খুঁজুন
, ,

ফেসবুক লাইভে জনদুর্ভোগের কথা শুনলেন খোরশেদ আলম সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 29 March, 2020, 4:16 pm
ফেসবুক লাইভে জনদুর্ভোগের কথা শুনলেন খোরশেদ আলম সুজন

ফেসবুক লাইভে এসে নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা শুনলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) রাত সোয়া ৮টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে এসে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও একটি কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে বর্তমান সময়ে। করোনাভাইরাস নামক একটি অশরীরী বস্তুর সাথে যুদ্ধ করছে সারা বিশ্ব। পৃথিবীর সব প্রাণচাঞ্চল্য ভরা জনবহুল দেশগুলো আজ থমকে দাঁড়িয়েছে।

এ ভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত বাড়িতে থাকার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন করোনাভাইরাসটি এমন একটি ভাইরাস যা মানুষের সংস্পর্শে ছড়ায়। আমরা যদি সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে বাড়িতে থাকি, সচেতন থাকি, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকি, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি তবেই এ ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবো।

ফেসবুক লাইভে নাগরিকগণ জনদুর্ভোগ লাঘবে নাগরিক উদ্যোগের ধারাবাহিক সচেতনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগের কথা শুনতে ফেসবুক লাইভে আসায় জনাব সুজনকে অভিনন্দন জানান।

নাগরিকগণ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সেবা সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে জানান। বিশেষ করে নগরজুড়ে মশার উৎপাত, বিদ্যুতের লোড শেডিং, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, গ্যাসের দুস্প্রাপ্যতা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ভোগান্তি বিষয়ে সুজনকে অবহিত করেন নাগরিকগণ। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪৩ মিনিটের লাইভে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত বাড়িতে থাকার পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে মশার কামড়। সন্ধ্যা হতে না হতেই মশার কামড়ে জনজীবন অস্থির হয়ে পড়েছে। মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা কিংবা গির্জা কোথায় নেই মশা? বিশেষ করে নগরীর নিম্ন আয়ের মানুষজনের আবাসস্থলে মশার উৎপাত লক্ষ্য করার মতো। বিভিন্ন নালা, নর্দমা, খালগুলো ভরাটের ফলে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ থেকে নগরবাসী মুক্তি চায়। তিনি নগরবাসীকে মশার উৎপাত থেকে রক্ষা করার জন্য চসিক মেয়রের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। এছাড়া নগরীর ময়লা আবর্জনাসমূহ দ্রুততার সাথে অপসারণ করারও আহবান জানান তিনি।

তাছাড়া বর্তমান সরকার নির্ধারিত সাধারণ ছুটিতে নগরবাসীর পানি সরবরাহ হঠাৎ করে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় নগরবাসী দিনের পর দিন পানি পাচ্ছেন না যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ফলে নগরবাসীর দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্নক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পানির সরবরাহ ব্যতিরেকে হাত ধোয়া থেকে শুরু করে, গোসলসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একবারেই অসম্ভব। তিনি নগরবাসীর পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ওয়াসার এমডি’র নিকট করজোড়ে অনুরোধ জানান। এছাড়া উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে যেসব এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সেসব এলাকায় ওয়াসার গাড়ির মাধ্যমে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আহবান জানান। এর মধ্যে যদি ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় সেক্ষেত্রে ওয়াসার কার্যালয়ের সামনে একক অনশন কর্মসূচী পালন করবেন বলেও জানান সুজন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন ঘাটতি নেই। এছাড়া বেশীর ভাগ মিল, কারখানা, অফিস আদালত বন্ধ থাকার ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও নেই বললেই চলে। তারপরও লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউনের নামে নগরবাসী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ। ঘনঘন লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউনের ফলে নগরবাসীর অমূল্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রতিনিয়তই নষ্ট হচ্ছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা সরকার বিরোধী চক্র অসন্তোষ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্যও অনুরোধ জানান। এছাড়া বর্তমান ছুটিকালীন সময়ে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে গ্যাসের প্রিপেইড মিটারের মতো পর্যাপ্ত ইমারজেন্সি ব্যালেন্স রাখার জন্যও কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

সুজন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার কারণে গৃহস্থালী কাজে ভোগান্তি হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন। নগরীর যে সব এলাকায় গ্যাসের চাপ অপর্যাপ্ত সেসব এলাকায় গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের এমডি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুরূপ একাডেমিক কার্যক্রম কর্মসূচী রাখার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান। এছাড়া সুস্থ বিনোদনমূলক অনুষ্টানের মাধ্যমে স্বপরিবারে অনুষ্টানমালা উপভোগ করা যায় সেরকম অনুষ্টানমালা পরিবেশন করার আহবান জানান। তিনি অহেতুক সন্দেহের উদ্রেক সৃষ্টি হয় এসব খবর পরিবেশন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যম সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে থাকে। আজ মিডিয়া কিংবা গণমাধ্যমের কল্যাণে পুরো পৃথিবী একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। তাই দেশের গণমাধ্যম গুলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিয়মিত জনগনের কাছে উপস্থাপনের মাধ্যমে এ দুর্যোগ নিরসনে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

সুজন আগামী ৩১শে মার্চ মঙ্গলবার রাত ৮টায় পূণরায় ফেসবুক লাইভে এসে নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা শুনবেন এবং নগরবাসীকে যে কোন ধরণের দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তিতে নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।