খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক লাইভে জনদুর্ভোগের কথা শুনলেন খোরশেদ আলম সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
ফেসবুক লাইভে জনদুর্ভোগের কথা শুনলেন খোরশেদ আলম সুজন

ফেসবুক লাইভে এসে নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা শুনলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) রাত সোয়া ৮টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে এসে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও একটি কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে বর্তমান সময়ে। করোনাভাইরাস নামক একটি অশরীরী বস্তুর সাথে যুদ্ধ করছে সারা বিশ্ব। পৃথিবীর সব প্রাণচাঞ্চল্য ভরা জনবহুল দেশগুলো আজ থমকে দাঁড়িয়েছে।

এ ভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত বাড়িতে থাকার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন করোনাভাইরাসটি এমন একটি ভাইরাস যা মানুষের সংস্পর্শে ছড়ায়। আমরা যদি সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে বাড়িতে থাকি, সচেতন থাকি, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকি, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি তবেই এ ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবো।

ফেসবুক লাইভে নাগরিকগণ জনদুর্ভোগ লাঘবে নাগরিক উদ্যোগের ধারাবাহিক সচেতনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগের কথা শুনতে ফেসবুক লাইভে আসায় জনাব সুজনকে অভিনন্দন জানান।

নাগরিকগণ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সেবা সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে জানান। বিশেষ করে নগরজুড়ে মশার উৎপাত, বিদ্যুতের লোড শেডিং, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, গ্যাসের দুস্প্রাপ্যতা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ভোগান্তি বিষয়ে সুজনকে অবহিত করেন নাগরিকগণ। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪৩ মিনিটের লাইভে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত বাড়িতে থাকার পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে মশার কামড়। সন্ধ্যা হতে না হতেই মশার কামড়ে জনজীবন অস্থির হয়ে পড়েছে। মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা কিংবা গির্জা কোথায় নেই মশা? বিশেষ করে নগরীর নিম্ন আয়ের মানুষজনের আবাসস্থলে মশার উৎপাত লক্ষ্য করার মতো। বিভিন্ন নালা, নর্দমা, খালগুলো ভরাটের ফলে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ থেকে নগরবাসী মুক্তি চায়। তিনি নগরবাসীকে মশার উৎপাত থেকে রক্ষা করার জন্য চসিক মেয়রের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। এছাড়া নগরীর ময়লা আবর্জনাসমূহ দ্রুততার সাথে অপসারণ করারও আহবান জানান তিনি।

তাছাড়া বর্তমান সরকার নির্ধারিত সাধারণ ছুটিতে নগরবাসীর পানি সরবরাহ হঠাৎ করে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় নগরবাসী দিনের পর দিন পানি পাচ্ছেন না যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ফলে নগরবাসীর দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্নক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পানির সরবরাহ ব্যতিরেকে হাত ধোয়া থেকে শুরু করে, গোসলসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একবারেই অসম্ভব। তিনি নগরবাসীর পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ওয়াসার এমডি’র নিকট করজোড়ে অনুরোধ জানান। এছাড়া উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে যেসব এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সেসব এলাকায় ওয়াসার গাড়ির মাধ্যমে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আহবান জানান। এর মধ্যে যদি ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় সেক্ষেত্রে ওয়াসার কার্যালয়ের সামনে একক অনশন কর্মসূচী পালন করবেন বলেও জানান সুজন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন ঘাটতি নেই। এছাড়া বেশীর ভাগ মিল, কারখানা, অফিস আদালত বন্ধ থাকার ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও নেই বললেই চলে। তারপরও লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউনের নামে নগরবাসী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ। ঘনঘন লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউনের ফলে নগরবাসীর অমূল্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রতিনিয়তই নষ্ট হচ্ছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা সরকার বিরোধী চক্র অসন্তোষ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্যও অনুরোধ জানান। এছাড়া বর্তমান ছুটিকালীন সময়ে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে গ্যাসের প্রিপেইড মিটারের মতো পর্যাপ্ত ইমারজেন্সি ব্যালেন্স রাখার জন্যও কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

সুজন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার কারণে গৃহস্থালী কাজে ভোগান্তি হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন। নগরীর যে সব এলাকায় গ্যাসের চাপ অপর্যাপ্ত সেসব এলাকায় গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের এমডি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুরূপ একাডেমিক কার্যক্রম কর্মসূচী রাখার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান। এছাড়া সুস্থ বিনোদনমূলক অনুষ্টানের মাধ্যমে স্বপরিবারে অনুষ্টানমালা উপভোগ করা যায় সেরকম অনুষ্টানমালা পরিবেশন করার আহবান জানান। তিনি অহেতুক সন্দেহের উদ্রেক সৃষ্টি হয় এসব খবর পরিবেশন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যম সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে থাকে। আজ মিডিয়া কিংবা গণমাধ্যমের কল্যাণে পুরো পৃথিবী একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। তাই দেশের গণমাধ্যম গুলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিয়মিত জনগনের কাছে উপস্থাপনের মাধ্যমে এ দুর্যোগ নিরসনে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

সুজন আগামী ৩১শে মার্চ মঙ্গলবার রাত ৮টায় পূণরায় ফেসবুক লাইভে এসে নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা শুনবেন এবং নগরবাসীকে যে কোন ধরণের দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তিতে নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান।

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’