খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইপিজেডে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সুজনের কৃতজ্ঞতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
ইপিজেডে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সুজনের কৃতজ্ঞতা

সিইপিজেড এবং কেইপিজেডে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় সুজন বলেন দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধানতম খাত গার্মেন্টস শিল্প তথা সিইপিজেড এবং কেইপিজেডে কর্মরত লাখো শ্রমিক কর্মচারীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার জন্য গত ৯ই জুন সিইপিজেড এবং কেইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপকদ্বয়ের সাথে টেলিফোনে আলোচনা করে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। অনুরোধের প্রেক্ষিতে মহাব্যবস্থাপকদ্বয় উত্থাপিত প্রস্তাবনাসমূহ লিখিত আকারে বেপজা কর্র্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ই জুন ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার সহযোগিতা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এর সাথে টেলিফোনে কথা বলেন সুজন।

তিনি চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা ও দেশের বৃহত্তম রপ্তানি কেন্দ্র সচল এবং নিরাপদ রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

ড. আহমদ কায়কাউস এর সহযোগিতায় বেপজা কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের অনুমতি প্রদান করায় সুজন আজ এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, সিইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপক মোঃ খুরশিদ আলম এবং কেইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপক মসিউদ্দিন বিন মেজবাহসহ সকল কর্মকতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি ইপিজেড কর্তৃপক্ষকে সিটি কর্পোরেশন, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুততার সাথে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে তাদের রোগীসমূহ ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি চট্টগ্রামের কতিপয় চিকিৎসা বেনিয়া সিন্ডিকেটের একটি ভাগাড় মাত্র। শুধুমাত্র বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ রক্ষার জন্য বিদ্যুত ও পানির সংযোগ বিহীন পরিত্যক্ত হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে সিন্ডিকেটটি। পরিশেষে তাদের সে চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এর আগে ঐ হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলার কথা বলে চট্টগ্রামের করোনা চিকিৎসাকে ভূলপথে পরিচালিত করেছে রোগ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটরা। তাদের কারণে অনেকেই বিনা চিকিৎসায় নির্মমভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। অথচ আমরা বার বার দাবী জানিয়েছিলাম ঐ পরিত্যক্ত হাসপাতালটিতে কোনভাবেই করোনা চিকিৎসা সম্ভব নয়। তারপরও অনেকটা গায়ের জোরে ঐ হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে উদ্বোধনের নাটক মঞ্চায়িত করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে আমাদের আশংকা সর্বাগ্রে সত্যি বলে গণ্য হয়েছে। অবহেলা, অনাদর আর অমানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে এ হাসপাতালটি। একটি হাসপাতালের নূণ্যতম সেবাও দিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ময়লা দূর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গিয়ে মৃত্যুর আগেই যেন মৃত্যুপূরীতে প্রবেশ করছে রোগীসাধারণ। চট্টগ্রামের জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে এ ধরণের অবহেলা ও তামাশা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা আরো অভিযোগ পেয়েছি দিনের পর দিন হাসপাতালটি চালু করার জন্য নগরীর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকেও মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেছে ঐ সিন্ডিকেটটি। এরপরও হাসপাতালটি পরিপূর্ণভাবে চালু করতে না পারার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবী করেন তিনি।

তিনি অবিলম্বে ঐ হাসপাতালটি বন্ধ করে যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কোভিড চিকিৎসায় সক্ষম কোন হাসপাতালে স্থানান্তর করে মানুষের জীবন রক্ষায় সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে সবচেয়ে বড়ো সংকট হচ্ছে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা। নমুনা দিয়ে সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ দিন পার হওয়ার পর রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন সংগ্রহ করা নমুনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরীক্ষাবিহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে করে পরীক্ষাগারে নমুনার জট সৃষ্টি হচ্ছে আবার অনেক নমুনা নষ্টও হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নমুনা হারিয়ে যাওয়ার মতো অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে রোগীর কাছ থেকে। চট্টগ্রামে বর্তমানে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মাত্র পাঁচটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে যা চট্টগ্রামের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। সরকার দুইটি বেসরকারি হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন প্রদান করলেও শুধুমাত্র ইমপেরিয়াল হাসপাতাল নমুনা পরীক্ষা করছে। অন্যদিকে শেভরণ হাসপাতাল অনুমতি পাওয়ার দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো নমুনা পরীক্ষা শুরু করতে পারেনি। অথচ বিচ্ছিন্নভাবে নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করা হচ্ছে নগরজুড়ে। এতে করে নমুনা সংগ্রহের অন্যতম উপাদান কিটেরও অপচয় হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামে নমুনাজট আরও বাড়বে বলে শংকা প্রকাশ করেন তিনি।

তাছাড়া নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়ে ফলাফল আসতে দেরী হওয়ার ফলে ঐ রোগী যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার উপসর্গ থাকলেও নমুনা পরীক্ষার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই বাসায় বসে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন এতে করে সংক্রমণের মাত্রা বাড়ার আশংকাও অমূলক নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কাল বিলম্ব না করে অতিসত্ত্বর চট্টগ্রামে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিনীত আহবান জানান তিনি।

বিশেষ করে চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, শিল্পগ্রুপসহ বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের প্রতি তিনি কড়জোড়ে অনুরোধ জানান চট্টগ্রামবাসীর এ দূর্যোগে আপনারা মানবতার হাত প্রসারিত করুন।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শিল্পগ্রুপসহ, বিভিন্ন প্রতিষ্টান এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনা চিকিৎসার জন্য মানবতার হাত প্রসারিত করেছেন সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সামর্থ্যবান অন্যান্য ব্যবসায়ী এবং শিল্পগ্রুপকেও তাদের পদাংক অনুসরণ করার সবিনয় আহবান জানান সুজন।

সুজন বলেন, বিজিএমইএ বাংলাদেশের রপ্তানিমূখী শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী অন্যতম সংগঠন। সরকার দেশের রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ইতিপূর্বে দেশের সকল গার্মেন্টস প্রতিষ্টান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে সকল গার্মেন্টস প্রতিষ্টানকে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্টানে শ্রমিক কর্মচারীদের প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার সময় জীবানুমুক্ত করতে হবে। কাজ করার সময় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। অসুস্থ শ্রমিক কর্মচারীকে প্রতিষ্টানের নিয়ম মাফিক ছুটি প্রদান করতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে তারা বিদেশী ক্রেতার অর্ডার বাতিল হওয়ার অজুহাতে গার্মেন্টস প্রতিষ্টান চালু করলেও হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই শ্রমিক ছাটাইয়ের ঘোষণা দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে চাপে ফেলতে চায়। যে মূহুর্তে দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে ঠিক সে মূহুর্তে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে না ভেবে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়াটা গভীর উদ্বেগের বিষয়। অথচ সরকারের প্রণোদনা ঘোষণার প্রথম কাতারেই ছিল গার্মেন্টস শিল্পপ্রতিষ্টানগুলো। গার্মেন্টস মালিকরা প্রায়শই তাদের অর্ডার নেই, কাজ নেই বলে হা-হুতাশ করলেও দেখা যায় যে তাদের বিত্ত বৈভবের কোন কমতি নেই। তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম বানিয়ে বছরের অধিকাংশ সময় আরাম আয়েশে ব্যয় করলেও শ্রমিকদের স্বার্থের বিষয়ে চিন্তা করার তাদের কোন সময়ই নেই। এমনকি করোনাকালীন এই পরিস্থিতিতেও তাদের আয়ের প্রধাণতম হাতিয়ার শ্রমিক কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে তারা বড়ই উদাসীন।

সুজন দেশের প্রতিটি ইপিজেডসহ গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে বিজিএমইএ’র উদ্যোগে তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব এবং ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের দাবী জানান।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।