়া দামে বিক্রি করছে তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার অন্তত ৫-৭টি স্থানে অবাদে এসব পাহাড় ও জমির টপ সয়েল কাটা সিন্ডিকেটে জড়িত আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ছাড়াও একই দলের নির্বাচিত বর্তমান জনপ্রতিনিধি, সাবেক জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত রয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াবিল জুনিয়র হাই স্কুলের পাশের পাহাড়, বল্টুরাম টিলা এনআরডিসি সমিতি ভবনের পাশের পাহাড় ও সোনাইআগাসহ উল্লেখিত স্থানে ‘বুলোডোজার দিয়ে পুরোটা পাহাড়ে উপরিভাগ কয়েকটি লেয়ারে কাটা হয়েছে। পাহাড়ে কোথাও সবুজের চিহ্ন মাত্র নেই। পাহাড়ের কাটা মাটি পড়ে আশপাশের জলাশয়ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক লক্ষ ঘণফুট মাটি কাটা হয়েছে এসব স্থান থেকে। নতুন করে আরো এক লেয়ারে অর্ধেক কাটার কাজ শেষ। এসব মাটি বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়।’এর বাইরে উঁচু কিছু কৃষি জমিকে ফলন উপযোগী করার অজুহাতে স্কেভেটর দিয়ে জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে ট্রাক্টর ও পিক-আপে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপজেলার বেশ কয়েকটি অবৈধ ইটভাটায়। এসব মাটি নিয়ে যেতে দিনে-দুপুরে খাগড়াবিল, কালাডেবা হয়ে সোনাইপুল ও রামগড়ের প্রধান সড়ক ব্যবহার করা হলেও অদৃশ্য কারণে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর প্রায় নিরব। পাশ্ববর্তী গুইমারা, মানিকছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় নিয়মিত পাহাড়খেকো ও ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও দন্ড প্রদান করা হলেও রামগড়ে ঘটছে তার ঠিক উল্টো। গত কয়েকমানে উপজেলার কোথাও দৃশ্যমান অভিযানও পরিচালনা করেনি উপজেলা প্রশাসন।

এছাড়া বিভিন্ন ড্রাম ট্রঠশ ও ট্রাক্টরে নিয়মিত মাটি পরিবহণ করায় খাগড়াছড়িল, কালাডেবাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার গ্রামীন সড়কগুলোতেও ব্যাপক ক্ষতিসাধান হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বিষয়টি নিয়ে অতিষ্ট হলেও প্রভাবশালীদের দাপটের কাছে অসহায়, যার ফলে ভয়ে মুখ খুলতে চাইছে না কেউই।

স্থানীয়রা জানান, ‘কম দামে পাহাড় কেটে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা পাহাড়ে থাকা গাছের গাছপালা কেটে মাটি বিক্রি শুরু করেছে। সকাল থেকেই বুলডোজার দিয়ে এখানে মাটি কাটা হয়। দিনেই পরিবহন করে। ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না। তবে কয়েকজন জানান পাহাড় কাটা ক্ষতি । কিন্তু আমরা কিছু বললে এলাকায় থাকতে পারব না।’

নির্বিচারে পাহাড় ও কৃষি জমির টপ সয়েল কাটায় স্থানীয় এক ব্যক্তি এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে, খাগড়াছড়ির গুইমারা, মাটিরাঙ্গাসহ কয়েকটি উপজেলায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে দন্ড, জরিমানাসহ ভাটা গুড়িয়ে দিচ্ছে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন। অদৃশ্য কোন কারনে রামগড়ের ভাটাগুলো যেন দ্বিগুন শক্তি নিয়ে জ্বলে উঠেছে। এখানে উপজেলা কিংবা জেলা প্রশাসন নিরব, পরিবেশ অধিদপ্তরতো রামগড় চিনেই না। সবচেয়ে বড় কথা হলো রামগড়ে সব ইটভাটার মালিকই কোন না কোন জাতীয় রাজনৈতিক দলের হেডামধারী নেতা। বিএনপির এক নেতা এমনকি বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও এখানে কৃষি জমি ধ্বংস করে ভাটা চালাচ্ছেন, পোড়ানো হচ্ছে বনের চারা গাছ, কাটা হচ্ছে জমির টপ সয়েল, পাহাড়ের মাটি। আর দোহাই দেয়া হচ্ছে উন্নয়নের। আইন যেন প্রভাবশালী এসব নেতাদের পকেটের খুচরো পয়সা।’

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী জানান ‘অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্ষায় পার্বত্য জেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। প্রশাসনিক ভাবে পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দেদারছে পাহাড় কাটা চলছে। অবিলম্বে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড় কাটা সিন্ডিকেটের একজন কাজী সেলিম পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন ‘আমি ঠিকাদির কাজ করি। পাহাড় কাটা আমার কাজ নয়। এছাড়া রামগড় উপজেলার কোথাও আমি পাহাড় বা টপ সয়েল কাটি এটার কেউ প্রমান দিতে পারবে না বলেও জানান তিনি।’

পাহাড় ও টপ সয়েল কাটা চক্রের অন্য আরেক সদস্য ও পৌর আওয়ামীলীগের এক নেতাকে এ বিষয়ে জানতে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. উল্লাহ মারুফকে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি, তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) সজীব কান্তি রুদ্র মুঠোফোনে পাহাড় ও টপ সয়েল কাটার বিষয়টি নিয়ে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান। দিনে-দুপুরে পাহাড় কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, দিনের বেলা পাহাড় কাটার বিষয়ে তার জানা নেই। তিনি আরো বলেন, অভিযান পরিচালনা করতে গেলে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়না।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জানুয়ারি একই চক্র কর্তৃক উপজেলার ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়নের খাগড়াবিল জুনিয়র স্কুলের পাশের একটি পাহাড় কেটে মাটি ড্রাম ট্রাকে লোড করার সময় হঠাৎ পাহাড় থেকে মাটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে সেখানে কর্মরত দুই শ্রমিকের উপর। এসময় জেলার মাটিরাঙ্গার তৈকাতাং হেডম্যান পাড়ার খেরত কুমার ত্রিপুরার ছেলে এতে খগেন্দ্র ত্রিপুরা (৩৫) মাটির নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়ে নিহত হন এবং একই এলাকার হেতেন্ত্র ত্রিপুরার দেহের অর্ধাংশ চাপা পড়ে তিনিও মারাত্নক আহত হন। এরপরও অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়নি সেখানে পাহাড় কাটার মহোৎসব।

২৪ ঘণ্টা/প্রদীপ

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।